Showing posts with label কার্ল সেগান. Show all posts
Showing posts with label কার্ল সেগান. Show all posts

Sunday, January 21, 2018

কার্ল সেগানের “ভুয়া জ্ঞান সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া”


কার্ল সেগানের ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিশেষণ ব্যবহার করা যায়- তিনি ছিলেন মহাবিশ্বের জ্ঞান সম্পন্ন এক ব্যক্তি- এক ক্ষুধার্ত পাঠক- একজন প্রেমিক- সর্বোপরি একজন দার্শনিক। আমাদের যুগের সম্মানিত জ্ঞানানুরাগীদের মধ্যে সেগান ছিলেন অন্যতম- মুক্তচিন্তার পথপ্রদর্শক- স্বচ্ছচিন্তা আর সন্দেহবাদীতার অগ্রনী পুরুষ।
১৯৯৬ সালে তাঁর মৃত্যুর আগে তিনি আমাদের The Demon Haunted World: Science as a Candle in the Dark এর মাধ্যমে আমাদের জনপ্রিয় ছদ্মজ্ঞান আর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রণ কৌশল শিখিয়ে দেন।

02.-onubadokder-adda10

উক্ত বইয়ের The Fine Art of Baloney Detection অধ্যায়ে আমাদের মাঝে প্রচলিত প্রচারণা- ধর্মীয় অপবিজ্ঞান- বিজ্ঞানের অপব্যাখ্যাসহ বিজ্ঞানীদের ব্যবসায়ী প্রবণতা যাকে সেগান বলতেন- “ক্রেতাদের বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রতারণা” আর “বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা দুর্নীতি”।

তবে তাঁর এই শিক্ষা নৈতিকতা আর স্বচ্ছচিন্তার সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে আসেনি- এসেছে তাঁর আবেগী অবস্থান- প্রিয় পিতামাতার প্রয়াণের পর। তিনি আমাদের বলেছেন আবেগের তাড়নায় মৃত্যু পরর্বতী জীবনে বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীনতার কথা- তিনি বলেছেন এতে আমরা বোকা হয়ে যাই না-শুধু আমাদের নিজেকে এসব ভিত্তিহীন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তৈরি রাখা।

বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অপবিজ্ঞান আর মিথ্যাপ্রচারণার বিরুদ্ধে এসব হাতিয়ার ব্যবহার করা শেখেন- সেগান এই হাতিয়ার গুলোকে বলেন- “ছদ্মবিজ্ঞান সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া”।
এই হাতিয়ার কাজে লাগে তখনি যখন নতুন কোনো ধারনা আমাদের সামনে আসে। নতুন সেই ধারনা যদি আমাদের ছদ্মবিজ্ঞানরোধী ব্যবচ্ছেদের পরও বেঁচে থাকে তবে আমরা তাকে স্বাগত জানাবো। আপনি যদি কোন ভুল না করতে চান- অথবা বোকা না বনতে চান- তবে-পরিক্ষীত ভোক্তাবান্ধব এই অস্ত্র ব্যবহার আপনার শিখতে হবে।”

তবে এই প্রক্রিয়া, সেগান বলেন, শুধু বিজ্ঞানের জন্যই মোক্ষম হাতিয়ার না। আপনি চাইলেই দৈনন্দিন জীবনেও এর ব্যবহারের সুফল পাবেন। এই প্রক্রিয়া জানা থাকলে আপনি প্রমাণহীন ভুলধারনা কিংবা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মিথ্যাচার থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেন। সেগানের মতে, এর ৯টি মূলনীতি হচ্ছে-
১) সম্ভবপর হলে সকল “ফ্যাক্টের” স্বাধীনসত্ত্বা থাকতে হবে, কোন “ফ্যাক্ট” অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল হতে পারবে না।

২) প্রাপ্ত প্রমাণের উপর ভিন্ন মতাদর্শের বিষয়গত বিতর্ক হওয়া উচিত।

৩) “কর্তৃপক্ষের মত” কোন মূল্য বহন করে না। “কর্তৃপক্ষরা” অতীতে ভুল মত দিয়েছেন, ভবিষ্যৎেও যে ভুল মত দিতে পারেন না এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। বিজ্ঞানে কোন কর্তৃপক্ষ নেই, বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ আছে।

৪) একের বেশী তত্ত্ব নিয়ে কাজ করুন। ব্যাখ্যাযোগ্য ব্যাপারের একের বেশী ব্যাখ্যা বিবেচনায় রাখুন। কোন কোন পরীক্ষা করে আপনি অন্য ব্যাখ্যাগুলোকে ভুল প্রমাণ করতে পারবেন সেটা ভাবুন। যাই বাঁচে- যে ব্যাখাই এই “ডারউইনিয় নির্বাচনে” টিকে থাকে তার সঠিক হওয়ার সম্ভাব্যনা- পছ্ন্দসই একটা ব্যাখার সঠিক হওয়ার সম্ভাবনার চেয়ে ঢের বেশী।

৫) নিজের তত্ত্ব বলে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন না। জ্ঞানের যাত্রাপথে আপনার তত্ত্ব একটা স্থান মাত্র। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন কেনো আপনার তত্ত্ব আপনার পছন্দ, বিকল্পগুলোর সাথে আপনার তত্ত্বের তুলনা করে দেখুন। দেখুন তত্ত্বটিকে ভুল সাব্যস্ত করার কোন পথ খুঁজে পান কি না, আপনি না পেলেও অন্যরা ঠিকই পাবে।

৬) হিসাব যোগ করুন। আপনি যা ব্যাখ্যা করতে চান সেটা ব্যাখ্যা করা সহজ হবে যদি আপনি সেটাকে গানিতিকভাবে মাপতে পারেন। বিকল্পগুলোর মাঝে সবচেয়ে ভালোটার দিকে ইঙ্গিত করতে এটা আপনাকে সাহায্য করবে। অবশ্যই এমন ব্যাপার আসবে যেখানে সংখ্যার চেয়ে গুনগতমান বিবেচনা করতে হতে পারে- কিন্তু সে ব্যাপারগুলো খুঁজে বের করা কঠিন হবে।

 ৭) যদি ধারণা/তত্ত্বটি দুই বা ততোধিক বিবেচ্য নির্ভর হয় তবে প্রত্যেকটি বিবেচ্য ব্যাখ্যাযোগ্য হতে হবে- অধিকাংশ বিবেচ্য ব্যাখ্যাযোগ্য হলেই চলবে না।

 ৮) অকাম’স রেজর। দুইটি  সমান কার্যকরী ব্যাখ্যার মধ্যে সহজতর ব্যাখ্যা যা আরো প্রশ্নের জন্ম দেয় না, সেটাই গ্রহণযোগ্য হবে।

 ৯) নিদেনপক্ষে, তাত্ত্বিকভাবে, আপনার তত্ত্ব বিকৃত করা যায় কি না প্রশ্ন করুন। যে ধারণা ভুল প্রমাণ করা যায় না, বিকৃত করা যায় না, সেই তত্ত্বের মূল্য কম। ধরুন-  দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সবকিছু প্রাথমিক কণা- ইলেকট্রনের তৈরী-  যদি বিরাট কসমসের ক্ষেত্রে এ ধারণা ব্যক্ত করা হয়? আমরা যদি দৃশ্যমণ মহাবিশ্বের বাইরেই না যেতে পারি তবে এই ধারণা কি ভুল প্রমাণের অযোগ্য না? সংশয়বাদীরা যেন পরীক্ষা করার সুযোগ পায়- আপনার মত একই ফলাফল পায়- এমন ব্যাখ্যা সৃষ্টি করুন।

এই কৌশলগুলো রপ্ত করার পাশাপাশি পূর্ববর্তী “জ্ঞান”  দিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করার প্রবণতা বাদ দেয়ার কথাও সেগান বলেছেন। সেগান আমাদের মনে করিয়ে দেন ঠিক কোথায় আমরা এই কান্ডজ্ঞান বহির্ভূত কাজগুলোর প্রতি ঝুকে পড়ি।
“যে কোনো ছদ্মজ্ঞান সনাক্তকারী প্রক্রিয়া আমাদের কি করতে হবে শেখানোর পাশাপাশি কি করা যাবেনা সেটাও শেখায়। এটা আমাদের যুক্তি আর বাগ্মীতার দুই সর্বোচ্চ প্রচলিত ভ্রমের শিক্ষা দেয়- এর ভালো উদাহরণ পাওয়া যায় ধর্মীয় আর রাজনৈতিক পরিমন্ডলে, কারণ এদের পালনকারীরা প্রায়শই দুইটা পরস্পরবিরোধী মতামতকে ন্যায়সঙ্গত করতে চেষ্টা করে।” 

তিনি এরকম ২০টি বহুল প্রচলিত আর বিপজ্জনক মতামত যা আমাদের মাঝে বেঁচে থাকে সেগুলো উদাহরণসহ বর্ণনা করেছেন-
১) ad hominem “ব্যক্তিকে” এর ল্যাটিন প্রতিশব্দ। বক্তৃতাকে না আক্রমণ করে বক্তাকে আক্রমণ করা।

যেমন-রেভারেন্ড ডাঃ স্মিথ একজন বাইবেল বিশেষজ্ঞ, বিবর্তনতত্ত্ব বিষয়ে তাঁর মতামত আমলে নেয়ার কোন কারণ নাই।

২) argument from authority-

যেমন-রিচার্ড নিক্সনকে পুনর্নির্বাচন করা হয়েছে কারণ দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ করার ব্যাপারে তাঁর গোপন পরিকল্পনা ছিল। যেহেতু সেটা গোপন পরিকল্পনা, তাই এর উপকারিতা বিচারের কোন পথ নাই।

তাঁর রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তাঁকে বিশ্বাস করার সিদ্ধান্তটা পরে ভুল হিসেবে প্রকাশ পায়।

৩) argument from adverse consequences-

যেমন-  শাস্তি এবং পুরস্কার প্রদানকারী ঈশ্বর অবশ্যই আছে- তা না হলে  সমাজে অনৈতিকতা আরো বেড়ে যেত।

অথবা,

বহুল জনপ্রিয় হত্যামামলায় অভিযুক্তরা দোষী হোক বা নির্দোষ হোক, তাদের দোষী সাব্যস্ত করতেই হবে- তা না হলে মানুষ তাদের স্ত্রীদের হত্যা করার উৎসাহ পাবে।

৪) Appeal to ignorance- অসত্য প্রমাণ করা হয় নি, বিধায় কোনোকিছুকে সত্য ধরে নেয়া।

যেমন-  UFO আসে না এর কোন প্রমাণ না থাকা প্রমাণ করে UFO আছে। আর মহাবিশ্বে অন্য বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রাণী আছে।

অথবা,

মহাবিশ্বে যদিও ৭০ “ক্যাজিলিয়ন” গ্রহ আছে, তবুও যেহেতু অন্য কোনো সভ্যতার প্রমাণ নাই সেহেতু আমরাই মহাবিশ্বের কেন্দ্রীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রাণী।

আমাদের অস্থিরতা থেকে আমরা প্রমাণ না থাকাকে না থাকার প্রমাণ ধরে নিয়েছি।

৫) special pleading প্রায়শই একটা গভীর বাগ্মী বিপদ থেকে বাঁচায়।

যেমন-কিভাবে পিতা-পুত্র এবং পবিত্র আত্মা তিনটি জিনিস কিভাবে এক ব্যক্তি হতে পারেন?

Special Pleading- তুমি Trinity এর ঐশ্বরিক রহস্য বোঝো নি।

অথবা

পরম দয়ালু সবজান্তা ঈশ্বর কেন একজন নারীর (ঈভ) অবাধ্যতার শাস্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেন?

Special Pleading- তুমি স্বাধীনচিন্তার বিষয়টি বোঝো নি।

৬) begging the question উত্তর অনুমান করে নেয়াও বলা হয় একে।

যেমন-সহিংস অপরাধ কমাতে মৃত্যুদন্ড চালু করতে হবে।

সেটা করলে যে সহিংস অপরাধ কমে যাবে সে উত্তর অনুমান করে নেয়া হয়েছে।

৭) Observational Selection পছন্দসই ফলাফলকে উপস্থাপন করা। দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকনের ভাষায়-  “রাষ্ট্র সবসময় উৎপাদিত রাষ্ট্রপতিতের ব্যাপারে গর্ব করে-  উৎপাদিত খুনিদের ব্যাপারে রাষ্ট্র কথা বলে না।

৮) Statistics of small numbers- Observational Selection এর মত-

যেমন-  প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে গড়ে একজন মানুষ চাইনিজ হয়।  সেটা কিভাবে সম্ভব-  আমি শত শত লোককে চিনি, তাদের কেউই চাইনিজ নন।

৯) Misunderstanding the nature of statistics-

যেমন-  অর্ধেক আমেরিকানদের বুদ্ধিমত্তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম- এই পরিসংখ্যানে রাষ্ট্রপতি আইজেনহাওয়্যারের বিস্ময় প্রকাশ করা।

১০) Inconsistency

যেমন- মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ কাল অসীম হওয়ার সম্ভাব্যতাকে মেনে নেয়া তবে অসীম অতীত কালের সম্ভাব্যতাকে অযৌক্তিক মনে করা।

১১) Non sequitur- “it doesn’t follow” এর ল্যাটিন পরিভাষা।

যেমন-  আমাদের দেশই উন্নত হবে কারণ মহান ঈশ্বর আমাদের পক্ষে, অথচ সকল দেশই এটা ভাবে। (যারা non sequitur এ পড়েন তারা সাধারণত বিকল্প সম্ভাবনাগুলোর ব্যাপারে অবগত থাকেন না।)

১২) post hoc, ergo propter hoc- ‘ক’  ঘটনা ‘খ’  ঘটনার আগে ঘটেছে সুতরাং ‘খ’  ঘটনার কারণ ‘ক’  ঘটনা।

যেমন-  জ্যামি কার্ডিনাল সিন, ম্যানিলার আর্চ বিশপ বলেন-  “আমার পরিচিত এক ২৬ বছর বয়স্কা আছেন যাকে দেখতে  ৬০ বয়স্কা মনে হয়- কারণ তিনি জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি সেবন করেন।

অথবা,

নারীরা ভোটাধিকার পাওয়ার আগে পারমানবিক অস্ত্র ছিল না।

১৩) meaningless question-

যেমন- যদি অপ্রতিরোধ্য কোন শক্তি অনড় কোন বস্তুকে আঘাত করে তবে কি ঘটবে?

(যদি অপ্রতিরোধ্য কোন শক্তি থেকে থাকে তবে অনড় কোন বস্তু থাকতে পারবে না, এবং উল্টোটাও একইভাবে সম্ভাব্য।)

১৪) Excluded middle or False Dichotomy – আলোচ্য বিষয়কে দুটোমাত্র সম্ভাব্যতায় আবদ্ধ করা।

যেমন- হয় তুমি তোমার দেশকে ভালোবাসো, আর না হয় ঘৃণা করো। *

অথবা,

হয় তুমি সমাধানের অংশ না হয় তুমি সমস্যার অংশ।

১৫) Short term vs Long term- excluded middle এর গুরুত্বপূর্ণ উপপর্যায়-  এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এটাকে আলদাভাবে বিশ্লেষণ করতে হচ্ছে।

যেমন-  অপুষ্টি আর শিক্ষাহীনতায় ভোগা শিশুদের চেয়ে তৃনমূল থেকে অপরাধ মোকাবেলা করা আমাদের বাজেটবান্ধব হবে।

অথবা,

আমাদের বাজেটের ঘাটতি বিবেচনা করে মহাশূন্য গবেষণা আর মৌলিক বিজ্ঞানের চর্চা করাটা মূখ্য মনে হয় না।

১৬) Slippery slope –  excluded middle এর সাথে সম্পর্কিত।

যেমন-  যদি প্রথম সপ্তাহে ভ্রূনের গর্ভপাত করা হয় তবে পূর্ণবয়স্ক অভূমিষ্ঠ শিশুহত্যা রোধ করা যাবে না।

অথবা,

যদি নবম মাসেও আমাদের গর্ভপাত করতে না দেয়া হয় তবে কিছুদিন পর আমাদের অন্তঃস্বত্তা হওয়াকালীন দৈহিক ব্যবহারও সরকার বলে দিবে।

১৭) Confusing correlation and causation-

যেমন-  এক সমীক্ষা বলে সমকামিদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতদের আধিক্য আছে আর অল্প শিক্ষিতদের মাঝে সমকামিদের সংখ্যা কম- সুতরাং উচ্চশিক্ষা সমকামিতার কারণ।

১৮) Straw man বা বক্তব্যের মনগড়া ব্যাখা দিয়ে আক্রমন সহজ করা।

যেমন- বিজ্ঞানীরা মনে করেন সবকিছু দৈবাৎ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটা ডারউইনিও নীতি মেনে সম্ভব না, কারণ সেটা বলে  প্রকৃতি কর্মক্ষম সবকিছুকে টিকিয়ে রাখে আর অকর্মণ্য সবকিছুকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দেয়।

অথবা,

এটাকে short term vs long term হেত্বাভ্যাসও বলা যায়-  পরিবেশবাদীরা মানুষের চেয়ে পেঁচা আর শামুকের প্রতি বেশী সহানুভূতিশীল।

১৯) Suppressed evidence or half truths

যেমন-  রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগানকে হত্যা করার পর টেলিভিশনে এক ব্যক্তির চমকপ্রদ ভবিষ্যৎবানী প্রচারিত হয় যা বলে রেগানকে কিভাবে হত্যা করা হবে।

(তবে চিত্রায়ণের তারিখ ছাড়া সকল তথ্যই সঠিকভাবে বলা হয়েছিল। )

অথবা,

সরকারের শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে হবে-  ডিম না ভেঙ্গে অমলেট বানানো যায় না।

(হ্যাঁ, তবে এই বিদ্রোহ কি সবার জন্য ভাল হবে? এটা কি সরকারী শোষণের তুলনায় কম রক্তক্ষয়ী হবে? অভিজ্ঞতা থেকা পাওয়া জ্ঞান কি তার সায় দেয়?)

২০) Weasel words

যেমন-  আমেরিকার সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের কাছে ন্যস্ত, যাতে রাষ্ট্রপতিরা যুদ্ধ শুরু না করতে পারেন। তবে পররাষ্ট্রনীতি আর যুদ্ধনীতি রাষ্ট্রপতির মর্জি নির্ভর হয়। রাষ্ট্রপতিরা দেশপ্রেমের আড়ালে ভিন্ননামে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন- যেমন-  “পুলিশী কর্মকান্ড”, “অস্ত্রসজ্জিত আকস্মিক আক্রমন”, “রক্ষণশীল প্রতিক্রিয়ায় আক্রমন”, “শান্তকরন”, “আমেরিকার স্বার্থরক্ষা”। যুদ্ধের এসব প্রতিশব্দ ব্যবহার করা রাজনৈতিক কারণে ভাষাকে ব্যবহার করার নজীর । Talleyrand বলেন-  “রাজনীতিবিদদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা কলা হচ্ছে নতুন নামে পুরোনো এবং জনস্বার্থবিরোধী কাজ করার পথ খুঁজে নেয়া।”

সেগান একটা সতর্কবাণী দিয়ে অধ্যায়টি শেষ করেন-
 “সব অস্ত্রের মত এই ছদ্মজ্ঞান সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ারও অপব্যবহার আছে- প্রাসঙ্গিকতার বাইরে ব্যবহার করা-  অথবা চিন্তা করার বিকল্প হিসেবেও একে ব্যবহার করা যায়। নিজের মত অন্যকে জানানোর আগে নিজে যাচাই করে নেয়া ছাড়াও বিজ্ঞ ব্যবহারে এই প্রক্রিয়া পৃথিবী বদলে দেয়ার ক্ষমতাও রাখে।” 

The Demon Haunted World বইটি একটি কালজয়ী রচনা। এর বিষয়বস্তু যেন এই ছদ্মবিজ্ঞান আর অপপ্রচারের যুগের জন্যই সেগান লিখে গিয়েছিলেন।

উৎস ঃ http://onubadokderadda.com/baloney_detection/

Thursday, December 21, 2017

বিলিওন এবং বিলিওন


আমি এই কথা কখনো বলিনি। সত্যি বলছি। ও আচ্ছা, আমি বলেছিলাম সেখানে হয়তো ১০০ বিলিওন গ্যালাক্সী এবং ১০ বিলিওন ট্রিলিওন নক্ষত্র আছে। আসলে কোনো বড় সংখ্যা ব্যবহার ব্যতীত মহাশূন্য নিয়ে কথা বলা খুবই কঠিন। আমি ‘কসমস’ টিভি সিরিজে “বিলিওন” কথাটা বহুবার বলেছি, যেটা বহু মানুষ দেখেছিলো। কিন্তু আমি কখনোই বলিনি “বিলিওন এবং বিলিওন”। এর একটা কারণ হচ্ছে, এটা খুবই অস্পষ্ট। কত বিলিওনে আসলে “বিলিওন এবং বিলিওন” হয়? অল্প কিছু বিলিওনে? বিশ বিলিওনে? একশ বিলিওনে? “বিলিওন এবং বিলিওন” আসলে খুবই ভাসাভাসা। যখন আমরা সিরিজটাকে পুনর্বিন্যস্ত এবং আরো উন্নত করে সাজিয়েছিলাম, আমি তখনো যাচাই করে দেখেছি- এবং আমি নিশ্চিত, আমি এটা কখনো বলিনি।

কিন্তু জনি কারসন- যার ‘টুনাইট শো’ তে আমাকে এতগুলো বছরে প্রায় ত্রিশবারের মত উপস্থাপন করা হয়েছে – সে বলেছে। সে একটা মোটা কাপড়ের জ্যাকেট, একটা গলাবদ্ধ সোয়েটার এবং ঘর মোছার ন্যাকড়ার মত কিছু একটা মাথায় পরচুলা হিসেবে পরে উপস্থিত হতো। সে প্রায় আমার কাছাকাছি ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলো, অনেকটা প্রতিমূর্তির মত! সে মধ্যরাতের টিভি অনুষ্ঠানে অনবরত বলে বেড়াতো “বিলিওন এবং বিলিওন”। আমি একটু বিরক্তই হচ্ছিলাম যে আমার ব্যক্তিছবির একটা প্রতিমূর্তি নিজে নিজে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর এমন সব কথা বলছে যেগুলো পরদিন সকালে আমার বন্ধু এবং সহকর্মীরা আমার কাছে এসে রিপোর্ট করছে। (ছদ্মবেশ ধারণ সত্ত্বেও, কারসন- একজন একনিষ্ঠ শিক্ষানবীশ জ্যোতির্বিদ- প্রায়ই আমার অনুকরণে বলা কথাগুলোকে সত্যিকারের বিজ্ঞান বানিয়ে ছাড়তো।) বিস্ময়করভাবে, “বিলিওন এবং বিলিওন” প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেলো। মানুষেরা কথাটাকে পছন্দ করে ফেললো। এমনকি আজও আমাকে রাস্তায় কিংবা বিমানে কিংবা পার্টিতে দাঁড় করানো হয় আর জিজ্ঞেস করা হয়, একটু বিনয়ের সাথেই, যে আমি কি- শুধু তাদের জন্যেই- একবার শুধু “বিলিওন এবং বিলিওন” শব্দটা বলতে পারবো কিনা।
“আসলে, আমি এই কথাটা কখনো বলিনি”, আমি জবাবে তাদের বলি।
“আরে ব্যাপার না”, তারা প্রত্যুত্তরে বলেন। “তবুও বলুন একবার শুনি”।

আমাকে বলা হয়েছিলো শার্লক হোমস নাকি কখনোই বলেনি, “এতো অতি সাধারণ ব্যাপার, প্রিয় ওয়াটসন” (অন্তত আর্থার কোনান ডয়েলের বইগুলোতে); জিমি ক্যাগনে কখনো বলেনি, “হতচ্ছাড়া ধাড়ি ইঁদুর কোথাকার”; এবং হামফ্রে বোগার্ট কখনো বলেনি, “আরেকবার বাজাও, স্যাম”। কিন্তু তারা হয়তো এগুলো বলেছেও, কারণ এই প্রশ্নসাপেক্ষ বস্তুগুলোই তাদেরকে জনপ্রিয় শিল্পগুলোতে সুকৌশলে প্রতিষ্ঠা পাইয়ে দিয়েছে।

কম্পিউটার ম্যাগাজিন (“যেমনটা কার্ল সেগান বলে থাকেন, এর জন্যে প্রয়োজন বিলিওন বিলিওন বাইট”), অর্থনীতি বিষয়ক পত্রিকা, খেলোয়াড়দের বেতনবিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতে এখনো আমার নাম উল্লেখ করে বলা হয় আমি নাকি এই সহজ-সরল কথাটা উচ্চারণ করেছি। একটা সময়, ছেলেমানুষি করে জিজ্ঞেস করা হলেও, আমি এই কথাটা উচ্চারণ করতাম না। কিন্তু আমি এখন সেই জড়তাটা কাটিয়ে উঠেছি। তাই, সেটার প্রমাণ হিসেবেই, এখানে একবার বলা হয়ে যাকঃ

“বিলিওন এবং বিলিওন”

কোন ব্যাপারটা আসলে “বিলিওন এবং বিলিওন” কথাটাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে? এক কালে তো অগণিত সংখ্যক কিছু বুঝাতে বিকল্প হিসেবে “মিলিওন” শব্দটা ব্যবহৃত হতো। ফাটাফাটি ধনীরা ছিলো মিলিওনেয়ার। যীশুর সময়ে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো ২৫০ মিলিওন। ১৭৮৭ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় আমেরিকানদের সংখ্যা ছিলো ৪ মিলিওন; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে জনসংখ্যা ছিলো ১৩২ মিলিওন। পৃথিবী হতে সূর্যের দূরত্ব ৯৩ মিলিওন মাইল (১৫০ মিলিওন কিলোমিটার)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ৪০ মিলিওন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিলো; যেটা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬০ মিলিওন। ৩১.৭ মিলিওন সেকেন্ডে এক বছর (খুব সহজেই যাচাই করে নেয়া যায়)। ১৯৮০’র শেষে সারাবিশ্বে মজুদকৃত পারমাণবিক অস্ত্রসমূহের সম্মিলিত বিস্ফোরণ ক্ষমতা ১ মিলিওন হিরোশিমাকে ধ্বংসের জন্যে যথেষ্ট। বহু উদ্দেশ্য সাধনে এবং বহুসময় ধরে “মিলিওন” ছিলো বিশাল বড় সংখ্যার সার্থক উদাহরণ।

কিন্তু সময় বদলে গেছে। এখন পৃথিবীতে মিলিওনেয়ারদের সংখ্যাও আর বেঁধে রাখা যাচ্ছে না- এবং এর কারণ শুধু মুদ্রাস্ফীতি নয়। পৃথিবীর বয়স মোটামুটি ৪.৬ বিলিওন বছর হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। এর জনসংখ্যা এখন ৬ বিলিওন ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা জন্মদিন নির্দেশ করে সূর্যের চারপাশে বিলিওন কিলোমিটার পথ আবর্তনের (ভয়েজার মহাশূন্যযান যত দ্রুত পৃথিবী হতে দূরে সরে যাচ্ছে, পৃথিবী তার চেয়েও দ্রুতগতিতে সূর্যকে পরিক্রমণ করে চলছে)। চারটা বি-২ বোমারু বিমানের মূল্য হচ্ছে বহু বিলিওন ডলার (কেউ কেউ বলেন ২ এমনকি ৪ বিলিওন পর্যন্ত)। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বাজেট হচ্ছে, যখন গোপন ব্যয়গুলোও হিসেবে ধরা হয়, বছরে ৩০০ বিলিওন ডলারেরও বেশি। আমেরিকা এবং রাশিয়ায় কোনক্রমে যুদ্ধ বেঁধে গেলে প্রাণহানি ঘটবে প্রায় এক বিলিওন মানুষের। সামান্য ইঞ্চি পরিমাণ দূরত্বে প্রায় এক বিলিওন অণু অবস্থান করে। আর এর বাইরে বিলিওন সংখ্যক সেই নীহারিকা এবং নক্ষত্রগুলোতো আছেই।

১৯৮০ সালে, যখন কসমস টিভি সিরিজ প্রথম প্রদর্শিত হয়েছিলো, মানুষ বিলিওন এর জন্যে প্রস্তুত ছিলো। গুটিকয় মিলিওন হয়ে পড়েছিলো নগণ্য, কেতাদুরস্তহীন, তুচ্ছ। প্রকৃতপক্ষে, এই দুটো শব্দই উচ্চারণে এমন কাছাকাছি যে তাদের আলাদা করে বোঝাতে আপনাকে খুব সতর্ক হতে হয়। এই কারণেই, কসমসে, আমি “বিলিওন” কথাটা বলেছিলাম “বি” এর স্পৃষ্ট উচ্চারণের মাধ্যমে, যেটাকে অনেক মানুষই ব্যক্তিভেদে আলাদা আলাদা উচ্চারণরীতি হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। এর বিকল্প হিসেবে, যেমনটা টিভি বক্তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বলা হয়, “এটা হচ্ছে বিলিওন যার শুরুর অক্ষর হচ্ছে বি”- তুলনামূলকভাবে অধিক ঝামেলাপূর্ণ।

একটা কৌতুক প্রচলিত আছে যেখানে এক প্লানেটারিয়াম বক্তা তার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলছিলেন যে ৫ বিলিওন বছরের মধ্যে সূর্য ফুলে-ফেঁপে উঠে রেড জায়ান্ট হয়ে উঠবে, বুধ এবং শুক্রকে গিলে খাবে আর সেইসাথে সম্ভবত পৃথিবীটাকেও। এরপরেই এক উদ্বিগ্ন শ্রোতা তাকে থামিয়ে প্রশ্ন করলেনঃ
“দুঃখিত ডক্টর, কিন্তু আপনি কি বলেছেন যে সূর্য ৫ বিলিওন বছরের মধ্যে পৃথিবীকে পুড়িয়ে ছাই করে দিবে?”
“হ্যাঁ, এর বেশি বা কমও হতে পারে”।
“সব ঈশ্বরের দয়া! এক মূহুর্তের জন্যে আমি ভেবেছিলাম আপনি বলেছেন ৫ মিলিওন”।

এটা ৫ মিলিওন কিংবা ৫ বিলিওন যাই হোক না কেন, আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে এর খুব সামান্য প্রভাবই আছে, তা পৃথিবীর পরিণতি যতই চমকপ্রদ হোক না কেন। কিন্তু মিলিওন এবং বিলিওনের পার্থক্য নিরুপণ জাতীয় বাজেট, বৈশ্বিক জনসংখ্যা এবং পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করার জন্যে অতীব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও “বিলিওন এবং বিলিওন” এর জনপ্রিয়তা এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, কিন্তু এই সংখ্যাটাও ধীরে ধীরে নগণ্য, সংকীর্ণ দৃষ্টির এবং উহ্য হয়ে পড়ছে। এর থেকেও কেতাদুরস্ত সংখ্যাটাকে এখন দিগন্তে কিংবা আরও কাছাকাছি দেখা যাচ্ছে। ট্রিলিওন এখন আমাদের উপর প্রায় উপনীত।

উৎস ঃ http://onubadokderadda.com/billions_and_billions_01/

Tuesday, November 21, 2017

কার্ল সেগানের বিখ্যাত Pale Blue Dot স্পিচের অনুবাদ


১৯৯০ সাল, ১৪ই ফেব্রুয়ারি। ততদিনে কার্ল সেগান একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। ভয়েজার-১ যখন আমাদের সৌরজগত ছেড়ে আরো বাইরে চলে যাচ্ছিলো, তখন সেগান নাসাকে অনুরোধ করলেন, যাতে যাওয়ার আগে পৃথিবীর একটা ছবি তোলা হয় ঐ দূরত্ব থেকে। বিশাল সেই দূরত্ব থেকে ভয়েজার-১ এর তোলা পৃথিবীর ঐ ছবি দেখে Carl Sagan এটার নাম দিয়েছিলেন Pale Blue Dot

pale-blue-dot-wallpaper-1900x1200

মলিন নীল বিন্দু

এই সুবিশাল দূরত্ব থেকে, পৃথিবীকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হওয়ার কথা না। কিন্তু আমাদের জন্য ব্যাপারটা একটু ভিন্ন।

বিন্দুটির দিকে আরেকবার তাকান – এটাই পৃথিবী, আমাদের বসত, আমরা এটাই। এখানেই ওরা সবাই, যাদের আমরা ভালোবেসেছি, যতজনকে আমরা চিনি। যাদের যাদের কথা আমরা শুনেছি, তাদের সবাই এখানেই তাদের জীবন কাটিয়েছে। আমাদের সারা জীবনের যত দুঃখ কষ্ট, হাজার হাজার ধর্ম, আদর্শ আর অর্থনৈতিক মতবাদ, যত শিকারী আর লুণ্ঠনকারী, যত সাহসী-ভীরু, সভ্যতার নির্মাতা-ধ্বংসকারী,যত রাজা আর প্রজা, যত প্রেমিক-প্রেমিকা, যত বাবা মা, স্বপ্নে বিভোর শিশু, আবিষ্কারক, পরিব্রাজক, যত নীতিবান শিক্ষক, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, যত সুপারস্টার, যত জাঁহাবাজ নেতা, মানব ইতিহাসের সকল সাধু আর পাপী, সবাই তাদের জীবন কাটিয়েছে আলোয় ভেসে থাকা ধূলোর ঐ ছোট্টো কণাটিতে।

অসীম এই মহাবিশ্বে…… খুব ছোট একটা মঞ্চ…… আমাদের এই পৃথিবীটা।

ভাবুন তো, সেনাপতি আর দিগ্বিজয়ী বীরের দল কত রক্ত ঝরিয়েছে – ক্ষুদ্র এই বিন্দুর ক্ষুদ্র একটা অংশ জয় করে, মহান হবার আশায়। ভাবুন তো, সেই সীমাহীন হিংস্রতার কথা; ছোট্টো এই বিন্দুর আরো ছোটো এক প্রান্তের মানুষ যা ঘটিয়েছে, অন্য প্রান্ত জয় করবে বলে।

কী দ্বন্দ্ব তাদের নিজেদের মাঝে! রক্তের জন্য তাদের কী পিপাসা! কী প্রকট তাদের জিঘাংসা! আমাদের নাক-উঁচু ভাব, আমাদের কাল্পনিক অহমিকা, ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে আমরাই সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছি, সেই বিভ্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয় এই ঝাপসা নীল আলো দিয়ে।

আমাদের এই গ্রহ, মহাজাগতিক অন্ধকারের মধ্যে নিতান্তই ক্ষুদ্র একটা বিন্দু। আমাদের অজ্ঞানতায়, এই বিশালতায়, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যে কেউ আসবে, আমাদেরকে নিজেদের হাত থেকে রক্ষা করতে।

আমাদের জানামতে পৃথিবীই একমাত্র বাসযোগ্য গ্রহ। অন্য কোথাও, অন্তত নিকট ভবিষ্যতে, আমাদের প্রজাতি আস্তানা গাড়তে পারবে না।

ভ্রমণ? সম্ভব।

বসতি, এখনো নয়।

ভাল লাগুক আর নাই লাগুক, এই মুহূর্তে পৃথিবীই আমাদের একমাত্র আশ্রয়।

বলা হয়ে থাকে জ্যোতির্বিজ্ঞান আমাদের বিনয়ী করে তোলে, চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। মানুষের অহংকারকে ধূলিস্যাৎ করার জন্য দূর থেকে তোলা ছোট্টো পৃথিবীর এই ছবিটার চেয়ে ভালো উদাহরণ আর হয় না। আমার মতে, এটা মনে করিয়ে দেয়, কতটা জরুরি পরস্পরের প্রতি আরেকটু সহানুভুতিশীল হওয়া; এই ছোট্টো নীল বিন্দুটাকে, আমাদের একমাত্র বসতটাকে, সংরক্ষণ করা, উপভোগ করা।

উৎস ঃ http://onubadokderadda.com/pale-blue-dot-speech/

Thursday, September 21, 2017

কেন কার্ল সেগান সত্যিই অতুলনীয়



আমরা বাস করি সেগানের মহাবিশ্বে- শ্রদ্ধায় মাথা নত করে দেয়া অনন্য বিশাল মহাবিশ্বে। এই মহাবিশ্ব, যা সেগান বারবার বলতেন, আমাদের উদ্দেশ্যে তৈরি নয়। আমরা এর ক্ষুদ্রতর উপাদান। আমাদের উপস্থিতি ক্ষণস্থায়ী- আঁধারের মহাসাগরে আলোর ক্ষণিক ঝলকের মত। অথবা হয়তো আমরা এখানে টিকে থাকতেই এসেছি; আমাদের কুপ্রবৃত্তি এবং প্রাচীন ঘৃণার উর্ধে উঠে হয়তো একদিন ছায়াপথে বিচরণকারী প্রজাতিতে পরিণত হতে পারবো। হয়তো একদিন আমরা অন্যদেরও পেয়ে যেতে পারি। হয়তো মিলিত হতে পারি দূরের অতি উন্নত সভ্যতার কারো সাথে- সেগান যেভাবে হয়তো বলতেন, প্রাচীন কারো সাথে।

Wednesday, June 21, 2017

চারটি মহাজাগতিক প্রশ্ন – কার্ল সেগান (Billions and Billions এর একটি অধ্যায়)



যখন ওপরে কোনো স্বর্গের নামাঙ্কিত হয়নি,
নিম্নের শক্ত ভূমিকেও ডাকা হতো না কোনো নামে,
নলখাগড়ার কোনো কুঁড়েঘর যখন আচ্ছাদিত হয়নি,
যখন কোন ঈশ্বরও আসেননি স্বমূর্তিতে,
নাম দ্বারা অনুল্লেখিত, অনিশ্চিত তাদের গন্তব্য-
তখনই যা অস্তিত্বে এসেছিলো তারাই ঈশ্বর……

– Enuma elish, ব্যাবিলনীয় সৃষ্টি-পুরাণ (খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের শেষে)*

* “Enuma elish” হচ্ছে সব পুরাণের প্রথম শব্দ গুচ্ছ, অনেকটা বুক অব জেনেসিসে যেমন বলা হয়েছে “In the Beginning”- যেটা আবার গ্রীক শব্দ “genesis” এর কাছাকাছি অর্থ।