কৃষণ চন্দরের গল্প : পেশোয়ার এক্সপ্রেস
অনুবাদ : জাফর আলম
এতক্ষণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। সশব্দে। পেশোয়ার ছাড়বার পর। এবার বুকখানা শান্ত হলো।আমার কামরাগুলোতে প্রায় তিল ধারণেরও ঠাঁই নেই। সবই শরণার্থীতে ভরা। ওরা হিন্দু আর শিখ। সীমান্ত প্রদেশের নানা জায়গার বাসিন্দা। পেশোয়ার, হোতি মরদান, কোহাট, চরসাদ্দা, খাইবার, লান্ডিকোটাল, বান্নু, নওশেরা আর মনশেরার। কিন্তু আজ ওরা ভিটেমাটি ছেড়ে চলে এসেছে।
সব স্টেশনেই মিলিটারির কড়া পাহারা বসেছে। লোকগুলো বড় হুঁশিয়ার। তার ওপর ক্ষিপ্রগতি। তা সত্ত্বেও শরণার্থীদের মনে এক ফোঁটা শান্তি নেই। এক অশুভ চিন্তায় সবাই যেন কুঁকড়ে ছিল। এতক্ষণে মনে একটু সাহস পেয়েছে। ধোঁয়া ছেড়ে আমি নড়ে উঠবার পর। আমার সামনে যে স্বপ্নে ভরা পঞ্চনদের দেশ। ওই পাঠানগুলোকে যদি অন্য পাঠানদের ভেতর ছেড়ে দেওয়া যায়, তাহলে আর কেউ ওদের আলাদা করে চিনে নিতে পারবে না। কেননা, চেহারায় ওরা আর সব পাঠানের মতোই সুপুরুষ। শারীরিক গঠনেও তাদেরই মতো লম্বা-চওড়া আর মজবুত। ওদের পরনে লুঙ্গি বা সালোয়ার, মাথায় টুপি। আর ওরা কথা বলে কর্কশ গোছের পশতু ভাষায়। তাও আর সব পাঠানেরই মতো।
