Showing posts with label সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ. Show all posts
Showing posts with label সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ. Show all posts

Sunday, July 2, 2017

নয়নচারা ( সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ)



ঘনায়মান কালো রাতে জনশুন্য প্রশস্ত রাস্তাটাকে ময়ুরাক্ষী নদী বলে কল্পনা করতে বেশ লাগে। কিন্তু মনের চরে যখন ঘুমের বন্যা আসে, তখন মনে হয় ওটা সত্যি ময়ুরাক্ষী -রাতের নিস্তব্ধতায় তার কালো স্রোত কল কল করে, দুরে আঁধারে ঢাকা তীররেখা নজরে পড়ে একটু-একটু, মধ্যজলে ভাসন্ত জেলে ডিঙ্গিগুলোর বিন্দু-বিন্দু লালচে আলো ঘন আঁধারেও সর্বংসহা আশার মতো মৃদু মৃদু জ্বলে।


তবে ঘুমের স্রোত সরে গেলে মনের চর শুস্কতায় হাসে ঃ ময়ুরাক্ষী! কোথায় ময়ুরাক্ষী? এখানে তো কেমন ঝাপসা গরম হাওয়া। যে হাওয়া নদীর বুক বেয়ে ভেসে আসে সে হাওয়া কি কখনো অত গরম হতে পারে?


ফুটপাতে ওরা সব এলিয়ে পড়ে রয়েছে। ছড়ানো খড় যেন। কিন্তু দুপুরের দিকে লঙ্গরখানায় দুটি খেতে পেয়েছিল বলে তবু তাদের ঘুম এসেছে-মৃত্যুর মতো নিঃসাড় নিশ্চল ঘুম। তবে আমুর চোখে ঘুম নেই, শুধু কখনো-কখনো কুয়াশা নামে তন্দ্রার এবং যদিবা ঘুম এসে থাকে, সে-ঘুম মনে নয়-দেহেঃ মন তার জেগে রয়েছে চেনা নদীর ধারে, কখনো কলপনায় কখনো নিশ্চিত বিশ্বাসে, এবং শুনছে তার অবিশ্রান্ত মৃদু কলম্বন, আর দুরে জেলেডিঙ্গিগুলোর পানে চেয়ে ভাসছে। ভাবছে যে এরি মধ্যে হয়তোবা ডিঙ্গির খোদল ভরে উঠেছে বড় বড় চকচকে মাছে-যে চকচকে মাছ আগামীকাল চকচকে পয়সা হয়ে ফিরে ভারী কে তুলবে জেলেদের ট্যাক। আর হয় তো বা-কী হয় তো বা?