Showing posts with label হ-য-ব-র-ল. Show all posts
Showing posts with label হ-য-ব-র-ল. Show all posts

Wednesday, January 3, 2018

মাদাম কুরিকে আইনস্টাইনের চিঠি


১৯১১ সালের নভেম্বর, মাদামোয়াজেল মেরি কুরি তাঁর দ্বিতীয়বারের নোবেল বিজয়ী (রসায়নে) হওয়া থেকে মাত্র ১ সপ্তাহ দূরে ছিলেন। ১৯০৩ সালে কুরি প্রথমবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী হন, এবং দ্বিতীয়বারের মত নোবেল বিজয় তাকে দুর্লভ সম্মান এনে দিয়ে অতি-অসাধারণ এক এলিট শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করে যে শ্রেণীর সবাই ২বার নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। এখনো পর্যন্ত মাত্র ৪ জন ব্যক্তি ২বার করে নোবেল পুরষ্কার জিতেছেন। মাদাম কুরি তেজস্ক্রিয়তা সন্ধান পাওয়ার জন্য পদার্থ বিজ্ঞানে ১৯০৩ সালে এবং বিশুদ্ধ রেডিয়াম আলাদা করবার জন্য রসায়নে ১৯১১ সালে নোবেল বিজয় করেন। যদিও বিজ্ঞানে তাঁর অসাধারণ অবদানের বিষয়েই সবার মনোযোগ দেওয়া উচিৎ ছিলো, সেটা না করে তখনকার মিডিয়া এবং অনেকেই মাদাম কুরির অতি সাধারণ ব্যক্তিগত জীবনের খবর নিয়েই বেশী ব্যস্ত ছিলো।

মাদাম কুরিকে বিধবা করে তাঁর স্বামী বিজ্ঞানী পিয়েরে কুরি ১৯০৬ সালে মারা যান। এর কয়েক বছর পরই মাদাম কুরি পিয়েরে কুরির পিএইচডি ছাত্র পল ল্যাঞ্জেভিন এর সাথে রোম্যান্টিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পল যদিও বিবাহিত ছিলো, কিন্তু সে তার স্ত্রীর থেকে আলাদা (সেপারেশন) থাকতো। মাদাম কুরির সাথে সম্পর্ক পলের বৈবাহিক জীবনে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আসন্ন সমস্যার কাছে অবশ্য এই অশান্তি কিছুই মনে হবে না।

মাদাম কুরি, পল ল্যাঞ্জেভিনসহ আরো ২০ বিজ্ঞানীকে ১৯১১ এর শরতে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে আমন্ত্রণ করা হয়, সেখানে সকলের প্রবেশের অনুমতি ছিলো না। যখন মাদাম কুরি আর ল্যাঞ্জেভিন ব্রাসেলসে, তখন ল্যাঞ্জেভিনের স্ত্রী, মাদাম কুরী এবং ল্যাঞ্জেভিনের মধ্যকার বেশ কিছু প্রেমপত্র তৎকালীন মিডিয়ার কিছু লোকের হাতে পৌঁছে দেয়, যারা ল্যাঞ্জেভিনের স্ত্রীর প্ররোচনায় মাদাম কুরিকে দুষ্ট সংসার-বিনষ্টকারী নারী  হিসেবে সমগ্র ফ্রান্সের কাছে তুলে ধরে।

মাদাম কুরি যখন ফ্রান্সে তার বাসায় প্রত্যাবর্তন করেন, তখন আচমকাই (হ্যাঁ, আচমকাই! কারণ তখন ফেইসবুক, হোয়াটসেপ বা ভাইবার ছিলো না বা সবার টেলিফোন নাম্বারও সবার কাছে থাকতো না।) সংবর্ধিত হন একদল ক্ষুব্ধ জনতার দ্বারা যারা তাঁর বাড়ি ঘিরে রেখেছিলো। বাড়ির ভেতরের তাঁর ছোট দুই মেয়ে (৭ এবং ১৪) আতংকে কাঁপছিলো।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, এলবার্ট আইনস্টাইন, যিনি মাদাম কুরির সাথে ব্রাসেলস কনফারেন্সে সম্প্রতি পরিচিত হয়েছে, তিনি ফ্রান্সের নির্বোধ কভারেজখোর মিডিয়ার কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে, তাঁর নতুন বন্ধুকে উৎসাহ ও সাহস প্রদান করে (মাদাম কুরিকে) উষ্ণ একটি চিঠি লিখেন। মাদাম কুরিকে লেখা আলবার্ট আইনস্টাইনের চিঠিটা নিচে তুলে ধরা হলো। চিঠি লেখা দেখে বোঝা যায় আইনস্টাইন শুধুমাত্র সায়েন্সের প্রতি নয়, তাঁর বন্ধু ও কাছের মানুষদের প্রতিও যথেষ্ট সংবেদনশীল ছিলেন। উনার চিঠি লেখার ভাষা দেখে উনার মেরি কুরির প্রতি উনার বন্ধুসুলভ উদ্বেগের প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রাগ, ২৩ নভেম্বর ১৯১১

পরম শ্রদ্ধেয় মিসেস কুরি,

তেমন মূল্যবান কিছু বলার নেই, তবু লিখছি বলে আমার ওপর হাসবেন না। কিন্তু জনগণ আপনার সাথে বর্তমানে যেভাবে আচরণ করবার সাহস করছে, তাতে আমি এতই ক্রোধান্বিত যে আমার অনুভূতি আপনাকে জানাতেই হলো। যাই হোক, আমি বিশ্বাস করি যে আপনি সবসময়ই এইসব ইতর জনতাকে অবজ্ঞা করেন, তা ওরা আপনাকে চাটুকারের মত তোষামোদীই করুক আর আপনাকে রগরগে খবরের বস্তু হিসেবেই দেখুক না কেন।

আমি এটা না বলে পারছি না – আপনার মেধা ও মননে আমি যে কী পরিমাণ মুগ্ধ! এবং আপনার সাথে ব্রাসেলস ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। ঐ সকল ঘৃণ্য সরীসৃপ প্রাণীগুলো ব্যতীত যেকোনো ব্যক্তিই আনন্দিত হবে আপনার এবং ল্যাঞ্জেভিনের মত ব্যক্তিত্বদের আমাদের মধ্যে পেয়ে। আপনাদের মত খাঁটি মানুষ যাদের সান্নিধ্যই বড় ধরনের প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি। যদি নিম্নশ্রেণীর এসব কথায় আপনার মন খারাপ হয়, তাহলে ওসব ছাইপাশ না পড়লেই হয়। বরং যাদের রুচির জন্য মেরুদণ্ডহীনেরা এসব অতিরঞ্জিত এবং মনগড়া কথা ছড়িয়েছে, এগুলো তাদেরকেই পড়তে দিন।

আপনাকে, ল্যাঞ্জেভিনকে, আর পেরিনকে বিনীত শ্রদ্ধাসহ…

আপনাদেরই একান্ত
এ. আইনস্টাইন

বিঃদ্রঃ আমি একটা মজার উপায়ে প্ল্যাংকের বিকিরণ ক্ষেত্রের দ্বি-পারমাণবিক অণুর গতির পরিসংখ্যানগত সূত্র বের করেছি। একটা শর্ত ছিলো যে, গঠনটার গতি স্ট্যান্ডার্ড মেকানিকসের সূত্রগুলো মেনে চলবে। এটা বাস্তবে কাজ করবে কিনা, সেটা নিয়ে আমার আশা প্রায় শূন্য যদিও।

উৎস ঃ http://onubadokderadda.com/einstein-to-marie-curie/

Monday, January 1, 2018

পোপ নির্বাচনের ১০ টি ধাপ


খ্রিস্টান ধর্ম মতে পোপ হচ্ছে সর্বোচ্চ ধর্মগুরু। তিনি একই সাথে ভাটিকানের রাস্ট্রপ্রধান, পৃথিবীর সকল চার্চের প্রধান এবং ধর্মীয় নেতা। পোপকে নির্বচিত হয়ে আসতে হয় এটা সবারই জানা কিন্তু কিভাবে নির্বাচিত হন একজন পোপ সেটা কিন্তু অনেকেরই অজানা। আসুন দেখি কিভাবে নির্বাচিত হন একজন পোপ

১০) The Death of the Previous Pope (প্রাক্তন পোপের মৃত্যু)

প্রথমেতো আগেরজন মরতে হবে। না হলে নতুন পোপের জন্য ভ্যাকেন্সি হবে না। তবে এইটা কোন নিয়ম না যে মরতেই হবে। যে কোন সময় আগের পোপ রিজাইন করলেই পদ শুন্য বলে বিবেচিত হবে। তবে এটা খুব কমই ঘটেছে যেমন সাবেক পোপ এখনও জীবিত আছেন। তিনি তার অধঃস্তন ফাদারদের যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় পদত্যাগ করেন। পোপ মারা যাওয়ার পরে প্রথম কাজ হচ্ছে Cardinal Camelengo (যার অবস্থান পোপের পরেই) তার সামনে একজন ডাক্তার পোপের পালস চেক করে তাকে মৃত ঘোষনা করবেন। এরপর Cardinal Camerlengo পোপের নাম ধরে তিন বার উচ্চঃস্বরে ডাক দিয়ে অপেক্ষা করবেন পোপের প্রতিউত্তরের জন্য। আগে এই ভদ্রলোক একটা ছোট হাতুড়ি দিয়ে পোপের কপালে তিনটা আঘাত করতেন মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য।

০৯) Declaration of the Death (পোপকে মৃত ঘোষণা)

আর একটা ইন্টারেস্টিং কাজ। Cardinal Camerlengo যখন নিশ্চিত হবেন যে পোপ মৃত, তিনি সাথে সাথে তার পোপের আঙুল থেকে ফিশারম্যান রিং টা খুলে নেন এবং অন্যান্য কাগজপত্রের সাথে নস্ট করে দেন। ফিশারম্যান রিং টা হচ্ছে একজন পোপের মুল আইডেন্টিটি। প্রত্যেক পোপের জন্য একটা একটা আলদা আলাদা রিং তৈরি হয় এবং তার মৃত্যুর সাথে সাথে তা ধংস করা হয়। মুলত প্রথম পোপ পিটার একজন ফিশারম্যান ছিলেন তাই সেখান থেকেই এই নিয়মটি চালু হয়েছে। এর পরই Cardinal Camerlengo পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে থাকা সকল কার্ডিনালদের কাছে পোপের মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে একটি চিঠি লিখেন। ফলে সকল কার্ডিনালরা যাতে পরবর্তী পোপ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। যদিও এই আধুনিক যুগে চিঠি পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যথেষ্ট তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে।

০৮) Sede Vacante( সিট খালি)

প্রাক্তন পোপের মৃত্যু এবং নতুন পোপ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সময়কালকে বলা হয় Sede vacante বা সিট খালি। ইতিহাসে এই সময় টা ১৩ দিন থেকে ২ মাস ১০ দিন পর্যন্ত ছিল। তবে সর্বনিম্ন ১৩ দিনের মধ্যেই এই কাজটা শেষ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তিনজন ব্যাক্তি ছাড়া চার্চের সকল উচ্চপর্যায়ের ব্যাক্তিগন পদত্যাগ করেন। এই তিন জন হলেন the Camerlengo, the Cardinal Vicar of Rome and the head of the Apostolic Penitentiary। মুলতঃ এরা প্রধান নির্বাচকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হন এবং তারা কোনভাবেই পোপ নির্বাচনের জন্য প্রতিযোগি হিসাবে বিবেচিত হবেন না। যেহেতু ভ্যাটিক্যান একটি আলাদা দেশ তাই Camerlengo এই সময়ে সর্বময় কর্তা হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন।

০৭) Burial of the Pope (পোপকে সমাহিতকরন)

এরপর পোপের মৃত শরীরকে সুন্দর ভাবে পরিস্কার করে পাপাল ড্রেস পরিয়ে পিটার এর চার্চ অথবা সেইন্ট জন এর চার্চে রাখা হয় যাতে সবাই শেষ বারের মত তাকে দর্শন করতে পারে। এর পরই শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় সব আচার-অনুষ্ঠান। যেমন মৃতের চারপাশে ধুপ জ্বালিয়ে চক্কর মারা, পবিত্র জল ছিটানো সহ আরো অনেক কিছু যার। এখানে একটা গান গাওয়া হয় যেটা এরকম ” তার জন্য দোয়া কর”। এর পর মৃত পোপের লাশটা নিয়ে রাখা হয় একটা কাঠের কফিনে। এবং সেই কফিনটি রাখা হয় আর একটি সীসা অথবা জিংক এর এর বিশাল বাক্সের ভিতরে। এর পর সেই বাক্সটির উপরিভাগ সিল করা হয় স্বর্নের তৈরি ক্লিপ দ্বারা।

০৬) Novemdiales (কান্নাকাটি)

পোপের মৃত্যুর পর ঠিক নয় দিন পর্যন্ত চলে এই অনুষ্ঠানটি। মুলতঃ শব্দটির অর্থ হচ্ছে মৃত পোপের জন্য কান্নাকাটি। এই নয়দিনের প্রতিদিন একজন করে কার্ডিনাল মৃত পোপের জন্য প্রার্থনায় নেতৃত্ব দেন এবং সকল কার্ডিনাল এবং পাদ্রিরা সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। এখানে মুলতঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কার্ডিনালরা একত্রিত হন এবং একে অন্যের সাথে পরিচিত হন, কারন অনেক কার্ডিনাল আছেন যারা একে অন্যকে একেবারেই চেনেননা। এই নয়দিনে কনক্লেভের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

০৫) Conclave (নির্বাচন)

নতুন পোপ নির্বাচন একটা বিশাল সময় সাপেক্ষ বিষয়। সব কার্ডিনালরা একমত হতে পারেননা প্রায়ই। কার্ডিনালদের একটা বিশেষ রুমের ভিতরে প্রবেশ করতে হয় যার দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ থাকে। এই প্রথাটা প্রথমে ছিল না। এটা শুরু হয় ১২৭১ সালে পোপ নির্বাচনের সময়, সেসময় কিছুতেই সকল কার্ডিনালরা একমত হতে পারছিলেন না। ফলে প্রায় ২ বছর ৯ মাস সময় পার হয়ে যায় কিন্তু কোন পোপ নির্বাচিত হয় না। পরে স্থানীয় অধিবাসীরা রুমের দরজা বন্ধ করে খুব অল্প পরিমানে খাবার দিয়ে বাহির থেকে তালা মেরে দেয়। ফলাফল এক দিনের মাথা নতুন পোপ পাওয়া যায়।
মজার বিষয় হচ্ছে ৮০ বছরের উপরে কার্ডিনালরা পোপ নির্বাচনের জন্য অংশগ্রহন করতে পারবেন না।

০৪) Voting( ভোটাভুটি)

পোপ নির্বাচিত হতে হলে উক্ত কার্ডিনালকে সকল ভোটের দুই তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হবে। প্রত্যেক কার্ডিনালকে তার হাতে একটা ছোট কাগজের টুকরো দেয়া থাকে যেখানে লেখা থাকে ” আমি পোপ হিসাবে নির্বাচিত করলাম”। প্রত্যেক কার্ডিনাল এর ঠিক নিচেই তার পছন্দের কার্ডিনালের নাম লিখে সবার সামনে রাখা একটি বাক্সে ফেলেন। প্রথমে তিনজন ব্যাক্তির নাম বলেছিলাম যারা প্রধান নির্বাচক হিসাবে কাজ করেন। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং প্রার্থী হতে পারেন না। নির্বাচকরা এর পরে প্রত্যেকটি ভোট সজোরে সবাইকে পাঠ করে শোনান। যদি কেউ সংখাগরিষ্ঠতা না পায় তবে সবগুলো কাগজ একটি নির্দিষ্ট চুল্লির মধ্যে ফেলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। চুল্লিটির চিমনি দিয়ে তখন কালো ধোঁয়া বের হয় এবং বাইরে থাকা সবাই বুঝতে পারে কেউ নির্বাচিত হয় নি। ফলে আবার একই প্রক্রিয়া শুরু হয়। পোপ নির্বাচিত হবার সাথে সাথে চিমনি দিয়ে সাদা ধোঁয়া ছাড়া হয় যাতে সবাই বুঝতে পারে কেউ একজন নির্বাচিত হয়েছেন।

০৩) Acceptance (কবুল করা)

নির্বাচিত কার্ডিনালকে এর পরে Dean of the College of Cardinals পোপ হবার জন্য আহ্বান করেন। তিনি যদি কবুল বলেন তবে তিনি পোপ হিসাবে পরিপুর্ন ভাবে নির্বাচিত হয়ে যাবেন। এর পরে নতুন পোপ তার জন্য একটি নতুন নাম নির্বাচন করবেন। এই প্রথাটা শুরু হয়েছিল পোপ জন ২ এর সময়। তার আসল নাম ছিল মার্কারিয়াস যেটি একটি প্যাগান দেবতার নাম। ফলে তিনি বাধ্য হন একটি নতুন নাম গ্রহন করার জন্য। এরপরই সকল কার্ডিনালরা নতুন পোপের সাথে থাকার অঙ্গিকার ব্যাক্ত করেন।

০২) Announcement ( ঘোষনা)

এতক্ষনে সেন্ট পিটার্সবার্গ স্কয়ারের সামনে প্রচুর মানুষ জমতে থাকে নতুন পোপকে দর্শন করার জন্য। পোপ তার জন্য নির্ধারিত কাপর পরিধান করেন। তবে মজার বিষয় হল চার্চ কর্তৃপক্ষ আগেথেকেই সম্ভাব্য সকল কার্ডিনালদের মাপ অনুযায়ী কাপড় বানিয়ে রাখে ফলে সাথে সাথেই নতুন পোপ তার জন্য বানানো কাপড় খুব দ্রুত পরিধান করতে পারেন। এছাড়া এসময় তিনি তার ফিশারম্যান রিং পরিধান করেন। এবং শেষ পর্যন্ত ব্যালকনিতে গিয়ে পোপ হিসাবে প্রথম ভাষন দেন।

০১) Coronation / Inauguration(অভিষেক)

আগে সমগ্র রোম এবং ইতালির অনেকাংশ সরাসরি চার্চের দ্বারা শাসিত হত। এবং পোপ এই পুরো প্রসাশনের প্রধান হিসাবে একরকম রাজার মর্যাদায় শাসন করতেন। ফলে নতুন নির্বাচিত পোপ একজন রাজার মতই একটা অভিষেক অনুষ্ঠান উদযাপন করতেন। তবে বর্তমানে আর সেটা হয়না তবে খুব বড়ধরনের একটা প্রার্থনার আয়োজন হয়।

Thursday, December 7, 2017

কিউবা ভ্রমণ -রোজানা নাসরীন





মেঘের উপরে সোনার বিকেল। উড়ে যাচ্ছি। অনুভবের গভীরে এক ধরনের ভাল লাগার চমক কিংকিণী বাজিয়ে চলেছে। একদিন মুক্ত মনে পাখিদের আকাশে ওড়ার আনন্দ দেখে মানুষের মনে সাধ জেগেছিল আকাশে ওড়ার। তারপর থেকে মানুষ গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছে নিশিদিন। মনে মনে রাইট   ব্রাদার্সকে স্যালুট জানাচ্ছি। শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা ধারণ করেই যারা চোখ মুদে থাকেননি তারাই আকাশে ওড়ার গূঢ় রহস্যকে আবিষ্কার করেছেন। মানুষের সামনে নিয়ে এসেছেন আনন্দের ঝর্ণা ধারা। আকাশে মেঘের উপরে স্বর্ণালী সন্ধ্যা দেখতে দেখতে আনন্দে আত্মহারা হয়ে মনে হচ্ছিল এই যে যন্ত্রের উড়োজাহাজে চড়ে আমরা গন্তব্যে যাচ্ছি তার চেয়ে প্রকৃতির অংশ হয়ে মেঘে ভিজে ভিজে, গায়ে সোনালী আলো মেখে মেখে যদি উড়ে যেতে পারতাম, যদি হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করতে পারতাম সোনার আলোকে তাহলে কতইনা ভাল লাগত। এভাবে একসময় পথ শেষ হয়ে গেল, পৌঁছে গেলাম কিউবার ভারাডেরো বিমান বন্দরে।
আমরা ‘ সান উইং’ কম্পানির একটা বাসে উঠে পড়লাম যেটা আমাদের জন্য নির্ধারিত ছিল। কারণ ‘ সান উইং’ কম্পানির সাথেই আমাদের ভ্রমণ প্যাকেজের চুক্তি করা ছিল তাই এয়ার বাসটিও ছিল ‘ সান উইং’  কম্পানির। ছোট্ট শহর। নতুন দেখা বাতাবরণ আর পুরানো অভিজ্ঞতার সাথে নতুন সব অনুভবের অংশবিশেষ এবং অভিজ্ঞতা যুক্ত হচ্ছে। কিউবা রাষ্ট্রটি একটি  লম্বা দ্বীপ। চারিদিকে আটলান্টিক মহাসাগর।  কোন কোন রাস্তার পাশেই আছড়ে পড়ছে সাগরের ঢেউ। মন চঞ্চল হয়ে উঠছে , অনেকটা রোমাঞ্চকর লাগছে। সবুজ প্রকৃতিতে আছে অনেক অনেক নারিকেল গাছ, মাঝে মাঝে জায়ান্ট ক্যাকটাস আরও অনেক ধরনের গাছের পাতারা হাত নেড়ে নেড়ে যেন আমদেরকে স্বাগত জানাচ্ছে। তখন রাতের আলো আঁধারের খেলার  সাথে নতুন দেশকে যেন একসাথে জেনে নেওয়ার চঞ্চলতা একটি  কথাই কানে কানে বলে যায় সে হল, ‘ভাল লাগছে।‘  মোটামুটি পরিচ্ছন্ন রাস্তা-ঘাট, বাড়িঘর  অবলোকন করে চোখের স্বস্তি আর মনের আনন্দ মিলে  মিশে বিচিত্র এক সুখানুভুতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে একদল  লোককে  নামানো হল ‘টুক্সপান’ নামক একটি রিসোর্ট অ্যান্ড হোটেলে। সুন্দর রিসোর্ট, নয়ন অভিরাম করে  সাজানো, চারিদিকে ফুলের বাগান, চমৎকার ভাবে গুছানো। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার দেশ তাই সেখানে দেখতে পেলাম বাংলাদেশে ফেলে আশা তারা ফুল, রঙ্গন ফুল, যাদেরকে কতদিন দেখিনা। তখন মনে হল আমার দেশের সাথে যতটুকু মিল পেয়েছি তার মূল্য আমার কাছে অনেক। তারপর পৌঁছাল আর একটি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে যার নাম ‘ব্লাও ভারাডেরো’ মনে  হল এখানে আর্কিটেক্ট আর একটু বেশী  মনোযোগ দিয়েছিল। এভাবে একটার পর একটা রিসোর্টে বেড়াতে আশা লোকদেরকে ছুটির আনন্দিত সময় কাটানোর জন্য রেখে যাচ্ছে। পথে পথে গাড়ির মধ্যেই আনন্দ প্রকাশ করার জন্য ড্রাইভার সাহেব মজার মজার কথা বলছেন, অনেক তরুণ উৎসাহী তার সাথে গলা মিলাচ্ছে। একেবারে শেষে পৌঁছে গেলাম হোটেল গ্র্যান্ড মেমোরিতে। ড্রাইভার সাহেব চিৎকার করে বললেন, এবার আমরা পৌঁছে গেছি দা লাস্ট অ্যান্ড বেস্ট হোটেলে। যাত্রীরা হাতে তালি দিয়ে, কন্ঠে উল্ল­াস প্রকাশ করে  নামতে শুরু করল হোটেল চত্বরে। তাকিয়ে দেখলাম বড় বড় ইংলিশ অক্ষরে লেখা আছে ‘গ্র্যান্ড মেমরি অ্যান্ড স্পা’ মানে এটাই আমাদের গন্তব্য। হোটেলে চেক ইন করার পর আমাদের একটি জায়গায় অপেক্ষা করতে বলা হল। বেলবয় এসে ইঞ্জিন চালিত ছোট একটি গাড়িতে আমাদের তুলে নিল এবং পৌঁছে দিল আমদের নির্ধারিত বিল্ডিংএ এবং রুমে ঢুকে আমাদেরকে সকল সুযোগ সুবিধার কথা বুঝিয়ে দিল। এখানে আমরা সাত দিন থাকব, এজন্য কি ধরনের আয়োজন আছে সবকিছুই। কিউবার রাষ্ট্র ভাষা স্প্যানিশ। ট্যুরিস্টদের সাথে মানে আমাদের সাথে সবাই ইংলিশে কথা বলছে ঠিকই তবে বেশীরভাগ মানুষ ভেঙ্গে ভেঙ্গে স্প্যানিশ এক্সেন্টে ইংলিশ বলছে। তবে সবকিছুই স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। তখন মনে হল মানুষ যদি মানুষের মনের কাছাকাছি যেতে চায় তাহলে ভাষা কোন প্রতিবন্ধকই নয়। এখানে তিন ধরনের মানুষ দেখা যাচ্ছে, সাদা, কালো, এবং বাদামী গায়ের রঙয়ের মানুষ। সবাই কিউবান। সে রাতটি ছিল গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির রাত। ভিজে ভিজে খাবার সন্ধানে ঘুরছি আমরা তিনটে পরিবার। যাদের সাথে প্লে­নেই আলাপ হয়েছিল। হোটেলের ডাইনিং তখন বন্দ হয়ে গেছে কিন্তু স্নাকবার চব্বিশ ঘণ্টার জন্য খোলা আছে। বৃষ্টির পানিতে গা ভিজিয়ে, পা ভিজিয়ে, পুল ডিঙ্গিয়ে স্নাকবারে পৌঁছলাম। ওখানে কথা বলে জানলাম, ডাইনিং একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা থাকে। কিন্তু সব  বার গুলি (বিচের ধারের বার গুলি ছাড়া) চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে এবং আমরা জানতাম সব রকম খাবারই ইনক্লুসিভ। অনেকটা স্বস্তি অনুভব করলাম। গভীর রাত পর্যন্ত আমদের গল্প হল, তারপর ঘুমের জন্য ফিরে গেলাম যে যার রুমে। সকালে টিপ টিপ বৃষ্টি উপেক্ষা করে  ডাইনিংএ গেলাম, নাস্তা সেরে দিনের আলোতে সবকিছু বুঝে নেওয়ার তাগিদে ঘুরতে বের হলাম। আবহাওয়ার কথা না বললেই নয়।  কানাডায় ফল সিজন চলছে, তাপমাত্রা পনেরো, সতেরো থেকে জিরো ডিগ্রি সেলসিয়াস এ অবস্থান  করছে, ঠিক সেই সময় ভারাডেরো তে তাপমাত্রা ছিল সাতাশ, আটাশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভারাডেরোতে তখন একটি ডিপ্রেশন চলছিল যা দুইদিন স্থায়ী হয়েছিল। অনুকুল তাপমাত্রার কারণে ডিপ্রেশনের আবহাওয়া তেমন কোন বিরক্তির কারণ হতে পারেনি। তৃতীয় দিন সকালে আলোর বন্যায় যেন হাসতে লাগল, ভাসতে লাগল সকলই।

কিউবা সমাজতান্ত্রিক দেশ। কিউবার অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ জুড়ে আছে ট্যুরিজম। এখনে অনেক দেশ থেকেই ট্যুরিস্ট আসে বিশেষ করে শীতের দেশগুলি থেকে ট্যুরিস্ট এসে বেশি ভিড় করে। অনেকের   সাথে কথা বলে জানলাম  ইউরোপ, কানাডা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, এমনি  বিভিন্ন দেশ থেকে ভ্রমণ পাগল লোকেরা এখানে ছুটি কাটাতে এসেছে। কিউবার কারেন্সি স্ট্যান্ডার্ট হিশেবে ইউএস ডলার প্রচলিত। কানাডিয়ান ডলারের প্রচলন আছে তবে ইউএস ডলারই নির্ধারিত মূল্যমান। দেশটির সাথে কানাডার সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ তাই কানাডিয়ানদের মনে হয়েছিল একটু বেশী খাতির করে ওদেশের লোকেরা। হয়ত কানাডা বিশ্বের ধনী দেশগুলির একটি এবং সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকে প্রথমে অবস্থান করছে বলেই দেশটিকে গুরত্বের সংগে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিউবার কারেন্সিকে বলা হয় ‘পেসো’। ট্যুরিস্টদের জন্য সিইউসি নামে এক ধরনের কারেন্সি প্রচলিত আছে। একশত ইউএস ডলারে পাওয়া  যায় সত্তুর পেসো। ট্যুরিস্টদের জন্য সকল পণ্যের মূল্য সিইউসি তে নির্ধারিত থাকে। বৃষ্টির ঝামেলা উপেক্ষা করে ভারাডেরো ডাউন টাউনের দিকে পা বাড়ালাম। ডাবল ডেকার বাসে চড়তে আনন্দ অনুভব করলাম। আমরা একেবারে উপরে উঠে বসলাম তখন বৃষ্টি নেই। বাসের দোতলায় কোন ছাদ নেই, উন্মুক্ত স্থান থেকে সমস্ত শহর দেখা যাচ্ছে। আমার কাছে মনে হয়েছে শহরের মূল আকর্ষণই হল আটলান্টিক মহাসাগর। যার রূপ দেখে দেখে তৃপ্তি হয়না। পথিমধ্যে একটা জায়গা অপূর্ব লেগেছে, নদী এসে একটা বাঁক নিয়ে নির্দ্বিধায় যেন সাগরে মিশে গেছে। সত্যিই অতুলনীয় দৃশ্য। আকাশ আর সীমাহীন সাগরের মাঝখানে কিউবা যেন একটি অপরূপ ভূখন্ড হিসাবে জেগে আছে, একথা ভাবতে ভাবতে মন বলাকা পাখা মেলে দিল। রবীন্দ্রনাথের বলাকার মতই মন ছুটতে  লাগল, নিজেকে মনে হতে লাগল মুক্ত বিহঙ্গের মত। তিনি যেমন বলেছিলেন, ‘হেথা নয় হোথা নয়, আর কোথা অন্য কোনখানে’  ঠিক তেমন করে  কী যেন এক  বেগের  আবেগে মন ছুটছে , কোথাও কোন বন্ধন নেই। আজ মন যেখানে যেমন ইচ্ছা ঘুরতে যেতে পারে তাই   সাগরের বুকে উড়ে যাচ্ছে মন বলাকা। কোন লক্ষ্য নেই। শুধু ছুটে চলাই একমাত্র উদ্দেশ্য, গতিই যেন জীবনের সবটুকু অনুভব জুড়ে সত্য হয়ে আছে আর কিছু নয়। সাগরের বিশালতা প্রত্যক্ষ করলে হয়ত মানুষের মন এমন  চঞ্চল হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে  চমৎকার সবুজ প্রকৃতি দেখে ক্যমেরা ক্লিক ক্লিক করতে লাগল। প্রথমে একটা মার্কেটে পৌঁছলাম। মার্কেটটি সাজানো গোছানো। নাম লেখা আছে ‘প্ল­াজা আমেরিকা’। নাম দেখে ভাল লাগছিলনা। স্বাভাবিকভাবে একটি উপলব্ধি কাজ করছিল যে আমরা আমেরিকা অথবা কানাডার কোন কিছু দেখতে এখানে আসিনি এসেছি কিউবান নিদর্শন দেখতে। অনিচ্ছা নিয়ে দুএকটা দোকানে ঘুরলাম। সব পণ্যের গায়ে লেখা আছে সিইউসির নাম।
কোনটি ৫০, কোনটি ৩০  কোনটি ২০ সিইউসি এমনি নানা রকম পণ্য এবং নানা ধরনের মূল্যমান। তখন মনে হল এখানে সব পণ্যেরই মূল্য কিছুটা বেশী। খানিকটা অস্বস্তি লাগছে  ট্যুরিস্টদের জন্য সকল পণ্যের একটু বেশী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে। যারা  ট্যুরে আসে তারা শপিং এর চেয়ে বেশী ব্যস্ত থাকে দর্শনের আকর্ষণে। তারা বেশী শপিং করেনা বলে আমার ধারনা।  তাছাড়া একই মানের পণ্য আমেরিকা-কানাডায় আরো খানিকটা কম মূল্যে পাওয়া যায়। উল্লে­খ করার মত  তেমন কিছু কেনা হলনা কিন্তু অভিজ্ঞতা হল  দেশের অর্থনৈতিক মানসের একটি পার্ট সম্পর্কে। তখন আমার মনে হতে লাগল যদি পণ্যের মূল্য আরো কম করে নির্ধারণ করা হত তাহলে হয়ত ট্যুরিস্টরা কিছু বেশী পন্য ক্রয় করত। ওখান থেকে ফিরে আমরা গেলাম  একেবারে ভারাডেরো ডাউন টাউনের ফ্লি মার্কেটে। মার্কেটটি বাইরে থেকে দেখে মনে হল কতগুলি টেন্ট লাগানো একটা অস্থায়ী ব্যবস্থা। ভিতরে ঢুকে দেখলাম ওখানে কিউবান সুবিনিয়ারে ঠাঁসা। কাঠের তৈরি পণ্য, সমুদ্রের ঝিনুক দ্বারা তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য, সত্যিকারের স্টোন এবং পার্লের গয়না দিয়ে সাজানো রয়েছে। আবার যে গয়নাটি যে স্টোন দিয়ে তৈরি তার একটুকরা নমুনা পাশে রাখা আছে। মুক্তার গয়নার পাশে মুক্তাওয়ালা ঝিনুক রাখা আছে। কোন পণ্যের দামই নির্দিষ্ট করা নেই। তবে মনে হচ্ছিল টুরিস্টদের কাছে সব পন্যের দামই একটু বাড়িয়ে চাচ্ছে। অর্থাৎ যার কাছ থেকে যতটুকু বেশি মূল্য রাখা যায়  ততটুকুই যেন তাদের লাভের অংশ হিসাবে গণ্য হবে। এটা এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক দীনতা। প্রথমে তারা  জিজ্ঞেস করছে  কানাডা থেকে এসেছি কিনা। আমি দোকানে কানাডার নাম  বলার পর কিছুতেই কোন পণ্যের দাম এতটুকু কমাতে রাজি হয়নি তাই বেশি দামেই কিছু কিনে নিতে হল। ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকলাম  আর ভবতে থাকলাম, অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যে বেশী কিছু কেনা যাবেনা অথচ অনেক  কিছুই কিনতে ইচ্ছে করছে।  হঠাৎ করে দেখতে পেলাম দুজন কেনেডিয়ান মহিলা বলল তারা ইন্ডিয়া থেকে এসেছে। তাদের গায়ের রঙ ছিল বাদামী, হয়ত তারা ছিল ইন্ডিয়া থেকে আগত ইমিগ্রান্ট। ইন্ডিয়া শুনে অনেকেই দামের ব্যাপারে তাদের সাথে কিছুটা  নমনীয় ভূমিকা পালন করল যা পরিষ্কার বুঝতে  পারলাম। ঘুরতে যেমন ভাললাগল তেমনি  তাদের মানসিক প্রবণতা প্রকাশ পেল এবং মনে হল এ যেন এক চেনা মার্কেটের চরিত্র, যাকে অনেক পিছনে ফেলে এসেছি । তৃতীয়  বিশ্বের মার্কেট গুলোর সাথে কিছুটা চারিত্রিক মিল পেলাম। চোখের  সামনে ভেসে উঠল ইন্ডিয়া-বাংলাদেশের মার্কেটের চরিত্র। তবে ক্রেতাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে উল্লি­খিত দেশ দুটির চেয়ে এদেশের মার্কেট ও পণ্যের মান অনেক উন্নত মান সম্পন্ন যা ইউরোপ এবং আমেরিকা, কানাডার সম পর্যায়ের । ফেরার সময় প্রচন্ড বৃষ্টির কবলে পড়ে ফ্লি মার্কেটে ঘোরার আনন্দ অনেকটা হ্রাস পেল। আর ছাদে বসা হলনা এবার জানালা দিয়ে শহর দেখছি।  শহরের বাড়িগুলি দেখছি আর ভাবছি সব দেশের মানুষেরই হয়ত মনের অনুভূতি একই রকম। হয়ত সব দেশের নাগরিক গণ বিশ্বাস করে  আমাদেরই মত “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবেনাক তুমি/ সকল দেশের রানী সেজে আমার জন্মভূমি।“ বিকেলে হোটেলের স্যুইমিং পুল যেন আমদেরকে অনেকটা টেনে নিয়ে গেল। তখন আর বৃষ্টি নেই, চমৎকার মিউজিক বেজে চলেছে। ‘সালসা’ ওদের প্রিয় মিউজিক। পুলের সঙ্গেই মিনি বার সেখানে সব ধরনের পানীয় পাওয়া যায়। একদিকে স্নাকবার আছে ইচ্ছে করলে সেখানে কিছু খেয়ে আবার পুলে ফিরে আসা যায়। ও দেশে আইনের প্রয়োগ খুব কঠিন। ওখানে কোন অপরাধ সংগঠিত হয়না। অপরাধ কাকে বলে সাধারণ কিউবানরা হয়ত এর রূপ ভুলে গেছে। সরকার আইনের মাধ্যমে যা নিষিদ্ধ করেছে তা ভঙ্গ করার ক্ষমতা কারো নেই। সব রকম পানীয় অবাধে মানুষ খেতে পারে। যে যত ইচ্ছা ড্রিঙ্ক করতে পারবে  কিন্তু ড্রাংক অবস্থায় সব ধরনের অপরাধ নিষিদ্ধ। তাই তারা ক্রাইম থেকে মুক্ত। একটি দেশে সাধারণ মানুষের সমাজে কোন ক্রাইম সংগঠিত না হলে সামাজিক ও মানসিক ভাবে নাগরিকগন সর্বাধিক নিরাপদে বসবাস করতে পারে। একটা আর্থিক দীনতা কিউবা বাসীর অন্তরে অন্তরে ক্ষীণ ধারায় বইছে  যা আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছি। তখন আমাকে একটা চিন্তা অসম্ভব ভাবিয়ে তুলেছে; আমরা একটা সংস্কার নিয়ে বড় হয়েছি যে, অভাবে স্বভাব নষ্ট ;অর্থাৎ দারিদ্রতার কারণে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কিউবাকে দেখে আমার সেই আজন্ম বয়ে আনা ধারনা সমূলে উৎপাটিত হয়ে গেল। বোধটা আরও সুস্পষ্ট হল যে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে অপরাধ প্রবণতা কালচারের ঘারে চড়ে আসে, কখনো দারিদ্রতার ঘারে চড়ে আসেনা। মানুষ স্বভাবতই অপরাধ প্রবণ কিন্তু আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারাটাই কালচারের অঙ্গ। কিউবান সরকার সেটুকু পেরেছেন। সামাজিক জীবনের চারিদিক কণ্টক মুক্ত করতে পারা এবং সমাজের আর্থিক উন্নতিকে গতিমান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কেবল দেশের মানুষ ধনী হলেই সব  কিছুর সমাধান হয়ে যায়না; আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি প্রয়োজন নৈতিক জীবন বোধ এবং সকল মানুষের অবাধে সমাজে বিচরণ করার নিশ্চয়তা। ধর্ম, গোত্র, সেক্স নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় আইন মেনে সকলের  জীবনকে বন্ধনহীন করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত। কিউবাতে কিছুটা আর্থিক দীনতা থাকলেও তারা মানুষের যাপিত জীবনে এবং সংস্কারে অনেকখানি অপরাধ মুক্ত। এখানে নারী ও পুরুষের মধ্যে বাহ্যিক কোন প্রভেদ নেই। যদিও অন্তরে কি আছে আমরা বাইরে থেকে তার খোঁজ রাখিনা। সকলেই এখানে মানুষ হিসাবে গন্য হয় এবং সবক্ষেত্রেই তাদের অধিকার সমান। নারী পুরুষের মধ্যে সামাজিক বিভেদ বলতে দৃশ্যমান কিছু চোখে পড়েনি। যা  মানুষ হিসাবে আমাকে আকর্ষণ করেছে। আমি যে সামাজিক নিয়মগুলি দেখে বেড়ে উঠেছি, যাকে কোনভাবে সমর্থন করতে পারিনি কোনদিন, সেই নিয়মগুলি কোনখানে নেই , যা অনেকখানি মানসিক স্বস্তি নিয়েই অনুভব করেছি। ওখানে সেক্সের  শাসন  মানুষকে  প্রথার দড়ি দিয়ে টেনে পেছনে নিয়ে যাচ্ছেনা। এক শ্রেণীর মানুষের অবমাননায় আর এক শ্রেণী ধন্য হয়না, কারণ সেখানে আইন ভঙ্গকারী আইন ভাঙ্গাকে বীরত্ব মনে করেনা। প্রথাদৈত্যই একমাত্র জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠেনি, জীবনের সবটুকু পরিসর জুড়ে নির্ভীক প্রথার অভয় দৌড় নেই ওখানে যেটা এশিয়ানদেশগুলিতে চরম ভাবে প্রতিয়মান। (চলবে)
যেসব পণ্য তারা উৎপাদন করছে তার মধ্যে চিনি শিল্প আর সিগারেট শিল্প দেশটিকে সমৃদ্ধ করেছে। এক সময়য়ের বিশ্ব নন্দিত হাভানা চুরুটের কথা সর্বজন বিদিত। আখের চাষ করার জন্য আফ্রিকা থেকে এবং চায়না থেকে সেøভ ধরে এনেছিল প্রথম দিকের স্প্যানিশ রাজাগণ। কার্লোস নামে একজন স্বাধীন চেতনায় সমৃদ্ধ মানুষ যিনি ছিলেন একজন আখ চাষি তিনিই প্রথম সেøভদেরকে মুক্ত করার কথা ভাবেন এবং একসময় স্প্যানিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। তার মুক্ত মানবিক চিন্তাই মানুষের বন্ধন থেকে মানুষকে মুক্ত করেছে। চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়েছে সেø­ভিয়ান প্রথা।
কেটে গেল আরও একটি রাত। সময়ের ঘোড়া দ্রুত গতিতে ছুটতে লাগল।পরের দিন সকালে ঝলমলে রোদের মধ্যে মন ছুটাছুটি করতে শুরু করল। মনে হচ্ছিল মানুষ কেবল শুভ বোধের দ্বারাই সুখকর ও কল্যাণকর বোধ খুঁজে পেতে পারে। মনে হবে আলোর সাথে এসব মনে হওয়ার সম্পর্ক কি? আসলে  বাঁধন হারা সময় টুকুই এসব ভাবনার কারণ হয়ে উঠেছে হয়তবা। যখন আমরা ছুটি কাটাতে গিয়ে বাঁধন হারা সুখ অনুভব  করছি ঠিক সেই মুহূর্তে পৃথিবীর অনেক নিরীহ মানুষ প্রথার বন্ধনে নির্যাতিত হয়ে সন্ত্রাসে মারা যাচ্ছে। পৃথিবী জুড়ে এভাবেই  সুখে অসুখে মিলেমিশে মানব জাতি ছুটে যাচ্ছে কোন এক লক্ষের দিকে।
আটলান্টিক মহাসাগরের উদার আহ্বান আমাকে চুম্বকের মত টানছে। আমরা আটলান্টিকের বিচে গিয়ে পৌঁছলাম। বিচের চেয়ারগুলিতে কেউ শুয়ে শুয়ে বই পড়ছে, কেউ গায়ে সোনার রোদ মাখার জন্য শুয়ে চোখ বন্ধ করে আছে, কেউ বেলা ভূমিতে ঝিনুক কুড়াচ্ছে, কেউবা সমুদ্রের জলে ঝাপ দিয়ে ধেয়ে আসা ঢেউ গুলির সাথে খেলা করছে। সবার চোখে মুখেই একটা আনন্দের ঝলকানি সুস্পষ্ট। আমি অপেক্ষা করতে পারলামনা ঝাপ দিলাম অতল সীমাহীন সাগরের বুকে। ছোটবেলায় আমি এই বক্তব্যের  ভাব সম্প্রসারণ করেছিলাম, ‘সমুদ্রের বুকে ঝাপ দাও, তরঙ্গকে আঁকড়ে ধরো ওখানেই আছে অনন্তজীবন।‘ কথাটা তখনকার চেয়ে আজ যেন বেশী বেশী অনুভব করছি। যে কথাগুলি আমাকে সারা জীবন ধরে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে , এবং সেই আত্মসঙ্গী হয়ে যাওয়া কথাগুলি যে একটা চিত্রকল্প বহন করে বেড়াচ্ছে সে যেন বাস্তব রূপ ধারণ করে আমার সামনে উপস্থিত হল । যদিও এর   অর্থগত দিকটা অনেক ব্যাপক কিন্তু আজকের সমুদ্রের বিশালতার কাছে, ব্যাপকতার কাছে যার সমস্ত বিস্তৃতি হারিয়ে কেবল জেগে আছে ঢেউয়ের সাথে খেলা করার আবেদনটুকু। তাই সমুদ্রের জোয়ারের সাথে একাকার হয়ে  গেলাম শুধু।
এবার হাভানা যাওয়ার আয়োজন চলছে। হাভানা কিউবার রাজধানী। শহরটি বিশাল নয় তবে তাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। চারশ’ বছর ধরে স্পেন কিউবার শাসন ক্ষমতায় থাকার পর  আমেরিকার সাথে স্পেন এর যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় কিউবার মালিকানা নিয়ে। ১৮৯৮ সালে যুদ্ধ শেষ হয় এবং  আমেরিকা যুদ্ধে জয় লাভ করে এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে। এরপর ক্রমাগত ইতিহাসের পট পরিবর্তনের  মধ্য দিয়ে একসময় কিউবা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়।  এসব উত্থান পতনের  নিদর্শন তাদের  স্থাপত্য শিল্পে বহন করে চলছে। শহরটিতে আমেরিকা এবং স্পেনের শাসন কালের নিদর্শন এখনও জীবন্ত। কিউবার ডিক্টেটর নামে পরিচিত ফিদেল ক্যাস্ট্রো দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। ফিদেল ক্যাস্ট্রোর বাবা স্পেন থেকে আগত একজন ইমিগ্রান্ট ছিলেন। ফিদেল ক্যাস্ট্রো দেশের সংবিধান সহ অনেক পরিবর্তন সাধন করেন। পরবর্তীতে তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ভাই রাউল ক্যাস্ট্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তার করেন এবং কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান এর পদ থেকেও তিনি অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু পরোক্ষভাবে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দর্শনকে চলমান রেখেছিলেন। বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন দেশের শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতাসীন হওয়ার ফলে দেশের সামাজিক এবং  ধর্মীয় সংস্কার বহু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটা নিজস্ব রূপ ধারন করেছে। যদিও ধর্মের শাসন নিয়ে কোনরকম বাড়াবাড়ি নেই, তবু সাধারন জনগণের মধ্যে একটি অস্পষ্ট ধর্মীয় অনুভূতি কাজ করছে সেটি হল ক্যাথলিক খ্রীস্ট ধর্ম। হাভানা ক্যাথলিক চার্চ তার দৃষ্টান্ত  বহন করছে। চার্চের  পাশেই রয়েছে ধর্ম শিক্ষার স্কুল। ইচ্ছে করলে দেশের যে কোন নাগরিক সেখানে ধর্ম শিক্ষা পেতে পারে। পোপ হলেন সেই স্কুলের প্রধান ব্যক্তি।
হাভানা যাওয়ার পথে একটি জায়গায় আমরা থেমেছিলাম কিছু খাওয়া দাওয়া আর ফ্রেশ হওয়ার জন্য। সেখানে একটা রেস্টুরেন্টে আমরা যে যার মত বিভিন্ন প্রকার স্নাক খেলাম ফ্রেশ হলাম আবার চললাম গন্তব্যের দিকে। ভ্রমণের ফর্মুলা অনুযায়ী মিউজিয়াম, প্রধান চার্চ, দুর্গ, রেভুলেশন স্কয়ার, মহানায়কদের শ্বেত পাথরের মূর্তি, ঐতিহাসিক নিদর্শন বর্ণনা এবং ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দ মিলে কখন সময় ফুরিয়ে গেল টের পাইনি। ভ্রমণে যাওয়া বেশ কয়েকজন টরন্টোবাসীর সংগে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল এরা কেউ ইমিগ্রান্ট, কেউ টরন্টোরিয়ান, সবাই মিলে আমরা এক দেশের অস্তিত্ব বহন করছি বলে সবাইকে একই সংস্কৃতির মানুষ মনে হচ্ছিল। আমরা কানাডিয়ানরা সবাই মিলে লাঞ্চের জন্য রেস্টুরেন্টে একটি টেবিলে বসেছি , গল্পের ছলে যে যার অভিজ্ঞতার কথা বলে চলল। কেউ নেতিবাচক ভঙ্গী প্রকাশ করল কেউ আবার অনেকটা ইতিবাচক মত প্রকাশ করল, তবে নেতিবাচক কথার দিকেই সকলের ঝোঁকটা একটু বেশী ছিল। আসলে কেউ ঠিকঠাক করে বলতে পারেনা যে টেবিল টক কোন দিকে ঝুঁকে পড়বে, আমদের বেলায়ও তাই হল। ফেরার পথে আমরা একটা অতি পুরাতন দুর্গ দেখার জন্য থেমেছিলাম সেখানে ছোট একটি মার্কেট আছে যেখানে সব কিউবান সুবিনিয়ার কেনার জন্য একটা বিশেষ জায়গা, ছোট ছোট একচালা ছাউনির মধ্যে দোকানের জৌলুস মন্দ নয়। কিছু কেনাকাটা সেরে ফিরতে বেশ অন্ধকার হয়ে গেল, তখন জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কবিতার মত করে মনে হতে লাগল সব পাখী ঘরে ফেরার লগ্ন এলো এবার।

আমরা কোন ট্যুরে কিভাবে কখন যাবো তার একটা নির্দেশনা পেয়ে গিয়েছিলাম আগেই, কারণ প্রথমে রেজিস্ট্রি করতে হয়েছিল এবং টাকা জমা দিতে হয়েছিল আমাদের হোটেলেই। সমস্ত দিনের  ভ্রমণের আনন্দের রেশ পরের দিনেও যেন সতেজ হয়ে আছে। পরের দিন প্রভাত আলোয় শরীর ভিজিয়ে আমরা কোন এক আনন্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। এবার সমুদ্রে যাবো, অনুভূতিটা এরকম যেন অনেক আগেই মনটা সমুদ্র যাত্রায় নেমে পড়েছে তাই সে সাগরের বিশালতায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। নতুন নতুন দৃশ্যাবলী পেছনে রেখে আমরা ছুটছি , ক্রমাগত চলে যাচ্ছি কোন এক আনন্দের সাজানো ঘরে। আমাদেরকে বহনকারী বাস এসে পৌঁছল একটা টার্মিনালে যেখান থেকে দেখতে পেলাম সাগরের বুকে ভেসে যাচ্ছে  শত শত প্রমোদ তরী। এর মধ্যে একটা এসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে, নাম তার ‘কাটামারাং।‘ লাইন ধরে একে একে উঠে  পড়লাম যার সাহায্যের প্রয়োজন ছিল তাকে হাত ধরে সাহায্য করল ভ্রমণ আয়োজকরা । এভাবে  সবাই  উঠে গেলাম সমুদ্রের বুকে ভেসে যাওয়া একটি বোটে। হৃদয় তখন কি এক ভাললাগার আনন্দে বিভোর।  বোটের আকৃতি জাহাজের মত নয় অনেকটা বন্ধনহীন ভেসে বেড়ানোর উপযোগী করেই তৈরি। বোটের মধ্যে যেন আনন্দের ঝর্ণাধারা বইছেতো  বইছেই। নাচে গানে মাতোয়ারা সকলে। যেন পৃথিবীর সব আনন্দ এখানে এসে জমা হয়েছে। সকলেই সুইমিং কস্টিউম পরে আছে, আমি এমন একটি দেশে জন্মেছি এবং বেড়ে উঠেছি যে দেশের মানুষ মনে করে মেয়ে মানুষের অঙ্গ দেখলে পুরুষ মানুষ হামলে পড়বে তাঁর উপর, তাই আমার হৃদয়ে চলছে অনুসন্ধানের যজ্ঞ। আমার চোখ সকলের মুখ অনুসন্ধানে  তৎপর হয়ে উঠল, বুঝতে  চেষ্টা করছি কারো মুখে ভেসে উঠছে নাকি ধর্ষণের আগ্রহ। কোন মানুষের চোখে মুখে  মেয়ে মানুষের অঙ্গ দেখে তাঁকে ধর্ষণের অভিলাষ জেগে উঠতে দেখিনি। কোন পুরুষকেই পাপী মনে হচ্ছেনা যে তাকে দেখে মেয়েরা অঙ্গ ঢাকতে তৎপর হয়ে উঠবে। কোন পুরুষ মানুষকে দেখে  মনে হচ্ছেনা নারীকে সুইমিং কস্টিউম পরা দেখে লালসার যাতনায় মরে যাচ্ছে। এখানে আনন্দটা নির্মল। এটাকেই বলে স্বাধীনতা, যা বাংলাদেশে প্রথার মধ্যে হারিয়ে গেছে।  যেখানে প্রথার আগ্রাসনেই  রচিত হয় নারী ও পুরুষের বিভেদের ফারাক। নারীর অঙ্গ দেখলে পুরুষের আগ্রাসী চিন্তা বেড়ে যায় কেবল দৃষ্টিভঙ্গির কারণে; যারা নারীর দিকে শুধুমাত্র যৌনতার দৃষ্টিতেই তাকায়। মনে হয় আজন্ম লালিত কী যেন এক আক্রোশ বহন করে চলছে নারীদের প্রতি পুরুষ চরিত্রগুলো। তাই তাকে ধর্ষণের পর মেরে ফেললে জীবনের প্রতি কোন অন্যায় করা হয়না যেন। তাদের বেঁচে থাকা এবং মৃত্যু বরণ করা দুটোই যেন  পুরুষের অভিলাষ। নারী একজন মানুষ একথা কোনভাবেই  যেন  ভাবতে পারেনা তারা। কিন্তু ঐ ভাবনার বৃত্তের বাইরে যারা অবস্থান করেন তাদের মাথায় ধর্ষণের চিন্তা বা মতলব কোনটাই আসেনা। এর মনস্তাত্ত্বিক  কারণ হল যখন এসব সামাজিক প্রথাগুলি তৈরি  হয়েছে তখন মানুষের জীবনে যৌনতার আনন্দ ছাড়া আর কোন আনন্দের ব্যবস্থা ছিলনা। মানুষের মনে কখনও আসেনি যে যৌনতাকে অতিক্রম করেও সকল মানুষ মিলে নির্মল আনন্দের ব্যবস্থা করা যায়। আজকের সভ্য জগতে যৌনতার আনন্দ কেবল নিতান্তই ব্যাক্তিগত; মানে সেটা কেবল দুটি মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং নিয়মতান্ত্রিক । কিন্তু নৈর্ব্যক্তিক আনন্দের ব্যবস্থা করতে হলে ঐ সীমাবদ্ধ ভাবনার বাইরে গিয়ে  সকলের আনন্দের উৎসকে খুঁজে বের করতে হয়। যে আনন্দের নেপথ্যে থাকবেনা কোন ভীতির  কুহেলিকা। মানুষের আনন্দ লোভী মন সভ্য মানুষকে তাগিদ দেয় যে অনেকে মিলে যতটুকু আনন্দে ভেসে যাওয়া যায় সেটুকুই জীবনকে সহজ ও স্বাভাবিক করে রাখে। কুসংস্কার মুক্ত করে এবং মানুষকে উদার হওয়ার মন্ত্র শিখায়। মানুষের অন্তরে অন্তরে সর্বদা দুটি মন্ত্র সক্রিয়, একটি হল মানুষে মানুষে আনন্দের মাধ্যমে সৌন্দর্য মণ্ডিত মানব সভ্যতা গড়ে তোলা, অন্যটি হল কোন প্রথা ও  কোন সংস্কারের কারণে মানুষে মানুষে  শত্রু  ভাবাপন্ন সম্পর্ক তৈরি করা, এবং প্রথাবদ্ধতাকে  অন্তরে ধারণ করে মানুষের  ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য সকল সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করা।  এই দুটি সত্যের মধ্যে মানব জাতি কোনটিকে গ্রহণ করবে তা নির্ভর করে  তাদের মানসিক প্রবণতার উপর। এভাবেই জাতিগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
সীমাহীন সমুদ্রের মাঝে একটি নির্দিষ্ট স্থানে এসে আমাদের বোটটি থামল। সাগরের বুকে একটি  সুবিধা জনক জায়গা পছন্দ করে বিশেষ ব্যাবস্থায় স্টেশন করা আছে। একইভাবে দুটি স্টেশন তৈরি করা আছে। একটা বড় এরিয়া জুড়ে কোন কিছু আটকে রাখার মত করে  গোলাকৃতি আয়োজন রয়েছে। যখন সেই স্টেশনে আমরা নেমে পড়লাম আনন্দে মনটা যেন চঞ্চল হয়ে উঠল। চারিদিকে অন্তহীন সাগর  মাঝখানে  মানব সৃষ্ট একটি ঘাটি , ডলফিনদের আবদ্ধ রাখার জন্য এ ব্যবস্থা। তবে  ডলফিনদের অবরুদ্ধ রাখার প্রক্রিয়াটি দেখে মনে হল সাগরের বিশালতাকে ব্যাহত করা হয়নি এতটুকু। ডলফিনরা সেখানে বসবাস করলেও তাদের অবরোধ করে রাখা হয়েছে সে রকম মনে হচ্ছেনা। দেখে মনে হচ্ছে এ এক অদৃশ্য অবরোধ। কারণ এই গোলাকৃতি জায়গাটির মেকানিজম চমৎকার। যেহেতু ডলফিন বড় আকৃতির মাছ তাই তার শারীরিক আকৃতির তুলনায় খানিকটা ছোট ছোট ফাকা দিয়েই রচিত বন্ধন।। তাঁরা ছুটে যেতে পারছেনা তবে তাদের অবরোধের কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছেনা । একে একে সকলে নেমে গেল ডলফিনের সাথে খেলা করতে। ডলফিনের পছন্দের খাবার হিসাবে এক ধরণের মাছ তাদেরকে খেতে দেওয়ার কারণে যেন উৎফুল্ল হয়ে শিখানো খেলা দেখাতে লাগল পরম উৎসাহে।  যখন ডলফিনের পিঠে চড়ে সাগরের জলে ঘুরছি তখন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল , মনে হচ্ছিল সমস্ত বাস্তবতা স্বপ্নের জগতে হারিয়ে গেছে। রিসোর্টের পক্ষ থেকে ক্যামেরা ম্যান ছিল, প্রায় সবাই ডলফিনের সঙ্গে চমৎকার যত ছবি  উঠাল। ডলফিন  মাছ হয়ে মানুষের গালে চুম্বন করছে ফটো স্যুটের জন্য। দৃশ্যটি দেখে আমার মনে আনন্দের ঝর্ণা বয়ে গেল।
এবার একটা মজার ইভেন্ট আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে যার নাম ‘স্নোর কেলিং।‘ মহাসাগরের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে মানুষেরা জলের তলদেশে গিয়ে কতকি রহস্য উদ্ধার করেছে, ঠিক তাদের মতই যেন আমরা সকলে খেলায় মেতেছি। দেখে মনে হচ্ছে সবাই সাগর মন্থনে নেমেছে। কিছু ভীতু মানুষেরা জিজ্ঞেস করে যখন জানতে পারল পানির গভীরতা এখানে একেবারেই নেই তখন তাদেরকে এক একজনকে সম্রাটের মত মনে হল, তাদের চোখ মুখ ঝলকানি দিয়ে উঠল। কেউ মাছদের খাবার দিয়ে  জড়ো করেছে , কেউ সাঁতার কাটছে । এভাবে প্রকৃতির সাথে মানুষের মেলেমেশাটাকে অবাঁধ না হলে মানুষ এক বিপুল  আনন্দ থেকে বঞ্চিত  হয়। ওখানে পানির সচ্ছতা দেখে মন যেমন মুগ্ধ হয়েছে তেমনি নিজেকে অনেক বেশী মুক্ত মানুষ ভাবতে ইচ্ছে করেছে , যে মুক্তি আমার নেপথ্যে ফেলে আশা সংস্কৃতির মধ্যে কিঞ্চিৎ  ম্রিয়মান ছিল। এভাবে ত্রিশ মিনিট কি ভাবে কেটে গেল টের পেলামনা। কারণ আমাদের ত্রিশ মিনিটই বরাদ্দ ছিল। সকল বয়সের মানুষেরা আবার একে একে উঠে এল বোটের মধ্যে। আমাদের কাপড়  আমাদের শরীরেই শুকাল। ক্রমাগত আনন্দ ধারা সামনে নিয়ে চলল আমাদেরকে, আমরা ছুটতে ছুটতে একটা ছোট্ট দ্বীপে পৌঁছে গেলাম। দ্বীপটির  শুভ্র সৈকত এখনও মনের নির্জনে জেগে আছে। সেই সৈকতের রূপ যুগান্তরের মুগ্ধতাকে অতিক্রম করে গেছে । প্রকৃতি সম্পর্কে মানব গোষ্ঠী এবং তাদের পূর্ব পুরুষেরা যতটুকু ভাবতে পেরেছে তার চেয়েও যেন  সুন্দর  কোন দৃশ্য এখানে, অন্তত আমার মনে তেমনই একটা অনুভূতি এসে জুটেছে। রবি ঠাকুরের সেই গানটি আমার হৃদয়কে চঞ্চল করে তুলছে , ‘ওরে ওরে ওরে আমার মন মেতেছে/ তারে আজ থামায় কেরে।‘ এখানে এসে মনে  হল মন যেন মুক্ত ও সাবলীল। দিগন্তব্যাপী শুভ্রতার মধ্যে একটি দ্বীপ জেগে আছে যেন পরম তৃপ্তি নিয়ে। যে দ্বীপটি মানব সভ্যতার পদচারনায় অনেক বেশী মুখর ,  অনেক বেশী পরিপাটি । এখানে  প্রয়োজনীয়  সব ব্যবস্থাই রয়েছে। লাঞ্চ সেরে সমুদ্র সৈকতে নেমে পড়ল সবাই। যতদূর দৃষ্টি যায় শুভ্র রঙের বালুচর আর সঙ্গে সমুদ্রের সচ্ছ পানি। শুভ্র সমুদ্র সৈকতে যেন কী আনন্দে সকলে লুটোপুটি করছে আর সাথে সাথে ক্যমেরা ক্লিক ক্লিক করে চলেছে। কেউ সেলফি তুলছে , কেউ অন্যের সাহায্য নিচ্ছে , এভাবে আলোর গল্প , আনন্দের গল্প , মুক্তির গল্প , প্রকৃতির কাছে ছুটে যাওয়ার গল্প দিয়ে ভরে উঠল আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি। সমুদ্র থেকে যেন কুড়িয়ে আনা অজস্র স্ফূর্তির ঝিনুক মালা গেঁথে যাচ্ছে হৃদয়ের অন্তরালে বসে কে যেন , যাকে শুধু অনুভব করা যায় দেখা যায়না কখনও ।


Saturday, December 2, 2017

এইজ অফ ইউরোপিয়ান ডিসকভারি - ২


আটলান্টিক মহাসাগর সম্পর্কে ইউরোপে তখন চাউর ছিল হাজার রকম গুজব।
গভীর কুয়াশা আর অন্ধকারাচ্ছন্ন এই সাগরের গভীরে নাকি ড্রাগন,ক্র্যাকে
ন,হাইড্রা সহ হাজারটা দানবের বাস।বুড়োরা বলতো,এই সাগরের কোন শেষ নেই।
স্পেন বা পর্তুগাল থেকে তাই কোন জাহাজই পশ্চিমে বেশিদুর যেতে রাজি হত না।পশ্চিমে গেলেই সর্বনাশ।
কলম্বাস যখন পর্তুগালের রাজা জনের কাছে গেলেন,তখন এসবের সাথে সাথে জন আরেকটা কথাও ভাবলেন,পশ্চিমে যেতে যেতে সে যদি জাহাজ নিয়ে সূর্য ডোবার জায়গাটা পার হয়ে যায় তাহলে তো সে আর কোনদিনই ফিরে আসতে পারবে না,তখন যে টাকা পয়সা খরচ করে তাকে আমি পাঠাবো,সেটার কি হবে!!
মূলত এই চিন্তা করেই তিনি কলম্বাসকে পশ্চিমে পাঠানোর জন্য ফাণ্ডিং করতে রাজি হলেন না।কস্ট-বেনিফিট
ে পোষানোর কোন সম্ভাবনাই নাই এমন প্রজেক্টে ইউরোপিয়ান রাজারা হাত দেয়া বাদ দিয়েছেন ফিফটিন্থ সেন্ঞুরির মাঝামাঝি থেকেই।
কলম্বাস যখন পর্তুগীজ রাজার কাছ থেকে ফাণ্ডিং পেলেন না,তখন তাকে যেতে হল স্পেনের রানী ইসাবেলার দরবারে।
তার পশ্চিম দিক থেকে ভারতে যাবার পাগলাটে পরিকল্পনাটা প্রথম প্রথম রাণীর ভাল না লাগলেও একটা পর্যায়ে এসে রাণী ভাবলেন,এক দান জুয়া খেলাই যায়।
অন্ধকার বিপজ্জনক সাগরে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া নাবিককে ফাণ্ডিং করা যে সে জুয়া না।এই জুয়া খেলতে ইউরোপ রাজি হওয়ার পেছনে মূল কারন ছিল দুটো।
এক নম্বর কারন,ক্রুসেড আর রিকনকুইস্তায় খরচ করতে করতে ইউরোপের স্টকে সোনা রুপার অভাব পড়ে গেছিল মারাত্মক রকম।ইটালিয়ান ব্যাংকগুলো পোপ আর সম্রাটদের চাহিদা মেটাতে মেটাতে মোটামুটি ফতুর।তার ওপর ইউরোপের মহাজন ছিল ইহুদীরা।তাদের কাছ থেকে ধার কর্জ নিতে নিতে ইউরোপের অর্থনীতি পুরোপুরি ইহুদীদের পকেটে চলে যাচ্ছিল।
তারপরও পূর্বে অটোমান আর পশ্চিমে বার্বারদের মোকাবেলা করতে সম্রাট ও চার্চের প্রয়োজন ছিল নতুন সোনা-রুপার মজুদের,যা দিয়ে তারা মুদ্রা বানিয়ে বড় সেনাবাহিনী পুষতে পারেন।
দুই নম্বর কারন ছিল,মসলা।
ইউরোপের শীতকাল ভীষন রকম লম্বা।অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীত,এপ্রিল-মে যাকে তারা বসস্ত বলে ওটাও নেহায়েত কম ঠাণ্ডা না।
মোট কথা,বছরে আটমাসই ইউরোপ থাকে ঠাণ্ডা।এই আট মাসের ছয় মাস ঘর থেকে বের হওয়াই দায়।এসময়টার জন্য সবাই ঘরে খাবার মজুদ করে রাখতো।সে সময়কার প্রধান মজুদ খাবার ছিল গোশত।
টানা ছয় মাস গোশতকে মজুদ করে রাখার পর তা খাবার উপযোগী করতে তাদের প্রয়োজন হত মশলার।এই মশলা আমদানির মনোপলি ছিল ভেনিসের।
অটোমানদের ট্যাক্স দিতে দিতে ভেনিসের তখন নাই নাই অবস্থা।
স্পেন-পর্তুগাল ভালমতই বুঝলো,পূর্বদিক দিয়ে তাদের জাহাজকে অটোমানরা ব্যবসা করতে দেবে না।কিন্তু যেহেতু দুনিয়াটা গোল,আর আফ্রিকাটার পূর্বে ভারত,কোনমতে আফ্রিকাটা ঘুরে পূর্বে পোছালেই ভারতে যাওয়া সম্ভব।
এই ধারনা বাস্তবে রুপ দেয়ার নথে প্রথম পদক্ষেপটা নেন পর্তুগীজ রাজা হেনরি দ্যা নেভিগেটর।
তিনি ইতালি,স্পেন,ফ্রান্স,পর্তুগাল,জ
ার্মানী,হল্যাণ্ড,মরক্কো,তিউনিস
িয়া,আলজেরিয়া ছেঁকে চ্যাম্পিয়ন সব নেভিগেটর,নাবিক,মেরিন ইন্জিনিয়ারদের নিয়ে আসেন,তেরি করেন এক রয়্যাল মেরিটাইম স্কুল।
এই স্কুল থেকে বের হতে থাকে দারুন সব আইডিয়া।গ্রীকো-রোমান আমলের নেভাল নলেজের সাথে তারা ইসলামিক সায়েন্সের ফিউশন ঘটায়,আল খাওয়ারিজমীর সুরত আল আরদ,আল ইদ্রিসীর তাবুলা রজারিয়াস,খাওয়ার
িজমীর অ্যাস্ট্রোল্যাব আর অ্যালজেব্রা,সেই সাথে আল বেরুনির ত্যিকোণমিতিকে তারা দারুণভাবে বশে এনেছিল,সেই সাথে অনেক ভুলত্রুটি শুধরে সেগুলোকে দিয়েছিল তখনকার সময়ের সবচাইতে অ্যাডভান্সড রুপ।
এরসাথে তারা ব্যবহার করতে শিখেছিল গ্রহ-নক্ষত্র দিয়ে সমুদ্রে নিজেদের অবস্থান বোঝার আরব টেকনোলজি ইফিমেরিস।
হেনরি মারা গেলেও তার বংশধররা স্কুলের ফাণ্ডিং বজায় রাখলেন।
সোনার ডিম পাড়া রাজহাস তার প্রথম ডিমটা দিল ১৪৮০ সালের দিকে।
দুই ধরনের স্পেশাল জাহাজ বানিয়ে ফেললো পর্তুগীজ রাজা জনের মেরিন ইন্জিনিয়াররা।
একটাকে বলা হত ক্যারাভেল,আরেকট
াকে বলা হত নাও।
ক্যারাভেল ছিল তখনকার সময়ের যে কোন জাহাজের চাইতে অনেক বেশি দ্রুতগতির।সামান্যতম বাতাসকেও এই জাহাজ কাজে লাগাতে সক্ষম ছিল।
ক্যারাভেলের এই তাক লাগানো গতির পেছনে মূল নায়ক ছিল পাল।এর আগ পর্যন্ত জাহাজে যে পাল খাটানো হত সেগুলো ছিল চারকোণা,ক্যারাভেলই প্রথম জাহাজ যাতে তিনকোণা ল্যাটিন পাল ব্যবহার করা হয়।
আর নাওগুলো ছিল একেকটা দানব।একেকটা নাও বহন করতে পারতো পাচশো থেকে দুই হাজার টন পর্যন্ত বিপুল ওজন,যা তখনকার যুগে ছিল এক বিস্ময়।বড় বড় কামানগুলো অনায়াসে লুকিয়ে রাখা যেত নাওয়ের ভেতরের কম্পার্টমেন্টে।
সেই সাথে ইউরোপের পশ্চিমে তখন আবিষ্কৃত হয়েছিল যুগান্তকারী এক ফুড টেকনোলজির।
তখনও মানুষ জানতো না যে লবণ দিয়ে ডিহাইড্রেটেড করে মাসের মাস ধরে খাবার তরতাজা রাখা যায়।
যখন এই টেকনোলজি পর্তুগীজরা পেয়ে গেল,তখন তাদের দুর দুরান্তে অভিযান চালাতে আর একটা মাত্রই বাধা রইলো,সেটা হল ফাণ্ডিং।
এই ফাণ্ডিংটা তখনকার স্পেন-পর্তুগালে
র রাজারা করতে রাজি হয়েছিলেন বলেই দুঃসাহসী নাবিকেরা বারবার বেরিয়ে পড়েছেন সমুদ্রজয়ে।
১৪৮৯ তে বার্থেলোমিউ ডায়াজের কেইপ অফ গুড হোপ জয় করার পর থেকে ১৫০০ সালে ক্যাব্রালের ব্রাজিলে নোঙ্গর করা,এর মধ্যে পর্তুগীজ-স্প্যানিশরা আবিষ্কার করে ফেলে পৃথিবীর দুই নতুন দিগন্ত,পূর্ব আর পশ্চিম,আবিষ্কার করে সম্পদে পরিপুর্ন সম্পুর্ন অজানা এক মহাদেশ,যার নাম তারা দিয়েছিল নতুন পৃথিবী।
ইউরোপ যেভাবে নতুন করে জগতটাকে আবিষ্কার করেছিল,তার মূলে ছিল রেনেসার যুগের সবকিছুকে নতুন করে দেখার আগ্রহ,আর এই আগ্রহের জন্ম দিয়েছিল তাদের তীব্র প্রয়োজন।ক্রুসেড করে করে,আর মসলার ব্যবসায় লালবাতি জ্বালিয়ে,দুশো বছরের ব্ল্যাক ডেথকে মোকাবেলা করে ইউরোপের এই ঘুরে দাড়ানোর গল্প চিরদিনের জন্য অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে পৃথিবীর ইতিহাসে।
ইউরোপ কেন মুসলিমদের সায়েন্স অ্যাণ্ড টেকনোলজিকে আপডেট করে ঘুরে দাড়াতে পারলো,মুসলিমরা কেন পারলো না,তার পেছনের মুল কারন তিনটা।
এক.প্রয়োজন
দুই.নতুন করে জগতকে জানার ইচ্ছা
তিন.পলিটিক্যাল উইল আর সবকিছুকে কস্ট বেনিফিট মডেলে ফেলার ইকনোমিক চিন্তা ভাবনা।

 

উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ...

Friday, December 1, 2017

পরিবেশবান্ধব কম্পিউটার


কম্পিউটার থেকে কার্বনের নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব কম্পিউটার তৈরি করছে আয়ারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোপ্রো। ‘আইএমইকো পিসি’ নামের পরিবেশবান্ধব এই টাচস্ক্রিন কম্পিউটার কাঠের তৈরি। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে ডেইলি মেইল।
নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোপ্রোর দাবি, এই কম্পিউটারটির ৯৮ শতাংশ রিসাইকেল করা যায়। কম্পিউটারটিতে কাঠের তৈরি কাঠামোর সঙ্গে টাচস্ক্রিন যুক্ত করা হয়েছে। কম্পিউটারের ফ্যানের পরিবর্তে কপার পাইপের বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, এর ফলে এতে শব্দ হয় না। এটি সাধারণ কম্পিউটারের তুলনায় ৭০ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করে।
জার্মান বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার স্লসারের নকশা করা এই কম্পিউটার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইকোলেবেল ‘ফ্লাওয়ার’ পুরস্কার জিতেছে।
আলেকজান্ডার স্লসার পরিবেশবান্ধব এ কম্পিউটার প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, টাচস্ক্রিনের এই কম্পিউটারটি খুব কম শক্তিতে চলে। আইএমইকো পিসির পর কাঠের তৈরি ল্যাপটপ তৈরি করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

 

উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ...

ঘুমের আগে প্রভাবশালী লোকেরা যে ৫টি কাজ করতে অভ্যস্ত


আমরা জানি যে, সফল ব্যক্তিরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং বিশ্বজয় সম্পর্কে চিন্তা করে যখন পৃথিবীর বাকি মানুষেরা সকালের কফির স্বাদ নিতে থাকে। কিন্তু তারা সারাদিন কি কাজ করে থাকে তা আমরা জানি না। তবে রাতে শোবার আগে তারা কি করে? জানতে চান এই গোপন তথ্য? তারা পরবর্তী দিন যেন আরও সুন্দর করতে পারে সে প্রত্যয় নিয়ে চিন্তা করে। যে কাজ গুলো করতে তারা অভ্যস্ত-

# এক ঘণ্টা বই পড়া
মাইক্রোসফট এর মালিক বিল গেটস প্রত্যক রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক ঘণ্টা বর্তমান ইভেন্ট ও রাজনীতির উপর লিখা বই পরেন। বই পড়ার কারনে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। এর ফলে স্ট্রেস কমে ও মেধা বৃদ্ধি পায়। ২০০৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেসে ৬ মিনিট বই পড়লে সারাদিনের ৬৮% স্ট্রেস কমে যায়। প্রতিদিন বই পড়ার অভ্যাস করলে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো হয়।

# অসংযুক্ত
আরিআন্না হাফিংটন তার মাথায় আঘাত পাবার পর থেকে রাতে ঘুমাবার আগে তার ফোন অন্য কক্ষে রেখে আসে। যাতে তার ঘুমে কোন সমস্যা না হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, মোবাইলের লাইট ও আওয়াজ আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের জন্য খারাপ হতে পারে। এতে আমাদের ব্রাইন এর সমস্যা হতে পারে।

# হাটা
বাফার এর সিইও ঘুমাতে যাবার আগে হাঁটাহাঁটি করেন। এতে তার সারাদিনের অফিসের চিন্তা দূর হয় এবং তিনি আসতে আসতে ক্লান্তিবোধ করেন।
একজন ব্যস্ত মানুষের জন্য সারাদিনের কাজের পর রাতে রুটিন করে প্রতিদিন হাটা একটি ভালো বিষয়। এতে তার সারাদিনের স্ট্রেস দূর হয়। তাছাড়া কাজ করার সময় কোন কিছু মুক্তভাবে চিন্তা করা যায় না। হাটার সময় অনেক কিছু নিয়ে মুক্তভাবে চিন্তা করা যায়।

# মেডিটেশন
মিডিয়া ম্যাভেন প্রতিদিনই রাতে মেদিতাতিওন করেন। সারাদিনের স্ট্রেস দূর করার সব থেকে কার্যকর উপায় হল মেডিটেশন। সবসময়ই একটি তর্ক ছিল যে মেডিটেশন কি আদৌ কোন উপকারে আসে কিনা। তবে ২০১৪ সালে ১৯০০০ লোকের উপর একটি গবেষণায় এই কথা প্রমাণিত হয় যে, মেডিটেশন মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

# পরের দিনের পরিকল্পনা করা
দ্যা আমেরিকান এক্সপ্রেস এর সিইও তার সময় কে অনেক প্রাধান্য দেন। উনি প্রতি রাতে পরবর্তী দিনে করণীয় তিনটি কাজ চিন্তা করে রাখেন। যাতে পরের দিন সকালে উঠে তা সময় মত করতে পারে।

 

উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ...

গন্ধগোকুলের বিষ্ঠা থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কফি উৎপাদন হয়


স্থানীয় এলাকায় ভাম বা গন্ধগোকুলের উৎপাত নিয়ে বন দপ্তরে খবর দেন। এদের দেখলেই মেরে ফেলাই এক রকমের রীতি। আপনার বাড়ির পিছনের পরিত্যক্ত জমিটিতেও ভামের বাসা থাকতে পারে। কিন্তু আমরা বলি কি, বাড়িতে এ বার দু-চারটে পুষেই ফেলুন। আপনার কোটিপতি হওয়া আটকায় কে!


কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে জানাই, বিশ্বের সব থেকে দামি কফি ভামের বিষ্ঠা থেকে তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়ার কারণে সবাই এই কফিকে ‘কোপি লুওয়াক’ বলে চেনে। যার এক কাপের দাম প্রায় ৫০ মার্কিন ডলার। ভারতও পিছিয়ে নেই। কর্নাটকে এই ধরনের অনেক কফি ফার্ম রয়েছে। এমনই এক ফার্মের মালিক টি এস গণেশ। তাঁর ফার্মেই অনেকগুলো ভাম পোষা হয়।


কিন্তু ভামই কেন?


বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভাম বিড়াল সব থেকে ভালো কফি চেনে। তারা বেছে বেছে সব থেকে পাকা কফি গুলো খেয়ে নেয়। কিন্তু কফি বিন গুলি হজম করতে পারে না। ফলে তা বিষ্ঠার সঙ্গে বেরিয়ে আসে। কিন্তু আসার আগে তাদের এনজাইমের সঙ্গে মিশে এই অসাধারণ কফির জন্ম দেয়। এর জন্যই কফিতে চকোলেট বা ক্যারামেলের একটি ফ্লেভার আসে। গণেশের এই কফি ব্র্যান্ডের নাম ‘কারি বেক’। তিনি ১ কেজি কফি ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তিনি জানান, ‘আমার বেশির ভাগ খরিদ্দারই বড় বড় হোটেল ব্যবসায়ী। বিশেষ অতিথিদের আপায়নের জন্য এই কফি কেনেন।’


এইজ অফ ইউরোপিয়ান ডিসকভারি - ১


#১৮২৪
মিশরের ফারাও দ্বিতীয় রামসিসের কফিন যেদিন প্রথম খোলা হয়,সেদিন তার মমির ভেতর দুটো অদ্ভুত জিনিস পাওয়া যায়।এই দুটো জিনিসের সেখানে থাকার কথা ছিল না।
জিনিস দুটো হল তামাক আর কোকোয়া।
আজ থেকে সাড়ে পাচশো বছর আগে ইউরেশিয়া বা আফ্রিকার কোথাও এই দুটো জিনিস ছিল না।তাহলে এই দুটো জিনিস সাড়ে তেত্রিশ শো বছর আগে মিশরে গেল কিভাবে??
¥ ¥ ¥
সাড়ে তিন হাজার বছর পুরানো এক সভ্যতা ছিল মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অংশে।নাম ওলেমাক।
এই সভ্যতার বাসিন্দাদের নাক অদ্ভুত রকম থ্যাবড়া,দাতের সামনের পাটি উচু,কপালটাও উচু থেকে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে গেছে,অনেকটাই আফ্রিকানদের মত।
কিন্তু সাড়ে তিন হাজার বছর আগে কোন আফ্রিকান লোক সেখানে গেছে বলে জানা যায় নাই।অন্তত লিখিত কোন প্রমান নাই।
মেক্সিকোতে জিনোনি নামে একটা ট্রাইব আছে।এদের জেনেটিক প্রোফাইল টেস্ট করে পিউর জাপানিজ বেশ কিছু জিন পাওয়া গেছে।জিনোনিরা মেক্সিকান অন্যান্য ট্রাইব থেকে সম্পুর্ন আলাদা,তাদের চাল চলন ও আচার আচরনই শুধু নয়,আকার আকৃতিতেও।
¥ ¥ ¥
১৮৮২ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণ পশ্চিমে একটা খাল খননের সময় শ্রমিকেরা ২৫টি মুদ্রার সন্ধান পায়,মুদ্রার গায়ে লেখা হিজিবিজি ভাষা পড়ার ক্ষমতা তাদের ছিল না।
একটু একটু করে সেই খবর পোছাল খনন কারীদের সাথে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক
ের কাছে।
তিন বছর পর জানা গেল এগুলো চীনা রাজবংশ শাঙ ডাইন্যাস্টির সম্রাট হুঙেটির মুদ্রা।
সম্রাট হুঙেটির রাজত্বকাল ছিল কবে শুনলে আশ্চর্য হতে হয়।
খ্রিস্টপুর্ব ২৬০০অব্দে,আইমিন আজ থেকে ৪৬০০ বছর আগে,যখন গিজাতে ফারাও খুফু পিরামিড বানাচ্ছিলেন,তখনকার কথা।
¥ ¥ ¥
মানুষ কখনই এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকার মত সুশীল প্রাণী ছিল না।
পৃথিবীর বুকে পা রাখার পর থেকেই সে ঘুরে বেড়িয়েছে এখান থেকে ওখানে,বারবার চিনতে চেয়েছে অজানাকে।
আফ্রিকা বা আরব উপদ্বীপের কাছাকাছি কোথাও থেকে মানুষের ওই যাত্রার শুরু বলে বিজ্ঞানীরা ধারনা করে থাকেন।
সভ্য হবার পর প্রত্যেক সভ্যতাই চেষ্টা করেছে নিজেদের সভ্যতার কথা পৃথিবীর অন্যান্য অংশে নিয়ে যেতে।
আমেরিকা আবিষ্কারের যে গল্প এখন আমাদের শোনানো হয় তা কোনভাবেই আমেরিকা অবিষ্কারের প্রথম গল্প না।সেই গল্পটা বড়জোর প্রথমবারের মত আমেরিকাকে কলোনী বানানোর গল্প।
তার আগে বহুবার দুঃসাহসী মানুষেরা আমেরিকায় গেছেন।
নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের এই রেসে সম্ভবত পাইওনিয়ার ছিল চাইনিজরা।
চাইনিজরা এখন পর্যন্ত দাবি করছে মিং ডাইন্যাস্টির অ্যাডমিরাল ঝেং হোর কথা,কিন্তু ঝেং হো আমেরিকাতে পৌছেছেন তার কোন প্রমান সরাসরি দেয়া সম্ভব হয় নাই।
ঝেং হো একজন মুসলিম ছিলেন।
তার আগেও মুসলিমরা বারবার চেষ্টা করেছে অসীম আটলান্টিক পাড়ি দিতে।এদের মধ্যে একজনের নাম ইতিহাসে পাওয়া যায়,নাম খাসখাস ইবনে সাইদ ইবনে আসওয়াদ,তার সম্পর্কে আল মাসউদী নবম শতাব্দীতে লিখেছেন তিনি আটলান্টিক পেরিয়ে ওপারে গিয়েছিলেন এবং তারপর,সেই দেশ থেকে জাহাজ বোঝাই করে প্রচুর ধনসম্পদ নিয়ে এসেছিলেন।আল মাসউদী এই কথা লিখেছেন ৮৮৯ সালে,তার বই মুরুয আদ দ্বোয়াহাব ওয়াল মাদিন আল জাওহারে,কর্দোবার খলিফা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদের আমলে।
এই দুজনের মাঝখানে চাপা পড়ে গেছে পৃথিবীর সবচাইতে বড় অ্যাডভেন্ঞারার সম্রাঠের কথা।
মালি সাম্রাজ্যের নাম যারা শুনেছেন তারা অবশ্যই জানেন ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীতে পৃথিবীর সবচাইতে সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য ছিল মালি সাম্রাজ্য।পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে সম্পদশালী ব্যক্তি বলা হয় এই সাম্রাজ্যের সম্রাট মানসা মুসাকে।
মানসা মুসার চাচা দ্বিতীয় আবুবকর এতই অ্যাডভেন্ঞার প্রিয় ছিলেন যে তিনি একবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি আটলান্টিক মহাসাগর কোথায় শেষ তা দেখে ছাড়বেন।
এই সিদ্ধান্ত ঠিক রাখতে গিয়ে তিনি নিজের সিংহাসন ছেড়ে চারশো জাহাজের এক বহর নিয়ে বেরিয়ে পড়েন পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল থেকে সোজা পশ্চিমে,সাত বছর পর তিনি ফিরে আসেন,চারশো জাহাজের মধ্যে কেবল একটি নিয়ে,কিন্তু তাতে তিনি অনেক সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে এসেছিলেন।
কিন্তু এরাই আমেরিকার মাটি ছোয়া পুরানো দুনিয়ার প্রথম সভ্য মানুষ নন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়াতে পাওয়া চীনা সম্রাটের মুদ্রা,ফারাওয়ের মমিতে পাওয়া তামাক আর কোকোয়া এবং ওলেমাক সভ্যতা ও জিনোনি উপজাতির মানুষের দৈহিক গড়ন,এই তিনটি বিষয় আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দেয়,হাজার হাজার বছর আগে থেকেই মানুষ পুরানো পৃথিবী থেকে নতুন পৃথিবীতে আসা যাওয়া করছে।
খ্রিস্টান ইউরোপ বা মুসলিম মধ্যপ্রাচ্য থেকে নয়,মানুষের আমেরিকার টিকিট কাটা শুরু হয়েছিল জাপান,চীন বা আফ্রিকার কোন কালো মানুষের মাধ্যমেই।
অথবা,শুরুটা পলিনেশিয়ান নাবিকদের দিয়েও হতে পারে,প্যাটাগোনিয়ার মালভুমিতে একবার দুটো মুরগির শুকনো হাড় পাওয়া যায়,কার্বন টেস্ট করে পাওয়া গেছিল,মুরগি দুটো সেখানে এসেছে অন্তত তিন হাজার বছর আগে,এবং সেগুলো পলিনেশিয়ান বনমুরগি।
আমেরিকা আবিষ্কারের পেটেন্ট তাই ইউরোপিয়ান এক্সপ্লোরার বা ইসলামিক মুবাল্লিগ কারোরই প্রাপ্য নয়,সেটা বরং পেতে পারেন কোন আফ্রিকান বা পলিনেশিয়ান নাবিক বা চাইনিজ অভিযাত্রী।
কিন্তু তাদের দুটো ঘাটতি ছিল।
এক নম্বর ঘাটতি ছিল,তারা ঐ জায়গাগুলোকে কলোনাইজ করতে পারেন নি।
দুই নম্বর ঘাটতি হল,তারা কখনোই আসা যাওয়ার রাস্তাকে নেভিগেশন চার্টে নিয়ে আসতে পারেন নি।খাসখাস ইবনে সাইদের চার্ট নাকি ছিল,কিন্তু হালাকু খানের হাতে বাগদাদের বাইতুল হিকমাহ ধ্বংসের সাথে সাথে সেটাও হারিয়ে গেছে।
তাই, ১৪৯২ সালে কলম্বাস যখন আমেরিকা আবিষ্কার করেন,তখন একটা নতুন যুগের শুরু হয়।তিনি শুধু গিয়ে ফিরে আসেন নি,আসা যাওয়ার পুরো পথ নেভিগেশন করে খুলে দিয়েছেন অজানাকে জানার স্থায়ী পথ।
সেই সাথে তিনি জন্ম দিয়েছেন দুটো
শব্দের,কলোনাইজেশান আর গ্লোবালাইজেশান।
ভু-গোলকটা কিভাবে ইউরোপের হাতের মুঠোয় ঢুকলো,সেই গল্পের শুরুটা এখানেই।

 

উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ...

হাচিকো - যে কুকুরটি তার মনিবের জন্যে অপেক্ষা করেছিলো দশটি বছর


ochanahemaloy-1494775943-99c0ff2_xlargeপ্রাণীদের মধ্যে কুকুর সহজেই মানুষের পোষ মানে এবং অল্পদিনের মধ্যেই অনুগত হয়ে উঠে। কুকুরের বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্যের অসংখ্য উদাহরণ আছে। তবে তার মধ্যে এমন একটি উদাহরণের কথা আজ তুলে ধরবো, যা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে।
.
১৯২৪ সালে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক একটি ‘আকিতা’ কুকুর পালবার জন্যে নেন এবং কুকুরটির নাম রাখেন ‘হাচিকো’। আকিতা কুকুরগুলো খুব সহজেই পোষ মানে। হাচিকোও ব্যতিক্রম ছিলো না। খুব সহজেই সে তার মনিবের কাছের বন্ধুতে পরিণত হয়। প্রতিদিন কুকুরটি তার মনিবের বাড়ি ফেরার সময় হলে ট্রেন স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করতো, আর বাড়ি ফিরতো তার মনিবকে নিয়ে।
.
এভাবেই চলতে থাকলো। কিন্তু ১৯২৫ সালের মে মাসের একদিন যথারীতি একই সময়ে স্টেশনে গিয়ে হাচিকো দেখতে পায় তার মনিব ফিরেনি। ফেরার কথাও না অবশ্য তার মনিবের। কারণ, ক্লাসে লেকচার দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন যে তিনি!
.
মনিব আর ফিরবেন না, অবুঝ প্রাণী হাচিকো সেটা বুঝতে পারেনি। তাইতো তার মনিবের মৃত্যুর পরেও প্রতিদিন সে একই সময়ে স্টেশনে যেতো আর অপেক্ষা করতো- তার মনিব হয়তো ট্রেনে করে আসবে, আর তাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরবে। এভাবে মনিবের মৃত্যুর পরেও প্রায় দশ বছর হাচিকো প্রতিদিন একই সময়ে স্টেশনে এসে তার মনিবের জন্যে অপেক্ষা করেছিলো, যা সবাইকে অবাক করে দেয়।
.
১৯৩২ সালে একজন সাংবাদিক হাচিকোকে নিয়ে সংবাদপত্রে নিউজ ছাপার পর সবাই ঘটনাটি জানতে পারেন। অনেকে স্টেশনে এসে হাচিকোকে দেখে যান, আবার অনেকে তার জন্যে খাবার নিয়ে আসেন। হাচিকো জাপানে ধীরে ধীরে সবার কাছে বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের প্রতীক হয়ে উঠে। তাকে নিয়ে তৈরি হয় ভাস্কর্য, চলচ্চিত্র; লেখা হয় বই। এভাবে হাচিকোর ঘটনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
.
.
আরো জানতে - Click This Link
হাচিকোর উইকিপিডিয়া পেইজ - https://en.wikipedia.org/wiki/Hachikō

ইংলিশ চ্যানেলের পানি


যুক্তরাষ্ট্রে সর্দি লেগে বন্ধ হওয়া নাকের দাওয়াই হিসেবে বিক্রি হচ্ছে বিখ্যাত ইংলিশ চ্যানেলের পানি। সেন্ট মালোর উপকুলের কাছে জাহাজ চলাচলের ব্যস্ত নৌপথ এ চ্যানেল থেকে পানি আহরণ করা হচ্ছে। এ পানি বিক্রেতা ওষুধ কোম্পানি শেরিং-প্লাউ জানায়, তাদের আফরিন পিওর সি হাইড্রাটিং নাজাল রিঞ্জ একমাত্র বন্ধ নাক খোলার ওষুধ, যেখানে শতভাগ বিশুদ্ধ পানি রয়েছে। শেরিং-প্লাউয়ের দাবি, এ পানি নাকের শ্লেষ্ক্না পরিষ্ককার ও শ্বাস টানা সহজ করতে বেশ কাজের, আর এরই মধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে।

সিগারেটের ইতিহাস এবং মানুষ কেন সিগারেট খায় ?


মানুষ কেন সিগারেট খায় ? আজব প্রশ্ন ! এ প্রশ্নের উত্তর নিজের মত করে দেবো । আগে সিগারেটের ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নেয়া আবশ্যক !

ইউরোপিয়ানদের মধ্যে বিখ্যাত নাবিক এবং আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাসই প্রথম তামাক গাছ দেখেন। ১৪৪২ সালে কলম্বাস যখন সান সালভাদরে গিয়ে পৌঁছান তখন সেখানকার আদিবাসীরা মনে করেছিলো কলম্বাস ঈশ্বর প্রেরিত স্বর্গীয় জীব! তারা কলম্বাসকে উপহার স্বরূপ কাঠের তৈরি যুদ্ধাস্ত্র, বন্য ফলমূল এবং শুকনো তামাক পাতা দিয়েছিলো। অন্যান্য উপহার গুলো নিলেও কলম্বাস ধূমপান না করে তামাক পাতা গুলো ফেলে দিয়েছিলো।
ঠিক ঐ বছরই আরেকজন ইউরোপিয়ান রডরিগো ডি যেরেয (Rodrigo de Jerez) কিউবায় গিয়ে পৌঁছান এবং ইউরোপিয়ান হিসাবে তিনিই প্রথম ধূমপান করেছিলেন। রডরিগো ডি যেরেয ছিলেন স্পেনের নাগরিক। পরবর্তীতে স্পেনে ফিরে গিয়ে তিনি জনসম্মুখে ধূমপান করে মানুষজনকে চমকে দিতেন। এক জন মানুষের নাক এবং মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে এটা দেখে সাধারন মানুষ ভড়কে যেত। একটা সময় অনেকেই ভাবতে শুরু করে যে রডরিগো ডি যেরেযের উপর শয়তান ভর করেছে। তাই রডরিগোকে ৭ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়! কারাগারে রডরিগোর সাথে থেকে অনেকেই ধূমপান শুরু করেন।

তামাক এবং পাইপের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। একসময় জন্ম হয় সিগারেটের। সিগারেট আস্তে আস্তে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠে।

১৮১৫ সালে সিগারেট ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়। এমনকি দি হাউস অফ পার্লামেন্টেও সিগারেট খাওয়ার জন্য আলাদা রুম করা হয়।
১৮২৮ সালে নিকোটিনের পিওর ফর্ম আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। কিছুদিনের মধ্যেই সবাই বুঝতে পারে এটা মারাত্মক বিষ!
১৮৫২ সাল থেকেই ধূমপান করার সুবিধার্থে ম্যাচ বা দিয়াশলাই এর প্রচলন হয়।
১৮৫৬ সালে ক্রিমিয়ান যুদ্ধ ফেরত সৈন্যরা তুর্কি থেকে সিগারেট নিয়ে আসে। সৈনিকদের মাঝে সিগারেট অনেক জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। অলসতা এবং বিষাদ দূর করার জন্য তখন সৈন্যদেরকে নিয়মিত সিগারেট সরবরাহ করা হতো।
১৮৬৫ সালে আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার ওয়াশিংটন ডিউক নামের এক ব্যাক্তি প্রথম সিগারেট রোল করে বিক্রি করা শুরু করে।
১৮৮৩ সালেজেমস বনস্যাক প্রথম সিগারেট রোল করার মেশিন আবিষ্কার করেন। এই মেশিন দিয়ে দিনে ১০০০ সিগারেট তৈরী করা যেত। বনস্যাক একটা সিগারেট কোম্পানী শুরু করেন যার নাম ছিলো আমেরিকান টোবাকো কোম্পানী। বনস্যাকের মেশিন সিগারেট শিল্পে বিপ্লবের সূচনা করে। তামাক চাষ এবং সিগারেট প্রস্তুত প্রক্রিয়ার উন্নতির সাথে সাথে সিগারেট ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় আর্মিদের রেশনের সাথে সিগারেটও যুক্ত করা হয়।
১৯৫০ সালে সিগারেটের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে প্রথম প্রচারনা শুরু হয়। এই সময়ই ধূমপান এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করা হয়। ড. ওয়াইন্ডার এবং ড. গ্রাহাম একটি গবেষণায় দেখান যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৯৫% মানুষই ২৫ বছর বা তার বেশী সময় ধরে ধূমপানে আসক্ত।

এবার আশা যাক কেন মানুষ সিগারেট খায় এ প্রসঙ্গে ! বেশিরভাগ কিশোর বা যুবক সিগারেট খায় হতাশার কারনে। নিজেকে কষ্ট দিয়ে তারা আনন্দ পেতে চায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা নিয়মিত সিগারেট খায় , তাদের জীবনে একটা খারাপ অতীত থাকে। অতীতের কষ্ট বাষ্প করে দিতে সিগারেটে টান ধরায়। আদৌ কি কষ্ট লাঘব হয় ? সম্ভবত না। আবার এক ধরনের মানুষ সিগারেট খায় শখের বশে ! তাদের ধারনা সিগারেট না খেলে স্মার্ট হওয়া যায় না। যাই হোক , যারা সিগারেট খায় তারা এক সময় আফসোস করে। যদি আপনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে থাকেন , তবে বলব হতাশা কাটাতে বই পড়েন , ঘুরতে যান , ধর্মীয় কাজে লিপ্ত হন। সিগারেট খাবার দরকার কি ! আর যদি আপনি শখের বশে সিগারেট খান , তবে বলব আপনি ভুলের জগতে আছেন। কিছু কিছু লোক আছেন যারা এ খারাপ ত্যাগ করতে চাচ্ছেন কিন্তু পারছেন না। তাদের উচিত হবে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা। আমাদের সমাজেরও কিছু সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি। কোন কিশোর সিগারেট খেলে তাকে ঠেলে দেয় নষ্টের কাতারে। সিগারেট খেলে ফুসফুসের ক্ষতি হয় , চরিত্রের কি হয় ! এ দেশে একজন লম্পট চরিত্রের ছেলের থেকে একজন সিগারেটখোর ছেলেকে বেশি ঘৃণার চোখে দেখা হয়। প্রকৃতপক্ষে এই মনোভাবও তাদের সিগারেট খেতে উদ্বুদ্ধ করে। আমি সিগারেট খাওয়াকে সমর্থন করি না। মাত্র অল্প কটাদিন আমরা বাচিঁ। দুঃখ কষ্ট তো থাকবেই ! সিগারেট কখনই দুঃখ লাঘবের হাতিয়ার হিসেবে গন্য হতে পারে না।আরেকবার ভাবুন ! আপনার জীবনের গল্প আপনার হাতে। সুন্দর করে গড়ুন জীবনটা। বেদনাকে এত গাঢ় করে কি লাভ ! জীবনানন্দ দাসের এই কবিতাটা পড়েছেন , " কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে ! "

 

উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ..

জীবনানন্দের কাকাতো বোন শোভনা ছিলেন বনলতা সেন


বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী চরিত্র বনলতা সেন। সুদীর্ঘকাল সকলের ধারণা ছিলো বাস্তবে বনলতা সেন বলে কারোর অস্তিত্ব নেই। ‘বনলতা সেন’ কেবলই কবির কল্পনা। না, বনলতা কবির ভাবনা পটে আঁকা কোনো ছবি নয়। বনলতা বাস্তবেরই এক চরিত্র। যে কিনা কবির মানসজগতকে প্রভাবিত করতে সমর্থ হয়েছিল। কবির ইংরেজিতে লেখা দিনলিপি ’লিটারেরি নোটস’-এ ‘ওয়াই’ হিসেবে চিহ্নিত মেয়েটি ‘শোভনা’-ই বনলতা সেন বলে পাঠোদ্ধার করেছেন জীবনানন্দ গবেষক ও জীবনানন্দের রচনাবলীর সম্পাদক ভূমেন্দ্র গুহ। যার সঙ্গে প্রথম যৌবনেই পরিচয় হয়েছিল কবির। সম্পর্কে তিনি কবির কাকাতো বোন। জীবনানন্দের কাকা ফরেস্ট অফিসার অতুলান্ত দাশের মেয়ে শোভনা। যার ডাক নাম বেবী। জানা গেছে, ১৯৩৩ সাল অর্থ্যাৎ কবির বয়স যখন চৌত্রিশের কোঠায় তখন শুধু শোভনা নয়, কবি আরো তিনটি মেয়ের প্রেমে পড়েন। শোভনাকে তিনি ভালোবেসেছেন ঠিকই কিন্তু জীবনসঙ্গী করতে চাননি। কেননা যখন লাবণ্য দাশের সঙ্গে কবির বিয়ের কথা পাকাপাকি তখনও কবি কোনো অনিচ্ছা প্রকাশ করেননি। অথচ বিয়ের আগে থেকেই তিনি শোভনাকে ভালোবাসতেন। শোভনা যখন বেনী দুলিয়ে হাঁটতেন আর অদ্ভূত বিস্ময়ে মিলুদা মানে কবির কবিতা শুনতেন তখন থেকেই কবির সঙ্গে শোভনার ভাব তৈরি হয়। আর ১৯৩৩ সালেই বনলতা সেন কবিতাটি লেখা হয়। কবির মৃত্যুর পর বুদ্ধদেব বসুর কবিতা পত্রিকার পৌষ ১৩৪২ সংখ্যায় (১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে) কবিতাটি প্রকাশিত হয়। শোভনাকে নিয়ে কবির বনলতা সেনই প্রথম লেখা নয়। এর আগে কারুবাসনা নামে যে উপন্যাসটি লেখেন তাতেও অকপটে শোভনা প্রসঙ্গ ব্যক্ত করেন। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ শোভনাকে উৎসর্গ করেছিলেন। তৎকালীন রক্ষণশীল পরিমণ্ডলে বাড়ির অভিভাবকদের নির্দেশ উপেক্ষা করে ডিব্র“গড়ে শোভনাদের বাড়িতে দরজা বন্ধ করে জীবনানন্দ শোভনাকে কবিতা শোনাতেন। বরিশাল ছেড়ে কলকাতায় কবি যখন সিটি কলেজে শিক্ষকতা করছেন তখন শোভনা ডায়োসেশান কলেজে পড়ছেন। এ সময় (১৯৩২ এর আগস্টে) তিনি উপন্যাস লিখলেন ‘কলকাতা ছাড়ছি’। উপন্যাসের নায়িকা শচীও ডায়োসেশানে পড়ে। এছাড়া ‘গ্রাম ও শহরের গল্প’ উপন্যাসটির নায়িকা শচী- জীবনানন্দের শোভনাই। লিটেরেরি নোটস-এ লেখা আছে ওয়াই = শচী। ধারণা করা হয় ‘প্রেম’ কবিতাও তিনি শোভনাকে নিয়ে লিখেছেন।

 

উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ..

মুর্শিদ কুলি খান এর কন্যা আজিমুন্নেছার জীবন্ত সমাধি


বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদ কুলি খান এর কন্যা ছিলেন আজিমুন্নেছা বেগম। জনশ্রুতি রয়েছ, কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় নবাবি হেকিম দৈনিক একটি মানবশিশুর কলিজা দিয়ে ওষুধ তৈরি করে দিতেন। অসুখ সেরে গেলেও তিনি মানবশিশুর কলিজায় নেশাগ্রস্ত হয়ে গোপনে নিয়মিত ভাবে শিশুদের কলিজা খেতে থাকেন। এই ঘটনা মুর্শিদকুলি খাঁ জানতে পেরে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার নির্দেশ দেন। মুর্শিদাবাদ ঘুরতে গিয়ে টাঙ্গার (এক ঘোড়া চালিত গাড়ি) চালকের কাছে এমন মিথ শুনে সত্যিই চমৎকৃত হয়েছিলাম। একতলা পাকা মঞ্চের উপর মসজিদে উঠার সিড়ির নিচে আজিমুন্নেসার সমাধি। মঞ্চের উপরিভাগে বাম পাশে একটা দেয়াল ছাড়া মসজিদের আর কোন চিহ্ন বর্তমানে নাই। কথিত আছে সাধারণ মানুষের পদধূলিতে তার শিশু হত্যার পাপ মোচনের জন্য মসজিদে উঠার সিড়ির নিচে তাকে জীবন্ত সমাহিত করা হয়।

 

উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ...

যুক্তরাষ্ট্রে যৌনতা সম্পর্কিত কিছু অদ্ভূত আইন!


পৃথিবীতে আইনের প্রকারভেদ কত, তা বলা আসলে মুশকিল। বিভিন্ন দেশের আইন-কানুন বিভিন্ন রকম। আবার আইনের মধ্যে রয়েছে নানান রকমফের। দেশ ভেদে রয়েছে মজার ও অদ্ভূত আইনও। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে যৌনতা নিয়ে রয়েছে এমন কিছু অদ্ভূত আইন।
আলাবামা
পরিবারের সদস্যকে বিয়ে করা আইন সিদ্ধ।
আরকানসাস
কাউকে নিজের দিকে আকর্ষন করা এবং কামুক দৃষ্টি নিয়ে কারো দিকে তাকানোর কারনে হতে পারে ৩০ দিনের জেল।
টেনেসি
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একে অপরের হাত ধরার অনুমতি নেই।
নিউইয়র্ক
বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক বেআইনী।
মিশিগান
নিতম্বের অন্তর্বাস দেখা যায় এমনভাবে পোশাক পরা বেআইনী।
ওয়াশিংটন
আপনার গাড়িতে কোন যৌন কর্মীকে তার কর্মস্থলে পৌছে দিলে বাজেয়াপ্ত হতে পারে আপনার গাড়ি।
জর্জিয়া
সকল ধরনের যৌন খেলনা বেআইনী।
ক্যালিফোর্নিয়া
প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো পুরুষের নারীর পোশাক পরিধান করার উপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
আলাস্কা
শহরের রাস্তায় হরিনের যৌন মিলন অবৈধ। যদি এরকম কিছু আপনার চোখে পড়ে তবে পুলিশকে ফোন দিলে তারা এসে গ্রেফতার করবে হরিন যুগলকে।
নেবরাস্কা
গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে আপনার জন্য বিয়ে করা বেআইনী এ রাজ্যে।
সাউথ ক্যারোলিনা
আপনি যদি কোন নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে ঘুমান তবে তাকে বিয়ে করা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক।
আইওয়া
পাঁচ মিনিটের বেশিক্ষণ জনসম্মুখে চুমু খাওয়া অবৈধ।
ইন্ডিয়ানা
জনসম্মুখে পুরুষের কামুক দৃষ্টিভঙ্গি দেখানো বেআইনী।



উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ...

ভুট্টার অজানা কিছু পুষ্টিগুণ


ভুট্টা, অতি সাধারণ একটি খাবারের নাম। সহজে চাষযোগ্য হওয়ায় বাংলাদেশে এর ফলন উল্লেখ করার মতো। ভুট্টার দাম হাতের নাগালে থাকায় এর বহুবিধ ব্যবহার চোখে পড়ে। শীতের এই সময়টাই বেবিকর্ণ বা ছোট ভুট্টা তরকারি, পরিপক্ক কাঁচা ভুট্টা পুড়িয়ে খাওয়াসহ ভুট্টার আটা নানা সুস্বাদু রান্নায় ব্যবহার হয়।


ভুট্টার আটার রুটি খাওয়ার প্রচলন আছে অনেক জায়গায়। উচ্চ মাত্রায় পুষ্টি সমৃদ্ধ এ খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি। তবু আজ জেনে নেব চেনা ভুট্টার অজানা কিছু পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।


* ভুট্টা উচ্চ শর্করা সমৃদ্ধ। অনেকেই তাদের দেহের শক্তি বৃদ্ধির জন্য ভুট্টাকে বেশি প্রাধান্য দেন। সকালের নাস্তায় ভুট্টাজাত খাবার খেলে সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টির যোগান নিশ্চিত হয়।


* ভুট্টাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ ও ভিটানের উৎস হিসেবেও ধরা হয়। এতে আছে উচ্চমাত্রার আয়রণ ও ম্যাঙ্গানিজ। আপনার দেহে অনাকাঙ্ক্ষিত জীবানু প্রবেশে বাধা দিয়ে শরীরকে রাখবে সুস্থ-সবল।


* ভুট্টার তেলে প্রচুর পরিমানে এ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। পশু চর্বির মতো কোনো প্রকার ক্ষতিকারক দিক এই তেলে নেই। দেহের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভুট্টার তেলের তুলনা হয় না।


* এককাপ রান্না করা ভুট্টায় পাবেন ১৭৮ কিলো ক্যালোরি শক্তি। দিনভর সবল থাকতে প্রতিদিন সকালে খেতে পারেন ভুট্টা জাত খাবার। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ভুট্টার তৈরি খাবার খান তাদের শরীরে অতি উচ্চ মাত্রার ক্যালরি জমা থাকে। উদাহরণ হিসেবে আফ্রিকানদের কথা বলা যেতে পারে। তাদের প্রাধান খাদ্য ভুট্টাজাত বলেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে গবেষকদের ধারণা।


* ভুট্টা পটাশিয়ামের একটি আদর্শ উৎস, অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধিকারী সোডিয়ামের পরিমাণ আছে খুবই কম পরিমাণ।


* ভুট্টায় পাবেন পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন ‘কে’। আমাদের দেশের বয়স্ক নারীদের কোমরের হাড় ক্ষয়ে যাওয় অতি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধে দারুন কার্যকর ভিটামিন ‘কে’। তাই নিজেদের সুস্থ রাখতে প্রত্যেক নারীই ভুট্টাজাত খাবার খেতে পারেন।


* ভুট্টায় ভিটামিন বি১২ রয়েছে যা নতুন রক্তকোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এতে রক্তস্বল্পতা দূর হয়।


* ভুট্টার ভিটামিন ‘এ’ চুলের হারিয়ে যাওয়া কোমলতা ফিরিয়ে এনে চুলকে আরও উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর করে তোলে। এছাড়া দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতেও সাহায্য করে।


* ভিটামিন এ, সি ও লাইকোপিন ত্বককে উজ্জ্বল করে ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূরে রাখে।


* ভুট্টা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে।


যৌনতায় সবচেয়ে বিপজ্জনক পজিশনে হলো ‘কাউগার্ল’


যৌন মিলনের সময় নারীর ওপরে থাকা অনেকের কাছেই আনন্দদায়ক হলেও নতুন গবেষণা তথ্যানুযায়ী, এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।


গবেষণার তথ্যানুযায়ী, মিলনের সময় নারী ওপরে থাকলে ভেঙ্গে যেতে গোপানাঙ্গের হাড়। সম্প্রতি ব্রাজিলের গবেষকদের প্রকাশিত অ্যাডভান্সেস ইন ইউরোলজি-তে প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে জানা গেছে এ তথ্য।


গবেষকদের মতে যৌনতায় সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থান হলো ‘কাউগার্ল’ নামে পরিচিত একটি পজিশন। অনেকে একে ‘হর্সরাইডিং’-ও বলে থাকেন। এ পজিশনে নারী ওপরে থাকে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘কাউগার্ল’ পজিশনে যৌনতার সময় আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এ অবস্থানে পুরুষাঙ্গের হাড় ভাঙার সম্ভাবনাও সবচেয়ে বেশি থাকে।


কাউগার্ল পজিশনে মূল সমস্যাটি হয় নিয়ন্ত্রণের ওপর। এ ক্ষেত্রে নারীর দেহের ওজন পুরুষাঙ্গের ওপর পড়ে, যার ফলে অনেক সময় সঠিকভাবে চাপ প্রয়োগ হয় না। ফলে এদিক-ওদিক হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। অন্যদিকে সাধারণভাবে প্রচলিত যৌনতার আসনগুলো কিছুটা নিরাপদ। বিশেষ করে যে আসনে পুরুষের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে, তাই একে নিরাপদ বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


যৌনতার সময় যেসব আঘাত পাওয়ার ঘটনা ঘটে, সেগুলো এ গবেষণায় তালিকাবদ্ধ করা হয়। গত ১৩ বছরের পরিসংখ্যান এতে বিবেচনা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আঘাতের ঘটনা ঘটে কাউগার্ল পজিশনে। এ অবস্থানে প্রায় অর্ধেক আঘাত পাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপরের অবস্থান রয়েছে বহুল প্রচলিত ‘ম্যান অন টপ’ অবস্থান। এ অবস্থায় যৌনতায় ২১ ভাগ আঘাত পাওয়ার ঘটনা ঘটে।


যৌনতায় আঘাত পাওয়াদের গড় বয়স ৩৪ বছর। প্রাথমিকভাবে এ সমস্যায় পতিত ব্যক্তিরা হাড় ভাঙার মতো শব্দ ও যন্ত্রণার কথা জানান। এরপর সাধারণত ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তখন তারা চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন।


Tuesday, November 7, 2017

কানাডায় বেড়ানোর সেরা কয়েকটি স্থান



কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। পূর্বে আটলান্টিক ও পশ্চিমে প্যাসিফিক এই দুটি মহাসাগর থেকে শুরু করে পশ্চিমের বিস্তির্ণ পাহাড়ী এলাকাসহ আরো বহু কিছুই আছে দেশটিতে দেখার। আছে নদী, আছে সুবিশাল বন। অন্টারিওর উত্তরে আছে হাডসন উপসাগর। চার ঋতুতে কানাডার রূপ বদলায় চার রকম। তীব্র শীত থেকে তীব্র গরম সবই অনুভব করা যায় এখানে।
কানাডায় এখন সামার। মাত্র অল্প সময়ের জন্য তার স্থায়িত্ব। সময় ও সুযোগ থাকলে এই অল্প সময়ের মধ্যেই বেড়ানোর কাজটি সেরে নিতে পারেন। ডলারের মান পড়ে যাওয়াতে দেশের বাইরে বিশেষ করে আমেরিকায় বেড়াতে যাওয়ার চেয়ে কানাডার অভ্যন্তরে বেড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
পশ্চিমের সুদর্শন শহর ভেঙ্কুভার, মন্ট্রিয়লের ওল্ড সিটি, কুইবেকের রাজধানী কুইবেক সিটিসহ অন্যান্য শহরগুলোর প্রত্যেকটির রয়েছে আলাদা আলাদা বৈচিত্র। কানাডার নাগরিকেরা বন্ধুবৎসল। দেশটিতে রয়েছে নিরাপত্তার গ্যারান্টি। সুতরাং নির্ভয়ে বেড়াতে যেতে পারেন দেশটির যে কোন প্রান্তে। নিচে জনপ্রিয় কয়েকটি পর্যটন স্থানের বর্ণনা দেওয়া হলো।
নায়েগ্রা ফলস
কানাডায় কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা মনে হলে প্রথমেই আসে নায়েগ্রা ফসল এর কথা। কানাডায় এবং পৃথিবীতেও সবচেয়ে বিখ্যাত কয়েকটি প্রাকৃতিক আকর্ষনীয় স্থানের মধ্যে এই নায়েগ্রা ফসল অন্যতম। কেউ কানাডায় বেড়াতে আসলেন আর নায়েগ্রা ফসল দেখতে গেলেন না এটি হতেই পারে না। নায়েগ্রা ফলস না দেখলে কানাডা দেখা হয় না। প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন পর্যটক আসেন কানাডায় শুধু এই ফলসটি দেখার জন্য।
নায়েগ্রা ফসল টরন্টো থেকে বেশী দূরে নয়। মাত্র এক থেকে সোয়া ঘন্টার ড্রাইভ। যারা প্রথমবার নায়েগ্রা ফলস দেখতে যান তাদের কাছে এটি বাকী জীবনের এক অভাবনীয় স্মৃতি হয়ে থাকে। নায়েগ্রা ফলসটি খুব কাছে থেকে দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে। শীপে করে অথবা সুরঙ্গ পথে নিচে নেমে খুব কাছে থেকে জলপ্রপাতের দৃশ্য দেখতে পারেন পর্যটকগণ। হেলিকপ্টারে উঠেও দেখা যেতে পারে জলপ্রপাতের দৃশ্য। নায়েগ্রা জলপ্রপাতটি কানাডা ও আমেরিকার বর্ডারে। তবে কানাডার অংশ থেকে জলপ্রপাতটি খুব ভাল করে দেখা যায়।
নায়েগ্রায় যারা রাত কাটাতে চান তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোটেলে থাকার সুব্যবস্থা।
নায়েগ্রায় আরো আছে মেরিনল্যান্ড। এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানারকম চিত্তাকর্ষক ও মজাদার খেলা ও প্রদর্শণীর আয়োজন। ডলফিনের মনোমুগ্ধকর খেলা, বিভিন্ন রাইডিং এ উঠার সুযোগ
আপনাকে দিবে দিনব্যাপী আনন্দ। বাচ্চাদের জন্য এটি ড্রিমল্যান্ড। দু/চার ঘন্টার ভ্রমণে আপনার পুষাবে না। সেখানে যেতে চাইলে সারাদিনের পরিকল্পনা নিয়ে যেতে হবে। মেরিনল্যান্ডে ফ্যামিলি পিকনিক করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গাও রয়েছে।
সামারে নায়েগ্রার বোটানিক্যাল গার্ডেনও দেখার মত। চারিদিকে প্রকৃতি তার অপার সৈন্দর্য অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে। ১৯৩৬ সালে পার্কটি গড়ে তোলা হয় ৯৯ একর জমির উপর।
নায়েগ্রাতে আরো আছে বাটারফ্লাই কনজারভেটরী পার্ক। এখানে প্রায় ৪৫ প্রজাতির প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়। অসাধারণ এক মোহনীয় দৃশ্য এটি। বাগানের ভিতর ঘুরে ঘুরে খুব কাছে থেকে এই দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

ব্যানাফ ন্যাশনাল পার্ক
প্রকৃতির কোলে যদি দিন কতকের জন্য নিজেকে সপে দিয়ে অপার শান্তি খুঁজে পেতে চান তবে একবার ঘুরে আসতে পারেন আলবার্টায় অবস্থিত ব্যানাফ পার্কে। পশ্চিমের রাজকীয় রকি মাউন্টেনের মাঝে অবস্থান এই ন্যাশনাল পার্কটি। একবার গেলে আর ফিরে আসতে মন চাইবে না এমনি রূপ এই পার্কের। কানাডার সবচেয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো এই পার্কেই অবস্থিত।
টরকুয়েসী সবুজ হ্রদ, বরফ আচ্ছাদিত সুবিশাল পাহাড়ের চূড়া, তুষার স্রোত সবই পাবেন এই অত্যাশ্চর্য পার্কটিতে যেখানে আপনি সহজেই প্রবেশ করতে পারবেন। এখানকার লুইসি হ্রদটি দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে একটি। এর সবুজ পানিতে চারপাশে অবস্থিত পাহাড়ের প্রতিচ্ছবি ফুটে থাকে স্ফটিক সচ্ছতায়। পর্যটকগণ হ্রদের চারপাশে ঘুড়ে বেড়াতে পারেন। পার্কটির একেবারে দক্ষিনে ক্ষুদ্র ব্যানাফ শহরটি অবস্থিত যেখানে থাকা খাওয়াসহ সবরকমের সুবিধা রয়েছে পর্যটকদের জন্য।



সি এন টাওয়ার
টরন্টো শহরের একটি প্রধান প্রতীক এর দৃষ্টিনন্দন ও চমকপ্রদ স্থাপত্য নিদর্শন সি এন টাওয়ার। গত ২৬ জুন ছিল এই টাওয়ারটির ৪০তম জন্মবার্ষিকী। লেক অন্টারিওর পাড় ঘিরে গড়ে উঠা কানাডার সর্ববৃহৎ শহর টরন্টোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই টাওয়ারটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু যে কয়টি টাওয়ার রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।  সি এন টাওয়ারের উচ্চতা ৫৫৩ মিটার। এই টাওয়ারে রয়েছে একটি ঘূর্ণ্যমান রেস্টুরেন্ট। এতে বসে অতিথি বা পর্যটকগণ খাবার গ্রহণের পাশাপাশি শহরের নজরকারা দৃশ্য অবলোকন  করতে পারেন। টাওয়ারে আরো আছে একটি গ্লাস ফ্লোর। এই ফ্লোরে দাড়িয়ে কাচের ভিতর দিয়ে সরাসরি নিচের দৃশ্য দেখা যায়। রাতের বেলা টাওয়ারটি বৈদ্যুতিক আলোর মাধ্যমে নানা রঙ্গে রাঙ্গিয়ে তোলা হয় যা দূরদুরান্ত থেকেও দেখা যায়।


কুইবেক সিটি
কুইবেকের রাজধানী কুইবেক সিটি। কানাডার কুইবেক সিটি সম্পর্কে একটি কথা প্রচলিত আছে। কথাটি এরকম যে, আপনি যদি এই শহরটি ঘুরে ঘুরে দেখেন তবে আপনাকে প্যারিস না দেখলেও চলবে। অবশ্য কুইবেক সিটিতে আইফেল টাওয়ার নেই। কিন্তু এর দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলো আপনাকে মুহূর্তের মধ্যেই নিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায় পাতায়। সেন্ট লরেন্স নদীর পার ঘিরে অবস্থিত কুইবেক সিটি কানাডার একটি খুবই জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা।
জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক এই শহরটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এর অংশ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কানাডার দশম বৃহত্তম শহর এটি এবং উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে পুরাতন শহরগুলোর একটি। লা সিটাডেলি (La Citadelle) দুর্গ এই শহরের ল্যান্ডমার্ক স্থাপনা। এখানে দেখার মত আরো রয়েছে কুইবেক পার্লামেন্ট ভবন। ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টস অব কুইবেক আরেকটি দর্শনীয় স্থান কুইবেক সিটির।
পর্যটকদের জন্য কুইবেক সিটিতে আরো আকর্ষন হলো এর উইন্টার কার্নিভাল, সামার মিউজিক ফেস্টিভাল  এবং সেন্ট জিয়েন ব্যাপ্টিস্ট ডে, মন্টোমরেন্সি জলপ্রপাত ও মন্ট সেইন্ট এ্যানি স্কি রিজোর্ট।

অটোয়ার পার্লামেন্ট হিল
কানাডার রাজধানী অটোয়াতে পার্লামেন্ট ভবন একটি দর্শনীয় স্থান। নদীর (অটোয়া রিভার) তীরে অবস্থিত এই ভবনটি পার্লামেন্ট হিল নামেই সর্বাধিক পরিচিত। ১৯ শতকের স্থাপত্য কলার একটি অসাধারণ নিদর্শন এই পালামেন্ট হিল। প্রতি বছর বহুসংখ্যক পর্যটক আসেন এই ভবনটি পরিদর্শনে। ওইকিপিডিয়ার হিসাবে দেখা যায় প্রতি বছর এখানে প্রায় তিরিশ লক্ষ পর্যটক আসেন। এখানে প্রতিদিন ফ্রি ট্যুর গাইড পাওয়া যায়। তবে ‘ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ’ পলিসির ভিত্তিতে এই ফ্রি ট্যুর গাইডের সেবা পাওয়া যায়। পার্লামেন্টে ভবনের পিস টাওয়ারে উঠার সুযোগও পাওয়া যেতে পারে যেখান থেকে অটোয়া সিটির মনোরম দৃশ্যাবলী অবলোকন করা যায়। পার্লামেন্ট ভবনকে কেন্দ্র করে প্রায় সারা বছরই কোন না কোন উৎসব লেগে থাকে। তবে সামারের অনুষ্ঠানগুলো হয় আরো জমকালো। ১লা জুলাই কানাডা ডে উপলক্ষে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে এখানে। ঐ দিন জমকালো ফায়ারওয়ার্কস সহ আরো নানা ধরণের উৎসব পালিত হয়। সামারে প্রতিদিন বিকেলে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক সাউন্ড এন্ড লাইট শো অনুষ্ঠিত হয় মিউজিক সহ। এগুলো ফ্রি অনুষ্ঠান।

আফ্রিকান লায়ন সাফারী
আফ্রিকান লায়ন সাফারী টরন্টোর নিকটবর্তী হ্যামিলটনে অবস্থিত। টরন্টো থেকে এর দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারের মত। এই লায়ন সাফারীতে আছে শতাধিক প্রজাতির প্রায় এক হাজার প্রাণী। পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্ত থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে এই প্রাণীসমূহ। এই সাফারীর বিশেষত্ব হলো, এখানে খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাণীগুলো ঘুরে বেড়ায়। আর পর্যটকগণ নির্ধারিত রাস্তা দিয়ে নিজের গাড়ি অথবা সাফারীর ট্যুর বাসে করে ঘুরে বেড়াতে পারেন। এই সময় মনে হবে আপনি বন বাদাড়ে পশু-পক্ষীর সঙ্গেই বাস করছেন। প্রাণীগুলো গাড়ির খুব কাছে চলে আসে। মাঝে মধ্যে গাড়ির ভিতরেও চলে আসতে চায়।
লায়ন সাফারীতে নিজের গাড়ি নিয়ে ঢুকতে হলে গাড়ির কন্ডিশন ভাল হতে হবে। বিশেষ করে গাড়ির জানালার কাঁচ যদি ভাঙ্গা থাকে বা ফাটলও যদি থাকে তবে সেই গাড়ি ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। সাফারীতে ট্যুর বাসে ঘোরাই উত্তম।
সাফারী পার্কটি একটি পারিবারিক ব্যবসা। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে। কানাডার সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল গর্ডন ডেবেনহাম প্রথমে উদ্যোগ নিয়ে এই পার্কটি স্থাপন করেন।
-সূত্র : অনলাইন

Sunday, October 15, 2017

কানাডার ‘ফল্’ - গুলফাম জান্নাত চমক



ইংরেজি শব্দ ‘ফল্’ এর প্রতিশব্দ টা কি হবে? হেমন্ত? দেশের হেমন্তে তো এক অন্য  ধরণের আনন্দ মিশে আছে। কানাডা তে এই ‘ফল্’ নিয়ে কিছুটা হৈচৈ চোখে পরে। আমার মনেই পড়ে না দেশ এ আমরা হেমন্ত নিয়ে কতোটা উৎসবী ছিলাম। বরং আমাদের বর্ষা , বসন্ত অনেক বেশী উৎসবী। আমাদের এক বৈশাখী আয়োজোনই তো পুরা পৃথিবীটাকে তাক লাগিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। পৃথিবীর আর কোন দেশ তার নিজস্ব সংস্কৃতিতে এত ধূমধাম করে বর্ষ বরন করে বলে আমার জানা নেই ।
আমার ‘ফল্’ দেখায় ফিরে আসি। বন্ধুরা মিলে একবার টরণ্টো শহর থেকে বেশ উত্তর এ মাশকোকা নামের এক জায়গায়  কটেজ এ চলে গেলাম। আয়োজন করে কানাডার ‘ফল্’ দেখার পালা। শুক্রবার কাজ শেষে পাঁচ বন্ধু-যুগল এর যাত্রা। অনেক আগে থেকেই অনলাইন এ কটেজ ভাঁড়া করে রাখা ছিল। পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় গভীর রাত। কারণ  অন্ধকার  গহীন বনের ভিতরে গাড়ীর হেড লাইট চারদিককে কেমন ঘুটঘুটে করে দিচ্ছিল। অনেক নাটকীয় যাত্রা শেষ এ কটেজ এর দেখা মিলল ।
ভোরে ঘুম ভাঙতেই দেখি লাল টুকটুকে রঙ্গের দোতলা  কাঠের বাড়িটি সবুজ পানির বিশাল লেক এর উপর দাঁড়িয়ে আছে। আর চারদিকে ধরে যাওয়া গাছের রঙ বনের মাঝে পুরো আবহকে  কেমন যেন স্বপ্নপূরী মনে হচ্ছিলো। রাতে ভুলেও ধারণা হয়নি এই গহীন বনে কেউ এত মুগ্ধকর  আয়জন করে রাখতে পারে।
আশেপাশে ঘুরে ফিরে ঘরে এসে টেবিলে খাবারের  আয়োজন দেখে স্বপ্নপূরীর আবহটা একেবারেই উধাও। খাবাররের বাড়াবাড়ি আয়োজন যাত্রার উদ্দেশ্য কে অনেকটাই হার মানিয়ে দেয়। এক বন্ধু তো (যার কী না রান্নায় তার স্ত্রীর সাথে হাত দেয়ার খূব বেশী  সুনাম নেই ! )  মহা আয়োজন করে সবাইকে  ‘ সি  ফূড’ রান্না  করে খাওয়ালো। আরেক  বন্ধুবর এর বাড়বীকিউ ও গ্রিল করার প্রস্তুতি দেখে আমি রীতিমত ভড়কে গেলাম। তার বাড়বীকিউ করার জন্য স্পেশাল এপ্রন এর পকেটে সব দরকারি চামচ জাতীয় জিনিস রাখা! বিশ্ববিখ্যাত ‘শেফ’ দের আয়জন হয়তো এমনি হয় (যদিও এই ভদ্রলোক এর সেই সম্ভাবনা নেই, উনি এখনো পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার)।
বেলা বাড়ার সাথেই শুরু হল ঘরের নিচের পানিতে মাছ ধড়ার প্রস্তুতি। আমার ধারনাই ছিল না মাছ ধরার জন্য লাইসেন্স লাগতে পারে! ভাগ্যিস আমাদের দেশে এমন নিয়ম নাই! তাহলে ছোট ছোট ছেলেরা খালে বিল এ যখন তখন মাছ ধরত কি করে ? মাছ ধরার ছিপ ও যে এত ধরনের হতে পারে! সবচাইতে অবাক হলাম প্লাস্টিক এর কেঁচো থেকে শুরু করে সব ধরণের পোকা মাকড় ও ছোট মাছ দেখে। কোনটিতে কি মাছ ধরা পড়বে তা রীতি মত গবেষণা করে তৈরি করা। যা হোক, এত আয়জনের পরও দিন শেষে এই আধুনিক জেলেদের বরফ দিয়ে সাজানো কুলার বক্স এ তেমন মাছের দেখা পাওয়া গেল না!
এখানেই শেষ নয়। আমার এক বন্ধুবর নিজেকে গ্রামের ছেলে দাবী করে কটেজের ডক এ সাজিয়ে রাখা ছোট প্লাস্টিকের  বোট (এইগুলি কে আমার কখনই নৌকা মনে হয় না) নিয়ে বেরিয়ে পরল। সম্ভবত পারদর্শিতা দেখানোর লোভেই বেচারা সাধ্যমত দূরে চলে গেল। কিন্তু সমস্যাটা শুরু হয় কিছুক্ষণ পর। ধরা পরল বেচারা  স্রোতের বিপরীতে পেরে উঠছেন না, বিশাল লেক এর মাঝে আটকে গেছেন। আরেক বন্ধু বোট নিয়ে  তাকে উদ্ধারএ যাত্রা শুরু করল। কিন্তু  আটককে পরা বোট থেকে অন্য  বোট এ
উঠতে যেয়ে ঠান্ডা (রীতিমত হিমশিতল) পানিতে বেচারার পতন ! কিছুটা হাসাহাসির পরই (এমন দৃশ্যে না হেসে পারা যায় ?) সবার মুখে এক ভয়ের ছায়া ! এখানে নাকি বেশি  ঠান্ডায় ‘হাইপোথারমিয়া’ হয়ে যায়!  মুখে  কেউ কিছু না বললেও ‘হাইপোথারমিয়া’ র ভয় থেকেও বুয়েট  স্টুডেন্ট এর সাথে পানির বৈরিতা’র অজানা ভয়টা আরও বেশী তাড়া করেছিলো সেদিন !  আমাদের সেই বন্ধুবর (বাড়বীকিউ ‘শেফ’)  কিভাবে যেন বোটের সাথে বোট বেঁধে সে যাত্রায় তাকে উদ্ধার করলো। কোন দুর্ঘটনা বা মাছ ছাড়াই এ ‘মাছ ধরা  উৎসব’ শেষ হল ।
সন্ধা হতেই শুরু হল গেইম এর  প্রস্তুতি। কেন জানি এই ধরণের বড়দের বসে বসে বুদ্ধির  খেলা গুলি কে  আমার ‘খেলা’ মনে হয় না। ‘গেইমস’ ই মনে হয়। আমাদের এক বন্ধু যুগল নতুন সব ‘গেইম’ নিয়ে রীতিমত  এস এস সি পরীক্ষা এর প্রস্তুতি থেকেও
বেশী সিরিয়াস ।  এইসব  গেইমস আমার গুরুগম্ভীর অধ্যাপক বরটি কেও   কি করে যেন ছেলেমানুস বানিয়ে আমাকে অবাক করে  দেয়! বন্ধুবর (সেই বাড়বীকিউ ‘শেফ’) মাঝরাতে এই  গহীন বনের মাঝে তার গানের সব  আধুনিক  ইন্সট্রুমেনট  নিয়ে  নিখুঁত আয়জোন করেও কেন জানি  চুপচাপ বসে থাকে। কোন এক অজানা কারনে তার আর গান গাওয়া হয় না।
পরের দিন ভোরে এইবার আমরা ফল্ দেখতে বের হই এলগনকুইন ন্যাশনাল পার্কে। শুধু চোখ ভরে দেখার জন্য  একটা উঁচু  টাওয়ার  তৈরি আছে পাহাড়ের চূড়ায়। উঁচু চূড়ায় দাঁড়িয়ে  বনের সব গাছের পাতায় শুধু  হলুদ আর লাল রঙ এর খেলা দেখে চোখ  কি ভীষণ ভাবেই  না চমকে  যায়। আমার ধারনাই ছিল না গাছের সবুজ পাতা  শুধু নিজের রঙ পরিবর্তন  করে প্রকৃতিকে এমন  বিচিত্র রূপ  ধরাতে পারে। আমি বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারি না, চোখ ধরে যায়।  চুপিসারে নীচে নেমে আসি। মাটির ছোট পথ  (হাইকিং লেন) ধরে রঙিন বনের মাঝে একা একা  হাটতে থাকি । এত উৎসব এর মাঝে  ও কেন জানি আমি  আরও বেশী পরিচিত আনন্দ এর সৃতি খুজে বেড়াই। আমার পরিবার এর সবার সাথে দেশের রাঙ্গামাটি তে বেড়ানোর আনন্দ কোত্থেকে যেন  উকি ঝুকি দেয়। তাকে পাত্তা না দিয়ে ইংরেজি শব্ধ  ‘ফল্’  এর প্রতিশব্দ টা খুজতে থাকি। হেমন্ত? হেমন্ত এর আকাশ কী এতটাই বিষন্ন ?  ঝরে যাওয়া লাল পাতাগুলি  মন উদাস করে আমার  হাটার সমান্তরালে কীভাবে যেন উড়ে ঊড়ে চলে ।  ‘ফল্’ এর রঙ্গিন ঝরা পাতার এই  আনমনে উড়ে চলা, গুমট বাতাসের  এই আবহ কি আসলে দেশ থেকে, প্রিয়জনদের থেকে অনেক দূর এ থাকা এক প্রবাসীর  অতি যতনে লালিত সেই  গভীর দীর্ঘশ্বাস?

গুলফাম জান্নাত চমক
টরণ্টো, কানাডা