Showing posts with label এইজ অফ ইউরোপিয়ান ডিসকভারি. Show all posts
Showing posts with label এইজ অফ ইউরোপিয়ান ডিসকভারি. Show all posts

Saturday, December 2, 2017

এইজ অফ ইউরোপিয়ান ডিসকভারি - ২


আটলান্টিক মহাসাগর সম্পর্কে ইউরোপে তখন চাউর ছিল হাজার রকম গুজব।
গভীর কুয়াশা আর অন্ধকারাচ্ছন্ন এই সাগরের গভীরে নাকি ড্রাগন,ক্র্যাকে
ন,হাইড্রা সহ হাজারটা দানবের বাস।বুড়োরা বলতো,এই সাগরের কোন শেষ নেই।
স্পেন বা পর্তুগাল থেকে তাই কোন জাহাজই পশ্চিমে বেশিদুর যেতে রাজি হত না।পশ্চিমে গেলেই সর্বনাশ।
কলম্বাস যখন পর্তুগালের রাজা জনের কাছে গেলেন,তখন এসবের সাথে সাথে জন আরেকটা কথাও ভাবলেন,পশ্চিমে যেতে যেতে সে যদি জাহাজ নিয়ে সূর্য ডোবার জায়গাটা পার হয়ে যায় তাহলে তো সে আর কোনদিনই ফিরে আসতে পারবে না,তখন যে টাকা পয়সা খরচ করে তাকে আমি পাঠাবো,সেটার কি হবে!!
মূলত এই চিন্তা করেই তিনি কলম্বাসকে পশ্চিমে পাঠানোর জন্য ফাণ্ডিং করতে রাজি হলেন না।কস্ট-বেনিফিট
ে পোষানোর কোন সম্ভাবনাই নাই এমন প্রজেক্টে ইউরোপিয়ান রাজারা হাত দেয়া বাদ দিয়েছেন ফিফটিন্থ সেন্ঞুরির মাঝামাঝি থেকেই।
কলম্বাস যখন পর্তুগীজ রাজার কাছ থেকে ফাণ্ডিং পেলেন না,তখন তাকে যেতে হল স্পেনের রানী ইসাবেলার দরবারে।
তার পশ্চিম দিক থেকে ভারতে যাবার পাগলাটে পরিকল্পনাটা প্রথম প্রথম রাণীর ভাল না লাগলেও একটা পর্যায়ে এসে রাণী ভাবলেন,এক দান জুয়া খেলাই যায়।
অন্ধকার বিপজ্জনক সাগরে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া নাবিককে ফাণ্ডিং করা যে সে জুয়া না।এই জুয়া খেলতে ইউরোপ রাজি হওয়ার পেছনে মূল কারন ছিল দুটো।
এক নম্বর কারন,ক্রুসেড আর রিকনকুইস্তায় খরচ করতে করতে ইউরোপের স্টকে সোনা রুপার অভাব পড়ে গেছিল মারাত্মক রকম।ইটালিয়ান ব্যাংকগুলো পোপ আর সম্রাটদের চাহিদা মেটাতে মেটাতে মোটামুটি ফতুর।তার ওপর ইউরোপের মহাজন ছিল ইহুদীরা।তাদের কাছ থেকে ধার কর্জ নিতে নিতে ইউরোপের অর্থনীতি পুরোপুরি ইহুদীদের পকেটে চলে যাচ্ছিল।
তারপরও পূর্বে অটোমান আর পশ্চিমে বার্বারদের মোকাবেলা করতে সম্রাট ও চার্চের প্রয়োজন ছিল নতুন সোনা-রুপার মজুদের,যা দিয়ে তারা মুদ্রা বানিয়ে বড় সেনাবাহিনী পুষতে পারেন।
দুই নম্বর কারন ছিল,মসলা।
ইউরোপের শীতকাল ভীষন রকম লম্বা।অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীত,এপ্রিল-মে যাকে তারা বসস্ত বলে ওটাও নেহায়েত কম ঠাণ্ডা না।
মোট কথা,বছরে আটমাসই ইউরোপ থাকে ঠাণ্ডা।এই আট মাসের ছয় মাস ঘর থেকে বের হওয়াই দায়।এসময়টার জন্য সবাই ঘরে খাবার মজুদ করে রাখতো।সে সময়কার প্রধান মজুদ খাবার ছিল গোশত।
টানা ছয় মাস গোশতকে মজুদ করে রাখার পর তা খাবার উপযোগী করতে তাদের প্রয়োজন হত মশলার।এই মশলা আমদানির মনোপলি ছিল ভেনিসের।
অটোমানদের ট্যাক্স দিতে দিতে ভেনিসের তখন নাই নাই অবস্থা।
স্পেন-পর্তুগাল ভালমতই বুঝলো,পূর্বদিক দিয়ে তাদের জাহাজকে অটোমানরা ব্যবসা করতে দেবে না।কিন্তু যেহেতু দুনিয়াটা গোল,আর আফ্রিকাটার পূর্বে ভারত,কোনমতে আফ্রিকাটা ঘুরে পূর্বে পোছালেই ভারতে যাওয়া সম্ভব।
এই ধারনা বাস্তবে রুপ দেয়ার নথে প্রথম পদক্ষেপটা নেন পর্তুগীজ রাজা হেনরি দ্যা নেভিগেটর।
তিনি ইতালি,স্পেন,ফ্রান্স,পর্তুগাল,জ
ার্মানী,হল্যাণ্ড,মরক্কো,তিউনিস
িয়া,আলজেরিয়া ছেঁকে চ্যাম্পিয়ন সব নেভিগেটর,নাবিক,মেরিন ইন্জিনিয়ারদের নিয়ে আসেন,তেরি করেন এক রয়্যাল মেরিটাইম স্কুল।
এই স্কুল থেকে বের হতে থাকে দারুন সব আইডিয়া।গ্রীকো-রোমান আমলের নেভাল নলেজের সাথে তারা ইসলামিক সায়েন্সের ফিউশন ঘটায়,আল খাওয়ারিজমীর সুরত আল আরদ,আল ইদ্রিসীর তাবুলা রজারিয়াস,খাওয়ার
িজমীর অ্যাস্ট্রোল্যাব আর অ্যালজেব্রা,সেই সাথে আল বেরুনির ত্যিকোণমিতিকে তারা দারুণভাবে বশে এনেছিল,সেই সাথে অনেক ভুলত্রুটি শুধরে সেগুলোকে দিয়েছিল তখনকার সময়ের সবচাইতে অ্যাডভান্সড রুপ।
এরসাথে তারা ব্যবহার করতে শিখেছিল গ্রহ-নক্ষত্র দিয়ে সমুদ্রে নিজেদের অবস্থান বোঝার আরব টেকনোলজি ইফিমেরিস।
হেনরি মারা গেলেও তার বংশধররা স্কুলের ফাণ্ডিং বজায় রাখলেন।
সোনার ডিম পাড়া রাজহাস তার প্রথম ডিমটা দিল ১৪৮০ সালের দিকে।
দুই ধরনের স্পেশাল জাহাজ বানিয়ে ফেললো পর্তুগীজ রাজা জনের মেরিন ইন্জিনিয়াররা।
একটাকে বলা হত ক্যারাভেল,আরেকট
াকে বলা হত নাও।
ক্যারাভেল ছিল তখনকার সময়ের যে কোন জাহাজের চাইতে অনেক বেশি দ্রুতগতির।সামান্যতম বাতাসকেও এই জাহাজ কাজে লাগাতে সক্ষম ছিল।
ক্যারাভেলের এই তাক লাগানো গতির পেছনে মূল নায়ক ছিল পাল।এর আগ পর্যন্ত জাহাজে যে পাল খাটানো হত সেগুলো ছিল চারকোণা,ক্যারাভেলই প্রথম জাহাজ যাতে তিনকোণা ল্যাটিন পাল ব্যবহার করা হয়।
আর নাওগুলো ছিল একেকটা দানব।একেকটা নাও বহন করতে পারতো পাচশো থেকে দুই হাজার টন পর্যন্ত বিপুল ওজন,যা তখনকার যুগে ছিল এক বিস্ময়।বড় বড় কামানগুলো অনায়াসে লুকিয়ে রাখা যেত নাওয়ের ভেতরের কম্পার্টমেন্টে।
সেই সাথে ইউরোপের পশ্চিমে তখন আবিষ্কৃত হয়েছিল যুগান্তকারী এক ফুড টেকনোলজির।
তখনও মানুষ জানতো না যে লবণ দিয়ে ডিহাইড্রেটেড করে মাসের মাস ধরে খাবার তরতাজা রাখা যায়।
যখন এই টেকনোলজি পর্তুগীজরা পেয়ে গেল,তখন তাদের দুর দুরান্তে অভিযান চালাতে আর একটা মাত্রই বাধা রইলো,সেটা হল ফাণ্ডিং।
এই ফাণ্ডিংটা তখনকার স্পেন-পর্তুগালে
র রাজারা করতে রাজি হয়েছিলেন বলেই দুঃসাহসী নাবিকেরা বারবার বেরিয়ে পড়েছেন সমুদ্রজয়ে।
১৪৮৯ তে বার্থেলোমিউ ডায়াজের কেইপ অফ গুড হোপ জয় করার পর থেকে ১৫০০ সালে ক্যাব্রালের ব্রাজিলে নোঙ্গর করা,এর মধ্যে পর্তুগীজ-স্প্যানিশরা আবিষ্কার করে ফেলে পৃথিবীর দুই নতুন দিগন্ত,পূর্ব আর পশ্চিম,আবিষ্কার করে সম্পদে পরিপুর্ন সম্পুর্ন অজানা এক মহাদেশ,যার নাম তারা দিয়েছিল নতুন পৃথিবী।
ইউরোপ যেভাবে নতুন করে জগতটাকে আবিষ্কার করেছিল,তার মূলে ছিল রেনেসার যুগের সবকিছুকে নতুন করে দেখার আগ্রহ,আর এই আগ্রহের জন্ম দিয়েছিল তাদের তীব্র প্রয়োজন।ক্রুসেড করে করে,আর মসলার ব্যবসায় লালবাতি জ্বালিয়ে,দুশো বছরের ব্ল্যাক ডেথকে মোকাবেলা করে ইউরোপের এই ঘুরে দাড়ানোর গল্প চিরদিনের জন্য অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে পৃথিবীর ইতিহাসে।
ইউরোপ কেন মুসলিমদের সায়েন্স অ্যাণ্ড টেকনোলজিকে আপডেট করে ঘুরে দাড়াতে পারলো,মুসলিমরা কেন পারলো না,তার পেছনের মুল কারন তিনটা।
এক.প্রয়োজন
দুই.নতুন করে জগতকে জানার ইচ্ছা
তিন.পলিটিক্যাল উইল আর সবকিছুকে কস্ট বেনিফিট মডেলে ফেলার ইকনোমিক চিন্তা ভাবনা।

 

উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ...

Friday, December 1, 2017

এইজ অফ ইউরোপিয়ান ডিসকভারি - ১


#১৮২৪
মিশরের ফারাও দ্বিতীয় রামসিসের কফিন যেদিন প্রথম খোলা হয়,সেদিন তার মমির ভেতর দুটো অদ্ভুত জিনিস পাওয়া যায়।এই দুটো জিনিসের সেখানে থাকার কথা ছিল না।
জিনিস দুটো হল তামাক আর কোকোয়া।
আজ থেকে সাড়ে পাচশো বছর আগে ইউরেশিয়া বা আফ্রিকার কোথাও এই দুটো জিনিস ছিল না।তাহলে এই দুটো জিনিস সাড়ে তেত্রিশ শো বছর আগে মিশরে গেল কিভাবে??
¥ ¥ ¥
সাড়ে তিন হাজার বছর পুরানো এক সভ্যতা ছিল মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অংশে।নাম ওলেমাক।
এই সভ্যতার বাসিন্দাদের নাক অদ্ভুত রকম থ্যাবড়া,দাতের সামনের পাটি উচু,কপালটাও উচু থেকে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে গেছে,অনেকটাই আফ্রিকানদের মত।
কিন্তু সাড়ে তিন হাজার বছর আগে কোন আফ্রিকান লোক সেখানে গেছে বলে জানা যায় নাই।অন্তত লিখিত কোন প্রমান নাই।
মেক্সিকোতে জিনোনি নামে একটা ট্রাইব আছে।এদের জেনেটিক প্রোফাইল টেস্ট করে পিউর জাপানিজ বেশ কিছু জিন পাওয়া গেছে।জিনোনিরা মেক্সিকান অন্যান্য ট্রাইব থেকে সম্পুর্ন আলাদা,তাদের চাল চলন ও আচার আচরনই শুধু নয়,আকার আকৃতিতেও।
¥ ¥ ¥
১৮৮২ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণ পশ্চিমে একটা খাল খননের সময় শ্রমিকেরা ২৫টি মুদ্রার সন্ধান পায়,মুদ্রার গায়ে লেখা হিজিবিজি ভাষা পড়ার ক্ষমতা তাদের ছিল না।
একটু একটু করে সেই খবর পোছাল খনন কারীদের সাথে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক
ের কাছে।
তিন বছর পর জানা গেল এগুলো চীনা রাজবংশ শাঙ ডাইন্যাস্টির সম্রাট হুঙেটির মুদ্রা।
সম্রাট হুঙেটির রাজত্বকাল ছিল কবে শুনলে আশ্চর্য হতে হয়।
খ্রিস্টপুর্ব ২৬০০অব্দে,আইমিন আজ থেকে ৪৬০০ বছর আগে,যখন গিজাতে ফারাও খুফু পিরামিড বানাচ্ছিলেন,তখনকার কথা।
¥ ¥ ¥
মানুষ কখনই এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকার মত সুশীল প্রাণী ছিল না।
পৃথিবীর বুকে পা রাখার পর থেকেই সে ঘুরে বেড়িয়েছে এখান থেকে ওখানে,বারবার চিনতে চেয়েছে অজানাকে।
আফ্রিকা বা আরব উপদ্বীপের কাছাকাছি কোথাও থেকে মানুষের ওই যাত্রার শুরু বলে বিজ্ঞানীরা ধারনা করে থাকেন।
সভ্য হবার পর প্রত্যেক সভ্যতাই চেষ্টা করেছে নিজেদের সভ্যতার কথা পৃথিবীর অন্যান্য অংশে নিয়ে যেতে।
আমেরিকা আবিষ্কারের যে গল্প এখন আমাদের শোনানো হয় তা কোনভাবেই আমেরিকা অবিষ্কারের প্রথম গল্প না।সেই গল্পটা বড়জোর প্রথমবারের মত আমেরিকাকে কলোনী বানানোর গল্প।
তার আগে বহুবার দুঃসাহসী মানুষেরা আমেরিকায় গেছেন।
নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের এই রেসে সম্ভবত পাইওনিয়ার ছিল চাইনিজরা।
চাইনিজরা এখন পর্যন্ত দাবি করছে মিং ডাইন্যাস্টির অ্যাডমিরাল ঝেং হোর কথা,কিন্তু ঝেং হো আমেরিকাতে পৌছেছেন তার কোন প্রমান সরাসরি দেয়া সম্ভব হয় নাই।
ঝেং হো একজন মুসলিম ছিলেন।
তার আগেও মুসলিমরা বারবার চেষ্টা করেছে অসীম আটলান্টিক পাড়ি দিতে।এদের মধ্যে একজনের নাম ইতিহাসে পাওয়া যায়,নাম খাসখাস ইবনে সাইদ ইবনে আসওয়াদ,তার সম্পর্কে আল মাসউদী নবম শতাব্দীতে লিখেছেন তিনি আটলান্টিক পেরিয়ে ওপারে গিয়েছিলেন এবং তারপর,সেই দেশ থেকে জাহাজ বোঝাই করে প্রচুর ধনসম্পদ নিয়ে এসেছিলেন।আল মাসউদী এই কথা লিখেছেন ৮৮৯ সালে,তার বই মুরুয আদ দ্বোয়াহাব ওয়াল মাদিন আল জাওহারে,কর্দোবার খলিফা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদের আমলে।
এই দুজনের মাঝখানে চাপা পড়ে গেছে পৃথিবীর সবচাইতে বড় অ্যাডভেন্ঞারার সম্রাঠের কথা।
মালি সাম্রাজ্যের নাম যারা শুনেছেন তারা অবশ্যই জানেন ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীতে পৃথিবীর সবচাইতে সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য ছিল মালি সাম্রাজ্য।পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে সম্পদশালী ব্যক্তি বলা হয় এই সাম্রাজ্যের সম্রাট মানসা মুসাকে।
মানসা মুসার চাচা দ্বিতীয় আবুবকর এতই অ্যাডভেন্ঞার প্রিয় ছিলেন যে তিনি একবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি আটলান্টিক মহাসাগর কোথায় শেষ তা দেখে ছাড়বেন।
এই সিদ্ধান্ত ঠিক রাখতে গিয়ে তিনি নিজের সিংহাসন ছেড়ে চারশো জাহাজের এক বহর নিয়ে বেরিয়ে পড়েন পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল থেকে সোজা পশ্চিমে,সাত বছর পর তিনি ফিরে আসেন,চারশো জাহাজের মধ্যে কেবল একটি নিয়ে,কিন্তু তাতে তিনি অনেক সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে এসেছিলেন।
কিন্তু এরাই আমেরিকার মাটি ছোয়া পুরানো দুনিয়ার প্রথম সভ্য মানুষ নন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়াতে পাওয়া চীনা সম্রাটের মুদ্রা,ফারাওয়ের মমিতে পাওয়া তামাক আর কোকোয়া এবং ওলেমাক সভ্যতা ও জিনোনি উপজাতির মানুষের দৈহিক গড়ন,এই তিনটি বিষয় আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দেয়,হাজার হাজার বছর আগে থেকেই মানুষ পুরানো পৃথিবী থেকে নতুন পৃথিবীতে আসা যাওয়া করছে।
খ্রিস্টান ইউরোপ বা মুসলিম মধ্যপ্রাচ্য থেকে নয়,মানুষের আমেরিকার টিকিট কাটা শুরু হয়েছিল জাপান,চীন বা আফ্রিকার কোন কালো মানুষের মাধ্যমেই।
অথবা,শুরুটা পলিনেশিয়ান নাবিকদের দিয়েও হতে পারে,প্যাটাগোনিয়ার মালভুমিতে একবার দুটো মুরগির শুকনো হাড় পাওয়া যায়,কার্বন টেস্ট করে পাওয়া গেছিল,মুরগি দুটো সেখানে এসেছে অন্তত তিন হাজার বছর আগে,এবং সেগুলো পলিনেশিয়ান বনমুরগি।
আমেরিকা আবিষ্কারের পেটেন্ট তাই ইউরোপিয়ান এক্সপ্লোরার বা ইসলামিক মুবাল্লিগ কারোরই প্রাপ্য নয়,সেটা বরং পেতে পারেন কোন আফ্রিকান বা পলিনেশিয়ান নাবিক বা চাইনিজ অভিযাত্রী।
কিন্তু তাদের দুটো ঘাটতি ছিল।
এক নম্বর ঘাটতি ছিল,তারা ঐ জায়গাগুলোকে কলোনাইজ করতে পারেন নি।
দুই নম্বর ঘাটতি হল,তারা কখনোই আসা যাওয়ার রাস্তাকে নেভিগেশন চার্টে নিয়ে আসতে পারেন নি।খাসখাস ইবনে সাইদের চার্ট নাকি ছিল,কিন্তু হালাকু খানের হাতে বাগদাদের বাইতুল হিকমাহ ধ্বংসের সাথে সাথে সেটাও হারিয়ে গেছে।
তাই, ১৪৯২ সালে কলম্বাস যখন আমেরিকা আবিষ্কার করেন,তখন একটা নতুন যুগের শুরু হয়।তিনি শুধু গিয়ে ফিরে আসেন নি,আসা যাওয়ার পুরো পথ নেভিগেশন করে খুলে দিয়েছেন অজানাকে জানার স্থায়ী পথ।
সেই সাথে তিনি জন্ম দিয়েছেন দুটো
শব্দের,কলোনাইজেশান আর গ্লোবালাইজেশান।
ভু-গোলকটা কিভাবে ইউরোপের হাতের মুঠোয় ঢুকলো,সেই গল্পের শুরুটা এখানেই।

 

উৎস ঃ এখানে ক্লিক করুন ...

Monday, August 7, 2017

এইজ অফ ইউরোপিয়ান ডিসকভারি



#১৮২৪
মিশরের ফারাও দ্বিতীয় রামসিসের কফিন যেদিন প্রথম খোলা হয়,সেদিন তার মমির ভেতর দুটো অদ্ভুত জিনিস পাওয়া যায়।এই দুটো জিনিসের সেখানে থাকার কথা ছিল না।
জিনিস দুটো হল তামাক আর কোকোয়া।
আজ থেকে সাড়ে পাচশো বছর আগে ইউরেশিয়া বা আফ্রিকার কোথাও এই দুটো জিনিস ছিল না।তাহলে এই দুটো জিনিস সাড়ে তেত্রিশ শো বছর আগে মিশরে গেল কিভাবে??
¥ ¥ ¥
সাড়ে তিন হাজার বছর পুরানো এক সভ্যতা ছিল মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অংশে।নাম ওলেমাক।
এই সভ্যতার বাসিন্দাদের নাক অদ্ভুত রকম থ্যাবড়া,দাতের সামনের পাটি উচু,কপালটাও উচু থেকে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে গেছে,অনেকটাই আফ্রিকানদের মত।
কিন্তু সাড়ে তিন হাজার বছর আগে কোন আফ্রিকান লোক সেখানে গেছে বলে জানা যায় নাই।অন্তত লিখিত কোন প্রমান নাই।
মেক্সিকোতে জিনোনি নামে একটা ট্রাইব আছে।এদের জেনেটিক প্রোফাইল টেস্ট করে পিউর জাপানিজ বেশ কিছু জিন পাওয়া গেছে।জিনোনিরা মেক্সিকান অন্যান্য ট্রাইব থেকে সম্পুর্ন আলাদা,তাদের চাল চলন ও আচার আচরনই শুধু নয়,আকার আকৃতিতেও।
¥ ¥ ¥
১৮৮২ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণ পশ্চিমে একটা খাল খননের সময় শ্রমিকেরা ২৫টি মুদ্রার সন্ধান পায়,মুদ্রার গায়ে লেখা হিজিবিজি ভাষা পড়ার ক্ষমতা তাদের ছিল না।
একটু একটু করে সেই খবর পোছাল খনন কারীদের সাথে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক
ের কাছে।
তিন বছর পর জানা গেল এগুলো চীনা রাজবংশ শাঙ ডাইন্যাস্টির সম্রাট হুঙেটির মুদ্রা।
সম্রাট হুঙেটির রাজত্বকাল ছিল কবে শুনলে আশ্চর্য হতে হয়।
খ্রিস্টপুর্ব ২৬০০অব্দে,আইমিন আজ থেকে ৪৬০০ বছর আগে,যখন গিজাতে ফারাও খুফু পিরামিড বানাচ্ছিলেন,তখনকার কথা।
¥ ¥ ¥
মানুষ কখনই এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকার মত সুশীল প্রাণী ছিল না।
পৃথিবীর বুকে পা রাখার পর থেকেই সে ঘুরে বেড়িয়েছে এখান থেকে ওখানে,বারবার চিনতে চেয়েছে অজানাকে।
আফ্রিকা বা আরব উপদ্বীপের কাছাকাছি কোথাও থেকে মানুষের ওই যাত্রার শুরু বলে বিজ্ঞানীরা ধারনা করে থাকেন।
সভ্য হবার পর প্রত্যেক সভ্যতাই চেষ্টা করেছে নিজেদের সভ্যতার কথা পৃথিবীর অন্যান্য অংশে নিয়ে যেতে।
আমেরিকা আবিষ্কারের যে গল্প এখন আমাদের শোনানো হয় তা কোনভাবেই আমেরিকা অবিষ্কারের প্রথম গল্প না।সেই গল্পটা বড়জোর প্রথমবারের মত আমেরিকাকে কলোনী বানানোর গল্প।
তার আগে বহুবার দুঃসাহসী মানুষেরা আমেরিকায় গেছেন।
নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের এই রেসে সম্ভবত পাইওনিয়ার ছিল চাইনিজরা।
চাইনিজরা এখন পর্যন্ত দাবি করছে মিং ডাইন্যাস্টির অ্যাডমিরাল ঝেং হোর কথা,কিন্তু ঝেং হো আমেরিকাতে পৌছেছেন তার কোন প্রমান সরাসরি দেয়া সম্ভব হয় নাই।
ঝেং হো একজন মুসলিম ছিলেন।
তার আগেও মুসলিমরা বারবার চেষ্টা করেছে অসীম আটলান্টিক পাড়ি দিতে।এদের মধ্যে একজনের নাম ইতিহাসে পাওয়া যায়,নাম খাসখাস ইবনে সাইদ ইবনে আসওয়াদ,তার সম্পর্কে আল মাসউদী নবম শতাব্দীতে লিখেছেন তিনি আটলান্টিক পেরিয়ে ওপারে গিয়েছিলেন এবং তারপর,সেই দেশ থেকে জাহাজ বোঝাই করে প্রচুর ধনসম্পদ নিয়ে এসেছিলেন।আল মাসউদী এই কথা লিখেছেন ৮৮৯ সালে,তার বই মুরুয আদ দ্বোয়াহাব ওয়াল মাদিন আল জাওহারে,কর্দোবার খলিফা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদের আমলে।
এই দুজনের মাঝখানে চাপা পড়ে গেছে পৃথিবীর সবচাইতে বড় অ্যাডভেন্ঞারার সম্রাঠের কথা।
মালি সাম্রাজ্যের নাম যারা শুনেছেন তারা অবশ্যই জানেন ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীতে পৃথিবীর সবচাইতে সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য ছিল মালি সাম্রাজ্য।পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে সম্পদশালী ব্যক্তি বলা হয় এই সাম্রাজ্যের সম্রাট মানসা মুসাকে।
মানসা মুসার চাচা দ্বিতীয় আবুবকর এতই অ্যাডভেন্ঞার প্রিয় ছিলেন যে তিনি একবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি আটলান্টিক মহাসাগর কোথায় শেষ তা দেখে ছাড়বেন।
এই সিদ্ধান্ত ঠিক রাখতে গিয়ে তিনি নিজের সিংহাসন ছেড়ে চারশো জাহাজের এক বহর নিয়ে বেরিয়ে পড়েন পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল থেকে সোজা পশ্চিমে,সাত বছর পর তিনি ফিরে আসেন,চারশো জাহাজের মধ্যে কেবল একটি নিয়ে,কিন্তু তাতে তিনি অনেক সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে এসেছিলেন।
কিন্তু এরাই আমেরিকার মাটি ছোয়া পুরানো দুনিয়ার প্রথম সভ্য মানুষ নন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়াতে পাওয়া চীনা সম্রাটের মুদ্রা,ফারাওয়ের মমিতে পাওয়া তামাক আর কোকোয়া এবং ওলেমাক সভ্যতা ও জিনোনি উপজাতির মানুষের দৈহিক গড়ন,এই তিনটি বিষয় আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দেয়,হাজার হাজার বছর আগে থেকেই মানুষ পুরানো পৃথিবী থেকে নতুন পৃথিবীতে আসা যাওয়া করছে।
খ্রিস্টান ইউরোপ বা মুসলিম মধ্যপ্রাচ্য থেকে নয়,মানুষের আমেরিকার টিকিট কাটা শুরু হয়েছিল জাপান,চীন বা আফ্রিকার কোন কালো মানুষের মাধ্যমেই।
অথবা,শুরুটা পলিনেশিয়ান নাবিকদের দিয়েও হতে পারে,প্যাটাগোনিয়ার মালভুমিতে একবার দুটো মুরগির শুকনো হাড় পাওয়া যায়,কার্বন টেস্ট করে পাওয়া গেছিল,মুরগি দুটো সেখানে এসেছে অন্তত তিন হাজার বছর আগে,এবং সেগুলো পলিনেশিয়ান বনমুরগি।
আমেরিকা আবিষ্কারের পেটেন্ট তাই ইউরোপিয়ান এক্সপ্লোরার বা ইসলামিক মুবাল্লিগ কারোরই প্রাপ্য নয়,সেটা বরং পেতে পারেন কোন আফ্রিকান বা পলিনেশিয়ান নাবিক বা চাইনিজ অভিযাত্রী।
কিন্তু তাদের দুটো ঘাটতি ছিল।
এক নম্বর ঘাটতি ছিল,তারা ঐ জায়গাগুলোকে কলোনাইজ করতে পারেন নি।
দুই নম্বর ঘাটতি হল,তারা কখনোই আসা যাওয়ার রাস্তাকে নেভিগেশন চার্টে নিয়ে আসতে পারেন নি।খাসখাস ইবনে সাইদের চার্ট নাকি ছিল,কিন্তু হালাকু খানের হাতে বাগদাদের বাইতুল হিকমাহ ধ্বংসের সাথে সাথে সেটাও হারিয়ে গেছে।
তাই, ১৪৯২ সালে কলম্বাস যখন আমেরিকা আবিষ্কার করেন,তখন একটা নতুন যুগের শুরু হয়।তিনি শুধু গিয়ে ফিরে আসেন নি,আসা যাওয়ার পুরো পথ নেভিগেশন করে খুলে দিয়েছেন অজানাকে জানার স্থায়ী পথ।
সেই সাথে তিনি জন্ম দিয়েছেন দুটো
শব্দের,কলোনাইজেশান আর গ্লোবালাইজেশান।
ভু-গোলকটা কিভাবে ইউরোপের হাতের মুঠোয় ঢুকলো,সেই গল্পের শুরুটা এখানেই।

উৎস ঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/smahmud8810/30195508