Showing posts with label রম্য গল্প | দাদুর বেড়াল. Show all posts
Showing posts with label রম্য গল্প | দাদুর বেড়াল. Show all posts

Friday, September 1, 2017

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের রম্য গল্প | দাদুর বেড়াল




ভোরবেলা হরি-নারায়ণঅ, হরি-নারায়ণঅ, বলতে বলতে দাদু আমাদের ঘরের সামনে এসে রোজ যেমন দাঁড়ান তেমনি দাঁড়ালেন । রোজকার মতই আকাশে তখন সবে আলো ফুটছে। একটা কি দুটো পাখি ঘুমচোখে আমার পড়া মুখস্ত করার মত কুঁতিয়ে কুঁতিয়ে ডাকছে। দাদুর ওজন ভরা বাতাস বইছে । বাতাস অবশ্য নেই আজ । শেষ রাতে তেড়ে বৃষ্টি হয়ে গেছে। আকাশ মেঘলা। শুয়ে শুয়ে, চোখ পিট পিট করে আমি আকাশ দেখে নিয়েছি ।
চারপাশ নিস্তব্ধ গুমোট । দাদু রোজ যেমন ডাকেন সেই রকম ভারি ভাবগম্ভীর গলায় ডাকলেন, খোকা উঠে পড়। আমি এগোচ্ছি ’ দাদুর গলা শুনে বাবা রোজ যেমন ঘুমচোখে পাশের দিকে হাত বাড়িয়ে আমার ডান কানটা ধরে বার কতক নেড়ে দেন সেই রকম নেড়ে দিলেন। আমি রোজ যেমন ধড়মড় করে উঠে বসে, দু’হাটুতে মাথা গুজে বলি, যান, আসছি ঠিক সেই রকমই বলে, সামনে পেছন দুলুনে চেয়ারের মত দুলতে লাগলুম। এই ভাবে দুললে ঘুম মাথা ছেড়ে পায়ের দিকে নেমে যায়। এই সময়টায় রোজ আমার যেমন হিংসে হয় তেমনি হল । বাবা কেমন আরও কিছুক্ষণ শুয়ে থাকবেন । অনেক রাত পর্যন্ত জেগে অঙ্ক করেন, তাই দাদু তাকে ঘুমোবার অনুমতি দিয়েছেন। আমি রাতে জাগতেও পারি না, জাগার অনুমতিও নেই। দাদু বলেন, বৃদ্ধ আর শিশু হল পাখির মত। ভোরে উঠে কলরব করবে। দাদু যেমন হরি নারায়ণঅ, হরি নারায়ণঅ করছেন। আমি বলেছিলুম, তা হলে ত পাখির মত সন্ধ্যে বেলাই শুয়ে পড়া উচিত। না, তা হবে না। এ পাখি হল প্যাঁচা আর কাকের মিশ্রণ। রাত দশটা পর্যন্ত হুতোম প্যাচ। ডানা মুড়ে, লাল চোখে টেবিলের সামনে । খোলা বই। মাস্টার মশাই । কিন্তু ভোরে কাক । এ পাখি, নতুন জাতের পাখি—প্যাঁকাক ।