অমলেন্দু চক্রবর্তীর গল্প ইছামতী বহমান
সন্ধ্যা নাগাদ অলৌকিক সেই বাড়ির দরজায় এসে থমকে দাঁড়াল ওরা। লঞ্চ থেকে নামার পর দেখতে দেখতে চোখের ওপর চারদিকের গাছপালা, ঘরবাড়ি, আকাশ আর ইছামতী নদী অন্ধকার হয়ে এল। ছোট বড় সরু লম্বা ঝাকড়া কত রকমের গাছ-প্রায় কোনোটাই ভালো করে চেনেনা মৃন্ময়ী। মাটির-ঘর, ধানের মরাই, খড়ের পালুই, ডুলি-পালকি পাখির ডাক-দুপাশে যা-কিছু চোখে পড়েছে সবই ধূসর স্বপ্নের ছবি। কিন্তু উৎসাহিত হবার মতো অনুভব ছিল না কোথাও। অদ্ভুত একটা ভয় বুকের পাথরে। ভয়টা টানছে ভেতর থেকে। দম বন্ধ হয়ে আসে। পুরো একটা রাত বাকি। আজ রাতেই কিছু-একটা হবে। একটা ভয়ঙ্কর কিছু। দুর্বৃত্বের শক্ত পাঞ্জায় কণ্ঠনালী চেপে-থাকা ভয়টাই বাইরে অন্ধকার এখন। দুর্বৃত্ব এ-রাত। এমন ঘনঘোর কালো রাত্রি ইতিপূর্বে সে দেখেনি কোনােদিন। একেই কি অমাবস্যা বলে?
