Showing posts with label তারাপদ রায়. Show all posts
Showing posts with label তারাপদ রায়. Show all posts

Monday, September 25, 2017

বলাই বাহুল্য - তারাপদ রায়



কানাই এবং বলাই দু’জন সমবয়সি যুবক, পরস্পর বন্ধু এবং প্রতিযোগী। যেমন সাধারণত হয়ে থাকে। আর কী।
সমবয়সি বন্ধু হলেও দু'জনের মধ্যে প্রায় কোনও বিষয়েই মিল নেই। কানাই ধনী, বলাই গরিব। কানাই উচ্চশিক্ষিত, বলাইয়ের লেখাপড়া তেমন নয়। কানাই দেখতে ভাল, লম্বা, ফর্সা। বলাই মোটেই দেখতে ভাল নয়, মোটা, বেঁটে, গায়ের রঙ কালো!

Friday, September 22, 2017

তারাপদ রায়ের গল্প | মত্ত



একটা মামলার প্রয়োজনে একটা জেলা শহরে যেতে হয়েছিল। যথারীতি জেলা আদালতের উঠোনে এবং গেটের পাশে অনেকগুলি ভাতের হোটেল, পান-সিগারেট এবং মিষ্টির দোকান। এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় মিষ্টির দোকানটায় গিয়ে দোকানের মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম,‘আচ্ছা এখানে সবচেয়ে বড় উকিল কে? আমি বাইরে থেকে এসেছি, একটু জানতে পারলে উপকার হয়।’


আমার জিজ্ঞাসা শুনে প্রবীণ মিষ্টান্ন বিক্রেতা কি যেন একটু ভেবে তারপর বললেন,‘সবচেয়ে ভাল উকিল?’

আমি বললাম,‘হ্যাত্ষ। আমার একটা মামলার ব্যাপারে বিশেষ দরকার।’

‘সবচেয়ে ভাল উকিল হলেন বলাইবাবু, আমাদের এই জেলার মধ্যে,’ তারপর ভদ্রলোক কিঞ্চিত ইতস্তত করে বললেন, ‘অবশ্য তিনি যদি মাতাল অবস্থায় না থাকেন।’

তারাপদ রায়ের গল্প : কাঁঠাল কাঠের পিঁড়ি



আমাদের গ্রামের বাড়ির সামনে দিয়ে ইউনিয়ন বোর্ডের, মানে তৎকালীন পঞ্চায়েতের রাস্তাটা ছিল খুব নিচু। সেটা ছিল ইংরেজরা যাকে বলে ফেয়ার ওয়েদার রোড। অর্থাৎ, ভাল আবহাওয়ায় ব্যবহার করা যায়। অন্য সময়ে জল-কাদার জন্যে যাতায়াত কঠিন। তবে, বর্ষাকালে ধলেশ্বরীর জল ওই রাস্তা দিয়ে ঢুকে যেত। রীতিমত স্রোত। নৌকো চলে যেত ওই রাস্তা ধরে। তখন আমাদের গ্রাম হয়ে উঠত ভেনিস শহরের মতো। প্রত্যেক বাড়ির উঠোনে একটা করে নৌকো। এ বাড়ি-ও বাড়ি যাতায়াত হত নৌকোয়। বাজারে, ইস্কুলে যেতে হলে নৌকো ছাড়া গতি নেই।


আমাদের বাড়ির সদরে ইউনিয়ন বোর্ডের রাস্তার পাশ ঘেঁষে একটা প্রাচীন কাঁঠালগাছ ছিল। বর্ষাকালে যখন খাল দিয়ে নৌকো চলাচল শুরু হত, ওই কাঁঠালগাছটার গুঁড়ির সঙ্গে নৌকো এসে বাঁধত। আমাদের বাইরের বাড়ির সামনের অংশটুকুর নামই হয়ে গিয়েছিল কাঁঠালঘাট। কেউ কেউ বলত, মান্ধাইঘাট।

Thursday, September 21, 2017

তারাপদ রায়ের গল্প কৃষ্ণলক্ষ্মী



ক্রিস্টাইন মনরো, নাম শুনে মনে হতে পারে পরমা সুন্দরী। মেরিলিন মনরোর আত্মীয়া। কিন্তু তা নয়। সে একটি কলহ পরায়ণা অথচ নরম মনের কালো মেয়ে। কালো তা সে যতই কালো হোক, তার থেকেও সে অনেক বেশি কালো। চেহারায়, চরিত্রে। অকালমৃতা চিত্রতারকা স্বপ্নসুন্দরী মেরিলিন মনরোর সঙ্গে তার কোনও তুলনাই হয় না।

ক্রিষ্টাইন মনরোকে পাড়ার আট-দশ জনের মতো আমরাও ডাকতাম ক্রিষ বলে। এই ‘ক্রিষ’ বানানে ‘ৃ’ ফলা দিয়ে ‘ক’, তার পরে ‘শ’ ব্যবহার করা যায়। কিন্তু তার চেহারার সঙ্গে মিল দিতে গেলে হাস্যকর হবে। তবে আমার বাঙাল উচ্চারণে বোধহয় ‘ক্রিষ’ আর ‘কৃশ’ এই দুই শব্দের বিশেষ কোনও পার্থক্য থাকে না।


সে যা হোক, ক্রিষ এ দেশের মেয়ে নয়। তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল মার্কিন দেশের পশ্চিম উপকূলে এক বিখ্যাত উপনগরীতে। সে বাড়ি বাড়ি কাজ করে বেড়াত। ঘর ঝাড়া, বাসন মাজা, কাপড় কাচা— ঠিক এখানে ঠিকে ঝি-রা বাড়ি বাড়ি ঘুরে যেমন কাজ করে। ও দেশে সবই প্রায় মেশিনে হয়— কাপড় কাচার মেশিন, বাসন মাজার মেশিন, ঘর ঝাড়ার ভ্যাকুয়াম মেশিন, এমনকী মশলা গুঁড়ো করার মেশিন, তরকারি কোটার মেশিন। কাজের মেয়েরা মেশিনে এই সব কাজ সারতে একটা বাড়িতে আধঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বেশি সময় নিত না। প্রত্যেক দিন আসত না। এক দিন অন্তর কিংবা সপ্তাহে দু’দিন। তাতেই তাদের মাস মাইনে ভারতীয় টাকার অঙ্কে বহু হাজার টাকা দাঁড়াত।

Saturday, September 16, 2017

তারাপদ রায়ের গল্প : বিশেষজ্ঞ






দিল্লী থেকে বিশেষজ্ঞ এসেছেন সুদূর দীঘাতে কাজু চাষ পর্যবেক্ষণ করতে। বিশেষজ্ঞ মহোদয় বাঙালি, ইনি সম্প্রতিমার্কিন দেশ থেকে ছয় মাসের কাজু চাষের ট্রেনিং নিয়ে এসেছেন। আমেরিকায় কাজুর চাষ হয় কি না, সেখানে এরট্রেনিং কি হবে—এ সব প্রশ্ন আশা করি কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন পাঠকেরা দয়া করে তুলে অসুবিধে সৃষ্টি করবেন না।
সে যা হোক, বিশেষজ্ঞ মহোদয় সপারিষদ এক শীতের দুপুরে দীঘায় গেলেন। এই ঠাণ্ডার দিনেও খালি গায়ে রোদ্দুরে বসেগ্রামের একজন কৃষক তামাকু সেবন করছিলেন। হঠাৎ তাঁর বাড়ির সামনে সম্ভ্রান্ত লোকজন দেখে তিনি উঠে দাঁড়ালেন।তাঁকে দেখে বিশেষজ্ঞ মহোদয় বেশ উৎসাহের সঙ্গে এগিয়ে এলেন, এসে যে গাছটায় এতক্ষণ কৃষক হেলান দিয়ে বসেছিলেন সেটার গায়ে নিজের মুখের পাইপটা ঠুকতে ঠুকতে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এ গাছটার গোড়া অক্টোবর মাসের শেষসপ্তাহে নিড়িয়ে, খুঁড়ে দিয়েছিলেন?’

Friday, September 15, 2017

টেলিফোন – তারাপদ রায়





স্বর্গত ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের একটি অসামান্য কৌতুকনকশা ছিলো, যেখানে এক গ্রাম্য ব্যক্তি জীবনে প্রথমবার টেলিফোন ধরেছে। যিনি ফোন করছেন, তিনি যথারীতি বলেছেন, ‘হ্যালো।’ গ্রাম্য ব্যক্তিটি ভেবেছে তাকে হেলতে বলা হয়েছে। সুতরাং সে একটু কাত হয়েছে। আবার ও প্রান্ত থেকে ‘হ্যালো’ বলেছে আর এই ব্যক্তিটি আরো একটু কাত হয়েছে। যত ‘হ্যালো’ শুনছে, তত কাত হয়ে যাচ্ছে, মুখে কিছু বলছে না, ফলে ও-প্রান্ত থেতে ক্রমাগত ‘হ্যালো, হ্যালো…’ হয়ে যাচ্ছে, এ লোকটিও কাত হতে হতে একদম মেজেতে শুয়ে পড়েছে এবং তখন বলছে, ‘আর হেলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, হেলতে হেলতে আমি চিত হয়ে গেছি।’

আমার বর্ণনার ত্রুটির জন্য হয়তো এই নকশাটিকে কারো কারো একটু মোটা দাগের মনে হতে পারে, কিন্তু ভানুবাবুর অননুকরণীয় প্রসাদগুণে অসম্ভব কৌতুকের সৃষ্টি হতো এই উপস্থাপনায়।