তারাপদ রায়ের গল্প কৃষ্ণলক্ষ্মী
ক্রিস্টাইন মনরো, নাম শুনে মনে হতে পারে পরমা সুন্দরী। মেরিলিন মনরোর আত্মীয়া। কিন্তু তা নয়। সে একটি কলহ পরায়ণা অথচ নরম মনের কালো মেয়ে। কালো তা সে যতই কালো হোক, তার থেকেও সে অনেক বেশি কালো। চেহারায়, চরিত্রে। অকালমৃতা চিত্রতারকা স্বপ্নসুন্দরী মেরিলিন মনরোর সঙ্গে তার কোনও তুলনাই হয় না।
ক্রিষ্টাইন মনরোকে পাড়ার আট-দশ জনের মতো আমরাও ডাকতাম ক্রিষ বলে। এই ‘ক্রিষ’ বানানে ‘ৃ’ ফলা দিয়ে ‘ক’, তার পরে ‘শ’ ব্যবহার করা যায়। কিন্তু তার চেহারার সঙ্গে মিল দিতে গেলে হাস্যকর হবে। তবে আমার বাঙাল উচ্চারণে বোধহয় ‘ক্রিষ’ আর ‘কৃশ’ এই দুই শব্দের বিশেষ কোনও পার্থক্য থাকে না।
সে যা হোক, ক্রিষ এ দেশের মেয়ে নয়। তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল মার্কিন দেশের পশ্চিম উপকূলে এক বিখ্যাত উপনগরীতে। সে বাড়ি বাড়ি কাজ করে বেড়াত। ঘর ঝাড়া, বাসন মাজা, কাপড় কাচা— ঠিক এখানে ঠিকে ঝি-রা বাড়ি বাড়ি ঘুরে যেমন কাজ করে। ও দেশে সবই প্রায় মেশিনে হয়— কাপড় কাচার মেশিন, বাসন মাজার মেশিন, ঘর ঝাড়ার ভ্যাকুয়াম মেশিন, এমনকী মশলা গুঁড়ো করার মেশিন, তরকারি কোটার মেশিন। কাজের মেয়েরা মেশিনে এই সব কাজ সারতে একটা বাড়িতে আধঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বেশি সময় নিত না। প্রত্যেক দিন আসত না। এক দিন অন্তর কিংবা সপ্তাহে দু’দিন। তাতেই তাদের মাস মাইনে ভারতীয় টাকার অঙ্কে বহু হাজার টাকা দাঁড়াত।
