শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প : ‘বোকাডাক্তারের দুই রুগী’
ডাকাতির জন্যে তিন বছর জেল খেটে সন্তোষ টাকি বেলা দশটা দশের ট্টেন ধরল। জেলে এতদিন সে ওয়ার্ডারদের ভাষায় এই ভাবেই মনে রেখেছে-তার খালাস পাওয়ার বাকি আর পাঁচোয়া মাহিনা-তিরিশটা দিন কাটাতেই আর চারি মাহিনা বাকি। খালাস পেয়ে জেল গেটের জেল গেটের বাইরে এসে দেখল কলকাতায় দিব্যি ট্টাম বাস চলছে। তারই একটা ধরে শেয়ালদা। সেখান থেকে ট্টেনে চেপে ঘন্টাখানেকের ভেতর নিজের দেশের স্টেশনে এসে নামলো।
ফাগুন মাসের দুপুর বেলা। মেঘ ইয়ার্কি মারতে আকাশে আসেনি। কখনও ছায় দিচ্ছির- কখনও কিছুটা সরে গিয়ে রোদ্দুর । তার ভেতর দিয়ে সন্তোষ টাকি স্টেশন বাজারে ভদ্রোশ্বর নাপিতের কাছে গিয়ে ইট পেতে বসল।
প্রথমটায় চিনতে পারেনি ভদ্রেশ্বর। কুমড়োর ফালি, কুচো চিঙড়ি গামছায় বেঁধে বাড়ি যাচ্ছিল। দাড়িঅলা লোকটা নিজের থেকে সামনে এসে বসতে ভেবেছিল- আরও একখানা সিকি তার কাছে হেঁটে এল।
