কৈশোরের আত্নজীবনী - রোদ্দুর
নিশাচর কুহুক পাখির কণ্ঠে যখন অন্ধকারের গান,তখন সুদূর অতীত থেকে শরৎ এর মেঘের মতো ভেসে আসছে সাদা সাদা সুখে ভরা অম্লান শৈশব । কিভাবে আমি চার পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে দুপায়ে ভর করে উঠে দাঁড়ালাম আজ আর আমার মনে নাই । তবে সেদিন থেকেই শুরু পৃথিবীর পথ পরিক্রমায় আমার পদ চিহ্ন আঁকার । যেদিকে তাকাই সেদিকেই যেন কোয়াশায় ঘেরা রহস্য আর মুগ্ধতায় ভরা আমার দুচোখ । কোমল , স্নেহ মমতার পরশে থাকা আলিস্যি ভরা দিনগুলো ছেড়ে যখন উঁকি মারলাম পার্থিব জানালায় , দেখি চনমনে হলুদ রোদ্দুরে ছড়িয়ে আছে অসীম দুরন্তপানা, ঘর হতে বের হওয়ার প্রচ্ছন্ন হাতছানি, এসো হে নবীন, এসো পৃথিবীর প্রান্তরে , এসো দাগ রেখে যাও তোমার আগমনের । হাইস্কুলের বটবৃক্ষের মতো প্রবীণ শিক্ষক পন্ডিতজি বলতেন,তুই এসেছিস ভবে ছাপ রেখে যারে বাছা, ছাপ রেখে যা । ক্লাসে চার সারি বেঞ্চের দুসারিতে মেয়েরা , দুসারিতে ছেলেরা , পণ্ডিতজি খেয়াল করেছেন পেছনের ফ্যা ফ্যা জগন্নাথ (শিক্ষকদের হাতে মার খেয়ে ফ্যা ফ্যা করে কেঁদে উঠত, তাই আমরা ওকে ফ্যা ফ্যা জগন্নাথ বলতাম) পাশের বেঞ্চের একটি মেয়ের সাথে কথা বলছে, কটমট তাকালেন পণ্ডিতজি , ঝড়ের বেগে চলে গেলেন যথাস্থানে, হাতে জোড়াবেত,একটু পরেই নোনা বৃষ্টি নামবে । পণ্ডিতজি বললেন , “সীতারা দুই বোন “ ইংরাজী কর । জগন্নাথ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাচ্ছে আর মাথা চুলকাচ্ছে, পণ্ডিতজি সপাং সপাং করে বেত চালালেন আর জগন্নাথ ফ্যা ফ্যা শব্দে কুঁকড়ে উঠল।
